যদিও মূল টিকিটের দাম সাধারণত ফিফার নিয়ন্ত্রণে থাকে তবে পুনবিক্রয় বা রিসেল বাজারে বিক্রেতারা নিজেদের মর্জিমতো দাম নির্ধারণের সুযোগ পান। আর এই বিপুল অঙ্কের লেনদেন থেকে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাও বড় অংকের কমিশন পকেটে পুরবে কারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি টিকিট বিক্রি থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষ থেকে ১৫ শতাংশ করে মোট ৩০ শতাংশ ফি কেটে নেওয়া হয়। সেই হিসেব অনুযায়ী শুধুমাত্র এই চারটি টিকিট সফলভাবে বিক্রি হলেই ফিফার কমিশন বাবদ আয় হবে প্রায় ২৬ লাখ ৯৯ হাজার ডলার বা ৩৩ কোটি টাকারও বেশি। তবে যারা সরাসরি অফিশিয়াল দামে টিকিট কেনার অপেক্ষায় আছেন তাদের জন্যও খুব একটা আশার আলো নেই কারণ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবার টিকিটের দাম অন্তত চার গুণ বেশি বাড়ানো হয়েছে। ফাইনাল ম্যাচের জন্য সবচেয়ে কম দামি টিকিটের মূল্যই ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৯২৩ ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৩ লাখ টাকার কাছাকাছি। একইভাবে সেমিফাইনাল ম্যাচগুলোর টিকিটের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যেখানে টেক্সাসের আর্লিংটনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেমিফাইনালের টিকিট ১১ হাজার ১৩০ ডলার এবং আটলান্টার সেমিফাইনালের টিকিট ৪ হাজার ৩৬০ থেকে ৯ হাজার ৬৬০ ডলারের মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। উল্লেখ্য যে আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে বৈঠক শেষে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চললেও দ্বিতীয় দফার সরাসরি আলোচনা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। ইসলামাবাদে অবস্থানকালে আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন যারা এই মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার শনিবারই পাকিস্তান সফরে আসছেন বলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ইরান জানিয়ে দিয়েছে যে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বসার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই বরং পাকিস্তান কেবল প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এই সফরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স না থাকলেও প্রয়োজন হলে তিনি প্রস্তুত আছেন বলে জানানো হয়েছে।
আরো পড়ুন- ফ্ল্যাটে প্রচুর রক্ত, পুলিশের আশঙ্কা বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে — লাশ আর পাওয়া যাবে না
নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকা থেকে লিমনের খণ্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। হিশামকে গ্রেপ্তারের সময় এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল যেখানে পুলিশ তাঁর বাড়িতে সোয়াট টিম পাঠাতে বাধ্য হয় এবং দীর্ঘ সময় পর তিনি আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ জানিয়েছে হিশামের অপরাধমূলক অতীত রয়েছে যার মধ্যে শারীরিক আঘাত ও পারিবারিক সহিংসতার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুর সংবাদ গোপন করা, আলামত নষ্ট করা এবং মৃতদেহ অবৈধভাবে সরানোর মতো প্রাথমিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ হওয়া আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পুলিশ বৃষ্টির ফোন ক্যাম্পাসে শনাক্ত করলেও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। লিমনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে স্থানীয় প্রশাসন।
পোস্টে তিনি লেখেন, গত ৯ দিন কী গেছে বলতে পারবো না। বৃষ্টি ছিল আমেরিকায় আসার পর প্রথম বন্ধু। এডমিশন হওয়ার পর বাংলাদেশ থেকেই প্রতিদিন কথা হতো। ট্যাম্পায় আসার পর কাউকে চিনতাম না, সারাদিন ঘুরে বেড়াতাম বৃষ্টি আর নিশাতের সঙ্গে। ফোন ভর্তি বৃষ্টির ছবি। ফেসবুকে ঢুকলেও টুকরা করার সংবাদ। জামিলের সঙ্গে অল্প কথা হলেও খুব ইনোসেন্ট একটা ছেলে। কী অসম্ভব চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি বোঝানো যাবে না।
