আরো পড়ুন- ফ্ল্যাটে প্রচুর রক্ত, পুলিশের আশঙ্কা বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে — লাশ আর পাওয়া যাবে না
নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকা থেকে লিমনের খণ্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। হিশামকে গ্রেপ্তারের সময় এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল যেখানে পুলিশ তাঁর বাড়িতে সোয়াট টিম পাঠাতে বাধ্য হয় এবং দীর্ঘ সময় পর তিনি আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ জানিয়েছে হিশামের অপরাধমূলক অতীত রয়েছে যার মধ্যে শারীরিক আঘাত ও পারিবারিক সহিংসতার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুর সংবাদ গোপন করা, আলামত নষ্ট করা এবং মৃতদেহ অবৈধভাবে সরানোর মতো প্রাথমিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হওয়া আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পুলিশ বৃষ্টির ফোন ক্যাম্পাসে শনাক্ত করলেও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। লিমনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
পোস্টে তিনি লেখেন, গত ৯ দিন কী গেছে বলতে পারবো না। বৃষ্টি ছিল আমেরিকায় আসার পর প্রথম বন্ধু। এডমিশন হওয়ার পর বাংলাদেশ থেকেই প্রতিদিন কথা হতো। ট্যাম্পায় আসার পর কাউকে চিনতাম না, সারাদিন ঘুরে বেড়াতাম বৃষ্টি আর নিশাতের সঙ্গে। ফোন ভর্তি বৃষ্টির ছবি। ফেসবুকে ঢুকলেও টুকরা করার সংবাদ। জামিলের সঙ্গে অল্প কথা হলেও খুব ইনোসেন্ট একটা ছেলে। কী অসম্ভব চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি বোঝানো যাবে না।
নাহিদা বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তার পৈতৃক বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। গত ১৬ এপ্রিল থেকে সহপাঠী জামিল লিমনসহ তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে লিমনের মরদেহ উদ্ধার হলেও বৃষ্টির লাশ এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশ আশঙ্কা করছে, হত্যার পর তার মরদেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং তা উদ্ধার করা কার্যত অসম্ভব হতে পারে।
নিহতের ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত এবং নোবিপ্রবির অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফতেহ নুর রোবেল বৃষ্টির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর ঘটনায় নতুন ও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর এবার পুলিশ ধারণা করছে, নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) হত্যা করা হয়েছে এবং তার মরদেহ হয়তো কখনোই উদ্ধার করা সম্ভব হবে না।
নাহিদার বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত জানিয়েছেন, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশ পরিবারকে জানিয়েছে, অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়া ও লিমনের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে প্রচুর পরিমাণ রক্তের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই রক্তের পরিমাণের ভিত্তিতেই তদন্তকারীরা ধারণা করছেন নাহিদা আর বেঁচে নেই। পুলিশ আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে হত্যার পর তার মরদেহ ছিন্নভিন্ন করা হয়েছে, ফলে তা উদ্ধার করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।
শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযান চলাকালে আট ঘণ্টা সেতুতে যান চলাচল সীমিত থাকে। দুপুর ২টার দিকে মরদেহটি আনুষ্ঠানিকভাবে লিমনের বলে নিশ্চিত করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে হিশামের বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের দল। হিশাম ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে আত্মসমর্পণে অস্বীকার করলে সোয়াট টিম তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিট পর সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
হিশামের বিরুদ্ধে ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে — পারিবারিক সহিংসতা, সাধারণ প্রহার, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা, তথ্যপ্রমাণ নষ্টের চেষ্টা, মৃত্যুসংবাদ পুলিশকে না জানানো এবং বেআইনিভাবে মরদেহ সরানো।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইউএসএফে পড়লেও বর্তমানে তিনি শিক্ষার্থী নন। তিনি ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। নাহিদার ভাই জানিয়েছেন, লিমন ও নাহিদার মধ্যে অতীতে সম্পর্ক থাকলেও তা ভেঙে গিয়েছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশ কিছু পাম্প তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ রাখা হয়েছে। শুক্রবার সরকারি ছুটির কারণে ডিপো থেকে নতুন সরবরাহ আসেনি, আগের মজুদ দিয়েই বেলা ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত তেল বিক্রি চলেছে। তবে পাম্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাইনের দৈর্ঘ্য ও যানবাহনের চাপ আগের চেয়ে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।
আরো পড়ুন- ভিড় এড়িয়ে দ্রুত তেল পাবেন যেভাবে: ৬টি কার্যকরী টিপস
তালুকদার ফিলিং স্টেশনের হিসাবরক্ষক বিমল কৃষ্ণ মৃধা জানান, ফুয়েল পাসের কারণে গ্রাহকরা এখন একবারে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার তেল নিতে পারছেন, যা দিয়ে দুই থেকে তিন দিন চলে যাচ্ছে। ফলে বারবার পাম্পে আসার প্রয়োজন পড়ছে না। শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারে তেল নিতে আসা বুয়েটের শিক্ষার্থী শামীম জানান, আগে ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে, এবার মাত্র ১ ঘণ্টায় তেল পেয়েছেন।
তবে এ ব্যবস্থায় অসন্তোষও রয়েছে। ফুয়েল পাস না থাকলে নির্দিষ্ট সীমার বেশি তেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে জরুরি প্রয়োজনেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন কিছু গ্রাহক।
পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, ব্যাংক ও ডিপো খোলার পর নতুন সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে।
বিশ্বের ১০টি বৃহত্তম কন্টেইনার শিপিং কোম্পানির অন্তত ৪৩টি জাহাজ এখনো পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে। শিপিং শিল্প বিষয়ক সাময়িকী লয়েডস লিস্ট তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। আল জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রধান শিপিং কোম্পানিগুলো এ অঞ্চলে তাদের পরিষেবা স্থগিত রেখেছে। এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব ঘটছে এবং পরিবহন খরচ ক্রমাগত বাড়ছে।
লয়েডস লিস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিএমএ সিজিএম, কসকো ও হ্যাপাগ-লয়েডের কিছু জাহাজ নিরাপদে সরে আসতে সক্ষম হলেও পরিস্থিতি সবার জন্য এক নয়। এমএসসির মালিকানাধীন দুটি জাহাজ ইরানি কর্তৃপক্ষ জব্দ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারস্য উপসাগরে এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন করে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
রিয়াল বেতিসের প্লেয়ার
লা লিগার শিরোপার ক্ষীণ আশা নিয়ে মাঠে নেমে আরও পিছিয়ে পড়ল রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মূল্যবান দুটি পয়েন্ট হারিয়েছে লস ব্লাঙ্কোস। পাঁচ ম্যাচ বাকি থাকতে এখন তারা শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ৮ পয়েন্ট পিছিয়ে। শনিবার গেতাফেকে হারালে বার্সা সেই ব্যবধান ১১ পয়েন্টে নিয়ে যেতে পারবে, যা হলে রিয়ালের শিরোপা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
ম্যাচের ১৭তম মিনিটে এগিয়ে যায় রিয়াল। বক্সের বাইরে থেকে ফেডেরিকো ভালভারদের শট ঠেকাতে ব্যর্থ হন বেতিস গোলরক্ষক আলভারো ভ্যালেস এবং রিবাউন্ডে কাছ থেকে জাল খুঁজে নেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
এরপর ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি রিয়াল। কিলিয়ান এমবাপ্পের একটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়, আরেকটি প্রচেষ্টায় বল উড়িয়ে মারেন তিনি। ভিনিসিয়ুস ও জুড বেলিংহামও সুযোগ নষ্ট করেন।
ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে বেতিস। গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন একাধিক দুর্দান্ত সেভে রিয়ালকে বাঁচিয়ে রাখেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। যোগ করা সময়ের ৯০+৪ মিনিটে ফারল্যান্ড মেন্ডির ভুলে বল হারিয়ে বসে রিয়াল। সেই সুযোগ লুফে নেন সাবেক আর্সেনাল তারকা হেক্টর বেলেরিন, নিচু শটে জাল খুঁজে নিয়ে সমতা ফেরান।
গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১২০ মিটার আরসিসি সড়কে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে। সড়কটি এখনো চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি, তবুও বিভিন্ন স্থানে ফাটল দৃশ্যমান হওয়ায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। সামাজিক মাধ্যমে ফাটলের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাটলের স্থানে নীল রং দিয়ে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শ্রীপুর পৌরসভার চৌরাস্তা থেকে বরমী অভিমুখী সড়কটির কাজ পেয়েছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিয়ান এন্টারপ্রাইজ। সম্প্রতি ঢালাইয়ের কাজ শেষ করে ঝুট ও কাপড় দিয়ে সড়ক ভিজিয়ে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও সহকারী প্রকৌশলীর যোগসাজশেই এই দুর্নীতি হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ফজলুল হক বলেন, চলাচলের আগেই যদি এমন ফাটল দেখা যায় তাহলে বুঝতে হবে কাজের মান ঠিক ছিল না। আরেক ব্যবসায়ী সাদেক মিয়া বলেন, যথাযথ তদারকির অভাবেই এমন ত্রুটি দেখা দিয়েছে এবং এই সড়ক অল্প সময়েই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক এমদাদুল হকের মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে, পরে জানা গেছে তিনি হজ পালনে সৌদি আরবে রয়েছেন। সহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রচণ্ড রোদের কারণে ফাটল হয়েছে এবং মেরামতের কাজ চলছে। পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী শাহেদ আকতারও একই কথা বলেন এবং প্রয়োজনে পুনরায় ট্রিটমেন্ট করার আশ্বাস দেন।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঁইয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং রোববার বা সোমবার তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।