এই সেবা গ্রহণকারীদের লিঙ্গভিত্তিক তথ্যে দেখা যায় যে উপকারভোগীদের মধ্যে পুরুষ ছিলেন ৭ লাখ ৪ হাজার ৮৬৫ জন এবং নারী ছিলেন ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩৩৪ জন। পাশাপাশি ৭৫ হাজার ৪৬৩ জন শিশু এবং ৭৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিও সরকারের এই সহায়তায় ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছেন। ক্ষতিপূরণের আর্থিক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে শুধুমাত্র জেলা পর্যায়ের কার্যালয়গুলোর মাধ্যমেই মোট ৩১৪ কোটি ৯৮ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৯ টাকা আদায় করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানী ও বন্দর নগরীর শ্রমিক সহায়তা সেলগুলোর মধ্যস্থতায় আরও ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৯১৬ টাকা ভুক্তভোগী শ্রমিকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবার সারা দেশে ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূল মন্ত্রকে সামনে রেখে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২৬ পালিত হতে যাচ্ছে। এই উপলক্ষ্যে ঢাকার আবু সাঈদ কনভেনশন হলে একটি বিশেষ লিগ্যাল এইড মেলার আয়োজন করা হয়েছে যার শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সারা দেশের জেলাগুলোতেও এই দিনটি ঘিরে র্যালি, আলোচনা সভা, পথ প্রচার ও বিশেষ স্যুভেনিয়ার প্রকাশের মতো নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটিও সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে যেখানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। মূলত ২০০০ সালে এই আইনটি প্রণীত হলেও ২০০৯ সাল থেকে এর মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে গতিশীল হয় এবং অতি সম্প্রতি একে একটি পূর্ণাঙ্গ অধিদপ্তরে রূপ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বেইলি রোডে অবস্থিত প্রধান কার্যালয় ও সারা দেশের ৬৪টি জেলা অফিসের মাধ্যমে পরিচালিত এই বিনামূল্যে আইনি সেবা পেতে যেকোনো নাগরিককে ‘১৬৪৩০’ হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই তিন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাইনউদ্দিন খান। তিনি জানান যে, গত সোমবার বিকেলে সাত মাস বয়সী এক ছেলেশিশু মারা যায় যাকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গত ২২ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
ডা. মাইনউদ্দিন আরও তথ্য দেন যে, জামালপুরের মাদারগঞ্জ এলাকা থেকে আসা মাত্র চার মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান গত ২৩ এপ্রিল ভর্তি হওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। একই সাথে নেত্রকোনার দুর্গাপুর থেকে আসা পাঁচ মাস বয়সী অপর এক ছেলেশিশু গত ২০ এপ্রিল হামের সন্দেহ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও সোমবার দিবাগত রাতে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, মৃত এই তিন শিশু হামের লক্ষণের পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা ও রোগেও ভুগছিল।
হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত একদিনেই হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে আরও ৩২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে সব মিলিয়ে মোট ৭৪ জন শিশু চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করছে।
তদন্ত ও গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাব জানায়, গত শুক্রবার ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে বাসে চড়ে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। রাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনি শেষবারের মতো পরিবারের সদস্যদের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেন এবং জানান যে তিনি কুমিল্লার টমছমব্রিজ এলাকায় পৌঁছেছেন। বাস থেকে নামার পর বাকি পথটুকু যাওয়ার জন্য তিনি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই অটোরিকশাটি ছিল মূলত একটি পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের সাজানো ফাঁদ। ওই বাহনে থাকা চালকসহ চারজনই ছিল মূলত দুর্ধর্ষ অপরাধী এবং তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই রেলওয়ে ডাকাতির মামলা ছিল।
ছিনতাইকারীরা বুলেটকে অটোরিকশায় তুলে কোনো এক নির্জন এলাকার দিকে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত শুরু করে। সে সময় বুলেট কিছুটা তন্দ্রাচ্ছন্ন বা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকলেও ছিনতাইকারীরা যখন তাঁর সাথে থাকা ব্যাগ ও মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তখন তিনি বাধা দেন। ছিনতাইকারীদের সাথে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চক্রটি তাঁকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার আইরিশ হিল হোটেলের পাশের ফুটপাতে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। রাস্তার শক্ত ফুটপাতে পড়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পাওয়ায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরদিন শনিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার পাশে তাঁর রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে হাইওয়ে পুলিশকে অবহিত করে। পরবর্তীতে র্যাব-১১-এর একটি বিশেষ দল এই হত্যাকাণ্ডের ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে ঘাতক চক্রের ৫ জনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত ব্যাগটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত বুলেট বৈরাগী ছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর একমাত্র সন্তান। তিনি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন এবং কুমিল্লার রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় সপরিবারে বসবাস করতেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক তথ্য—আজ সোমবার ছিল বুলেটের একমাত্র সন্তান অব্যয় বৈরাগীর প্রথম জন্মদিন। দিনটি আনন্দময় পরিবেশে উদযাপনের কথা থাকলেও তার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন এই মেধাবী কর্মকর্তা। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহাসিক উলশী খাল পুনর্খনন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বলেন।
তারেক রহমান তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, দেশের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় এখন তাদের জন্য এলপিজি কার্ড প্রবর্তন করা হবে।
দেশের অন্নদাতা কৃষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকরাই আমাদের জাতীয় অহংকার, আর তাই তাদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে সরকার ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।
গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা তথা ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সাথে অঙ্গীকার করেন যে, এই সনদের প্রতিটি শব্দ এবং প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সরকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে।
এর আগে আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং সেখান থেকে তিনি সরাসরি শার্শা উপজেলায় গিয়ে উলশী খাল পুনর্খনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন।
পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, শার্শার কর্মসূচি শেষে তিনি যশোর সার্কিট হাউসে স্বল্প বিরতি নেবেন এবং বিকেলে বহুল প্রতীক্ষিত যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এরপর তিনি যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন।
দিনের সকল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যায় তিনি যশোর বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন এবং রাতেই তাঁর রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
যদিও মূল টিকিটের দাম সাধারণত ফিফার নিয়ন্ত্রণে থাকে তবে পুনবিক্রয় বা রিসেল বাজারে বিক্রেতারা নিজেদের মর্জিমতো দাম নির্ধারণের সুযোগ পান। আর এই বিপুল অঙ্কের লেনদেন থেকে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাও বড় অংকের কমিশন পকেটে পুরবে কারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি টিকিট বিক্রি থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষ থেকে ১৫ শতাংশ করে মোট ৩০ শতাংশ ফি কেটে নেওয়া হয়। সেই হিসেব অনুযায়ী শুধুমাত্র এই চারটি টিকিট সফলভাবে বিক্রি হলেই ফিফার কমিশন বাবদ আয় হবে প্রায় ২৬ লাখ ৯৯ হাজার ডলার বা ৩৩ কোটি টাকারও বেশি। তবে যারা সরাসরি অফিশিয়াল দামে টিকিট কেনার অপেক্ষায় আছেন তাদের জন্যও খুব একটা আশার আলো নেই কারণ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবার টিকিটের দাম অন্তত চার গুণ বেশি বাড়ানো হয়েছে। ফাইনাল ম্যাচের জন্য সবচেয়ে কম দামি টিকিটের মূল্যই ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৯২৩ ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৩ লাখ টাকার কাছাকাছি। একইভাবে সেমিফাইনাল ম্যাচগুলোর টিকিটের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যেখানে টেক্সাসের আর্লিংটনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেমিফাইনালের টিকিট ১১ হাজার ১৩০ ডলার এবং আটলান্টার সেমিফাইনালের টিকিট ৪ হাজার ৩৬০ থেকে ৯ হাজার ৬৬০ ডলারের মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। উল্লেখ্য যে আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে বৈঠক শেষে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চললেও দ্বিতীয় দফার সরাসরি আলোচনা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। ইসলামাবাদে অবস্থানকালে আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন যারা এই মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার শনিবারই পাকিস্তান সফরে আসছেন বলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ইরান জানিয়ে দিয়েছে যে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বসার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই বরং পাকিস্তান কেবল প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এই সফরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স না থাকলেও প্রয়োজন হলে তিনি প্রস্তুত আছেন বলে জানানো হয়েছে।