নাহিদা বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তার পৈতৃক বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। গত ১৬ এপ্রিল থেকে সহপাঠী জামিল লিমনসহ তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে লিমনের মরদেহ উদ্ধার হলেও বৃষ্টির লাশ এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশ আশঙ্কা করছে, হত্যার পর তার মরদেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং তা উদ্ধার করা কার্যত অসম্ভব হতে পারে।
নিহতের ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত এবং নোবিপ্রবির অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফতেহ নুর রোবেল বৃষ্টির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর ঘটনায় নতুন ও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর এবার পুলিশ ধারণা করছে, নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) হত্যা করা হয়েছে এবং তার মরদেহ হয়তো কখনোই উদ্ধার করা সম্ভব হবে না।
নাহিদার বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত জানিয়েছেন, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশ পরিবারকে জানিয়েছে, অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়া ও লিমনের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে প্রচুর পরিমাণ রক্তের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই রক্তের পরিমাণের ভিত্তিতেই তদন্তকারীরা ধারণা করছেন নাহিদা আর বেঁচে নেই। পুলিশ আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে হত্যার পর তার মরদেহ ছিন্নভিন্ন করা হয়েছে, ফলে তা উদ্ধার করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।
শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযান চলাকালে আট ঘণ্টা সেতুতে যান চলাচল সীমিত থাকে। দুপুর ২টার দিকে মরদেহটি আনুষ্ঠানিকভাবে লিমনের বলে নিশ্চিত করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে হিশামের বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের দল। হিশাম ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে আত্মসমর্পণে অস্বীকার করলে সোয়াট টিম তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিট পর সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
হিশামের বিরুদ্ধে ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে — পারিবারিক সহিংসতা, সাধারণ প্রহার, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা, তথ্যপ্রমাণ নষ্টের চেষ্টা, মৃত্যুসংবাদ পুলিশকে না জানানো এবং বেআইনিভাবে মরদেহ সরানো।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইউএসএফে পড়লেও বর্তমানে তিনি শিক্ষার্থী নন। তিনি ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। নাহিদার ভাই জানিয়েছেন, লিমন ও নাহিদার মধ্যে অতীতে সম্পর্ক থাকলেও তা ভেঙে গিয়েছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশ কিছু পাম্প তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ রাখা হয়েছে। শুক্রবার সরকারি ছুটির কারণে ডিপো থেকে নতুন সরবরাহ আসেনি, আগের মজুদ দিয়েই বেলা ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত তেল বিক্রি চলেছে। তবে পাম্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাইনের দৈর্ঘ্য ও যানবাহনের চাপ আগের চেয়ে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।
আরো পড়ুন- ভিড় এড়িয়ে দ্রুত তেল পাবেন যেভাবে: ৬টি কার্যকরী টিপস
তালুকদার ফিলিং স্টেশনের হিসাবরক্ষক বিমল কৃষ্ণ মৃধা জানান, ফুয়েল পাসের কারণে গ্রাহকরা এখন একবারে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার তেল নিতে পারছেন, যা দিয়ে দুই থেকে তিন দিন চলে যাচ্ছে। ফলে বারবার পাম্পে আসার প্রয়োজন পড়ছে না। শাহবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারে তেল নিতে আসা বুয়েটের শিক্ষার্থী শামীম জানান, আগে ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে, এবার মাত্র ১ ঘণ্টায় তেল পেয়েছেন।
তবে এ ব্যবস্থায় অসন্তোষও রয়েছে। ফুয়েল পাস না থাকলে নির্দিষ্ট সীমার বেশি তেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে জরুরি প্রয়োজনেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন কিছু গ্রাহক।
পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, ব্যাংক ও ডিপো খোলার পর নতুন সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে।