দেশে করোনা মহামারি মোকাবিলায় ভ্যাকসিন কেনা বাবদ এ পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের দশম দিনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে করোনা ভ্যাকসিন এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদি আমদানির জন্য সরকার মোট ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ২৯৭ টাকা বরাদ্দ করেছিল। এই বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ থেকে সিংহভাগ অর্থই ব্যয় হয়েছে সরাসরি ভ্যাকসিন ক্রয়ের কাজে।
ভ্যাকসিন কার্যক্রমের আনুষঙ্গিক ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, টিকাদানে ব্যবহৃত সিরিঞ্জ কেনায় ৩০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া সারা দেশে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরিবহন খরচ বাবদ ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৩৫৪ টাকা এবং সিরিঞ্জ শিপিং ও চার্জ হিসেবে আরও ৯৯ লাখ ৭৮ হাজার ৯৮০ টাকা ব্যয় হয়েছে।
ভ্যাকসিন আমদানিতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না, সংসদ সদস্যের এমন প্রশ্নের জবাবে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে ভ্যাকসিন কেনা বা সংরক্ষণ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অনিয়মের তথ্য বা অভিযোগ আসেনি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার সকল কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। যদি ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়, তবে তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সময়োপযোগী এবং কার্যকর পদক্ষেপের কারণেই দেশ দ্রুত অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সক্ষম হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু মার্চ মাস শেষ হতেই সরকার ১ লাখ ১২ হাজার ৭১১ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেলেছে। অর্থবছর শেষ হতে আরও তিন মাস বাকি থাকতেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা বেশি ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী ৮ এপ্রিল নতুন করে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণের চাহিদা দিয়েছে সরকার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ধস নামাই ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ার প্রধান কারণ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বলছে, অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা পিছিয়ে আছে রাজস্ব আদায়। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক লিড ইকোনোমিস্ট জাহিদ হোসেন এই পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আয়ের পথ না বাড়িয়ে খরচ বাড়িয়ে চললে দুর্দশা বাড়ানো ছাড়া আর কিছু হবে না। একদিকে খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে জ্বালানি ও সারে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, কিন্তু রাজস্ব বাড়ছে না। ঋণের টাকা তো শেষ পর্যন্ত পরিশোধ করতেই হবে।” তিনি সতর্ক করেন যে, সরকার ব্যাংক থেকে সব টাকা তুলে নিলে বেসরকারি খাত বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন পাবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদ ওসমান ইমাম মনে করেন, বর্তমানে যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের চাহিদা নেই। ফলে ব্যাংকগুলো ঝুঁকি এড়াতে সরকারকে ঋণ দিতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। তিনি বলেন, “ব্যাংকগুলো নিরাপদ আয়ের জন্য সরকারকে টাকা দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এর ফলে সরকারের সুদ বাবদ ব্যয়ের বোঝা পাহাড়সম হয়ে উঠছে। এটি আর্থিক শৃঙ্খলাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলবে।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬ শতাংশের ঘরে, যা বিনিয়োগ পরিস্থিতির স্থবিরতাকেই নির্দেশ করে। অন্যদিকে, ব্যাংক ব্যবস্থার বাইরে নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়ছে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। জানুয়ারি মাসে ব্যাংক ব্যবস্থার বাইরে থাকা অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করেও সরকার যদি নিজের ঋণের লাগাম টেনে না ধরে, তবে বাজারে তারল্য সংকট এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। সামনের তিন মাসে সরকারের ঋণের চাহিদা আরও বাড়লে তা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভিতকে দুর্বল করে দিতে পারে।
গোয়েন্দা বনাম ট্রাম্প: তথ্যের বৈপরীত্য
ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর বৈধতা দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে, তেহরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে মার্কিন ‘ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি’ (ডিআইএ) তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট জানিয়েছিল, এমন প্রযুক্তি তৈরিতে ইরানের ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে। ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ডও কংগ্রেসে দাঁড়িয়ে স্বীকার করেছেন যে, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো গত বছর মার্কিন হামলার পর সিমেন্ট দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প গত ২ মার্চ এক অনুষ্ঠানে দাবি করেন, ইরান ‘আশু পারমাণবিক হুমকি’ এবং তারা শিগগিরই মার্কিন মাটিতে আঘাত হানবে।
হরমুজ প্রণালি ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়
যুদ্ধের শুরুতেই মার্কিন গোয়েন্দারা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে, আক্রান্ত হলে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে। পেন্টাগনের যুদ্ধ পরিকল্পনাতেও এই আশঙ্কার কথা উল্লেখ ছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব না দিয়ে ভেবেছিলেন সামরিক শক্তি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম রেকর্ড ছাড়িয়েছে। অথচ ট্রাম্প গত বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দাবি করেন, হরমুজ বন্ধ হওয়া এবং মিত্র দেশ সৌদি আরব বা আমিরাতে হামলা হওয়া ছিল ‘অপ্রত্যাশিত’, যা গোয়েন্দাদের দীর্ঘদিনের মূল্যায়নের সম্পূর্ণ বিপরীত।
প্রশাসনের ভেতরেই অসন্তোষ ও পদত্যাগ
ট্রাম্পের এই একগুঁয়েমির প্রতিবাদে ইতোমধ্যে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পদত্যাগ শুরু করেছেন। ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের প্রধান হিসেবে মনোনীত জো কেন্ট তার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই মুহূর্তে ইরান কোনো হুমকি ছিল না।” এমনকি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে, ইরানের এই আঞ্চলিক পাল্টা আঘাত মোটেও অপ্রত্যাশিত ছিল না।
ব্যর্থতার দায় কার?
বিশ্লেষণী পত্রিকা 'দ্য আটলান্টিক' ও 'পলিটিকো'র মতে, মার্কিন গোয়েন্দা ব্যবস্থা এবার তথ্য সরবরাহে সফল হলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ‘অন্তর্দৃষ্টি’ বা জেদ সব হিসেব পাল্টে দিয়েছে। সেনেটর জন ওসফ ও অ্যাঙ্গাস কিং গোয়েন্দা প্রধানদের জিজ্ঞাসাবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, গোয়েন্দাদের কাজ হলো তথ্য দেওয়া, কিন্তু প্রেসিডেন্ট যখন তা বিকৃত করেন, তখন সেই ব্যর্থতার দায়ভার একান্তই তার। ট্রাম্পের এই যুদ্ধ কেবল ইরানকে অস্থিতিশীল করেনি, বরং দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতি ও মার্কিন সামরিক মর্যাদাকে এক অনিশ্চিত চোরাবালির দিকে নিয়ে গেছে।
ডিবির একটি বিশেষ দল গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করলেও এখন পর্যন্ত ঠিক কোন মামলায় বা কী সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রেস রিলিজ দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে টানা তিন মেয়াদে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর তাকে পুনরায় স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। তিনি মূলত রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন।
গত জুলাই মাসে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের পর থেকেই তিনি ধানমন্ডির বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। তার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সহিংসতা বা অন্যান্য আইনি বিষয়ে কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি একটি ইংরেজি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজনীতিতে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় থামাতেই সাকিব এই পোস্টটি দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফেসবুক পোস্টে সাকিব স্পষ্ট করে বলেন, “এই মুহূর্তে আমার পুরো মনোযোগ শুধুই ক্রিকেটে। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে আমি জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলতে চাই এবং দেশের জন্য দারুণ কিছু পারফরম্যান্স উপহার দিতে চাই।” তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও ভালোবাসা প্রার্থনা করে জানান যে, তিনি মুখে হাসি নিয়ে ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে চান।
রাজনীতি প্রসঙ্গে নিজের দর্শন ব্যাখ্যা করে এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে দেশের সেবা করার জন্য রাজনীতিই একমাত্র পথ নয় বলে তিনি মনে করেন। সাকিব লেখেন, “ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর আমি দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই। সেটা যে শুধু রাজনীতির মাধ্যমেই করতে হবে, তা নয়; রাজনীতি ছাড়াও দেশের জন্য কাজ করা সম্ভব। তবে রাজনীতির মাধ্যমে জনসেবার কাজগুলো করা হয়তো অনেক বেশি সহজ হয়।”
সাকিবের এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, তিনি এখনই সক্রিয় রাজনীতিতে জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করছেন না, বরং মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টি রাঙাতে চান। এর আগে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, একজন ক্রিকেটার হিসেবে তার সময় সীমিত, তাই এই সময়টুকু তিনি অপচয় করতে চান না।
বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করা এই তারকা ক্রিকেটার আইনি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত দেশে ফেরার এবং ক্রিকেটে থিতু হওয়ার চেষ্টা করছেন। বিসিবি ও সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি নিজের ক্রিকেটীয় ভবিষ্যৎ ও অবসরের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ভক্ত ও সমালোচকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া সাকিবের এই বার্তা দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে চলমান অস্থিরতা কিছুটা প্রশমিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আপাতত মাঠের খেলায় মনোনিবেশ করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনাই সাকিবের মূল অগ্রাধিকার।
১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি হলো ডিজিটাল ই-অ্যারাইভাল কার্ড। আগে বিমানে বা স্থলবন্দরে প্রবেশের সময় হাতে লিখে একটি ইমিগ্রেশন কার্ড পূরণ করতে হতো। এখন থেকে সেই প্রথা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
নিয়মাবলি:
বর্তমানে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন শোনা যাচ্ছে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে যে স্থবিরতা শুরু হয়েছিল, ২০২৬-এর এই সময়ে এসে তা অনেকটাই কেটে যাওয়ার মুখে।
সর্বশেষ আপডেট: বর্তমানে ভারত সরকার সীমিত পরিসরে 'ফ্যামিলি ভিজিট' এবং বিশেষ প্রয়োজনে ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান করছে। তবে গত কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা অনুযায়ী, আগামী মে ২০২৬-এর মধ্যে সাধারণ ট্যুরিস্ট ভিসা পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের চাপ সামলাতে ভারতীয় আইভ্যাক (IVAC) সেন্টারগুলো তাদের স্লট সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যাদের গুরুতর অসুস্থতা রয়েছে, তাদের জন্য মেডিকেল ভিসা পাওয়া এখন আগের চেয়ে সহজ করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেডিকেল ভিসার আবেদন যাচাই করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া এখন প্রায় স্বাভাবিক। যারা ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন, তারা কনফার্মেশন লেটার দেখালে দ্রুত ভিসা পাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা প্রদানের হার ২০% বাড়ানো হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকা (যমুনা ফিউচার পার্ক), চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট এবং খুলনার আইভ্যাক সেন্টারগুলো পূর্ণোদ্যমে কাজ করছে। তবে দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে বায়োমেট্রিক সিস্টেমে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
অনেকেই জানতে চান কোন রুট দিয়ে যাতায়াত করা সুবিধাজনক। বর্তমানে বেনাপোল-পেট্রাপোল, আখাউড়া-আগরতলা এবং বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি স্থলবন্দরগুলোতে ভিড় সবচেয়ে বেশি।
ভারতীয় ভিসার আবেদন ফি (Processing Fee) বর্তমানে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে (ক্যাটাগরি ভেদে ভিন্ন হতে পারে)। এটি সাধারণত অনলাইনে বা অনুমোদিত ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। অতিরিক্ত কোনো অর্থ লেনদেন না করার জন্য হাই-কমিশন বারবার সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫% আবেদন বাতিল হচ্ছে ছোটখাটো ভুলের কারণে। রিজেকশন এড়াতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:
ভারত ভ্রমণে যাওয়ার আগে অবশ্যই আপনার স্মার্টফোনে 'সু-স্বাগতম' অ্যাপটি ইনস্টল করে নিন। ভারতের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে প্রবেশের টিকেট এখন অনলাইনে এই অ্যাপের মাধ্যমে কাটা যায়, যা লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা কমায়। এছাড়া আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ৬ মাস আছে কি না তা ভ্রমণের আগেই নিশ্চিত করুন।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার কারণে ভিসা প্রক্রিয়া দীর্ঘকাল বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। ২০২৬ সালের এই দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে আমরা আশা করতে পারি, খুব শীঘ্রই পর্যটন শিল্প আবারও প্রাণ ফিরে পাবে। আপনি যদি ভারত ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গোছাতে শুরু করুন এবং নিয়মিত ভারতীয় হাই-কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন।
সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীরের (ঢাকা-১৮) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। মাথাপিছু আয় আরও বৃদ্ধির জন্য সরকার কেবল নির্দিষ্ট কোনো একটি খাতের ওপর নির্ভর না করে বহুমাত্রিক কৌশল গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উৎপাদন, রপ্তানি এবং প্রবাস আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে একত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বেকারত্ব কমাতে উৎপাদনশীল খাত, নির্মাণ, সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে ব্যাপক কাজের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন এবং বাজার সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে পারিবারিক ও জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।”
বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর ফলে দেশে নতুন নতুন কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এছাড়া নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ উৎসাহমূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধানের পাশাপাশি প্রবাস আয় বা রেমিট্যান্স বাড়াতে বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করার কাজ চলমান রয়েছে।
গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা করার পরিকল্পনা সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী জানান, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এসব উদ্যোগের একটি বড় অংশ বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এবং বাকি পদক্ষেপগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে। অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে। সরকারি দলের সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সঠিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমেই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মাইলফলক স্পর্শ করা সম্ভব হবে।