মামলার বাদী নিহতের ভাই ফজলুর রহমান। এজাহারে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদকে। দুই নম্বর আসামি খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা আমির মাওলানা আসাদুজ্জামান। এ ছাড়া দুজন স্থানীয়র নাম রয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ জনকে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার সময় ধারণকৃত ১৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে হামলায় সামনের সারিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি স্পষ্ট। ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ছুরি হাতে বাহিনী নিয়ে যাচ্ছেন। হকিস্টিক হাতে ছুটে যাচ্ছেন ছাত্রদল কর্মী যুবায়ের, যিনি নিজেই ওই ভিডিও ধারণ করেছিলেন। যুবদল কর্মী সুজন পুরোনো রড মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন। যুবদল সদস্য রাসেল স্থানীয় যুবকদের ডেকে লাইভ করে সবাইকে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। টিউবওয়েলের মাথা দিয়ে পীরের ওপর আঘাত করতে দেখা যায় যুবদল ক্যাডার মিঠুনকে।
ভিডিওতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ সাফিকেও শনাক্ত করা হয়েছে। হামলার তিন ঘণ্টা আগে ছাত্রদল কর্মী যুবায়ের নিজের ফেসবুক থেকে পোস্ট দিয়ে কুরআন অবমাননার অভিযোগ এনে পীরের আস্তানা উচ্ছেদের আহ্বান জানান।
অথচ মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ হামলার আগেই কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। ঘটনার দিন তিনি সামাজিক মাধ্যমে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বানও জানান। এসব প্রমাণ যুগান্তরের হাতে রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন ঘটনার দিন খাজা আহম্মেদের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে কথা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, খাজা আহম্মেদ কথা দিয়েছিলেন কোনো ঝামেলা হবে না, কিন্তু এর কিছু সময় পরেই হামলা হয়।
কেন শনাক্ত হওয়া হামলাকারীরা মামলায় আসামি হলেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে মামলার বাদী ফজলুর রহমান বলেন, এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারব না, আমাকে মাফ করবেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত নেতারা দাবি করেন, ঘটনাস্থলে ফিলিপনগর ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতা উপস্থিত থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তাদের নেতাদের জড়ানোর চেষ্টা চলছে। মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে কোনো আসামি জড়িত না থাকলে তদন্তে তার নাম বাদ যাবে। আবার কেউ জড়িত থাকলে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হবে।
সূত্র- যুগান্তর
পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নকশায় পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। শুক্রবার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন তিনি।
তামিম জানান, প্রতিমন্ত্রীকে পুরো ডিজাইন দেখানো ও উপস্থাপন করা হয়েছে এবং কিছু পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করছেন তারা। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্য খেলাকেও এই কমপ্লেক্সে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান বিসিবি সভাপতি।
এ বিষয়ে তামিম বলেন, এটা অনেক বড় একটা প্রপার্টি। ক্রিকেটের সঙ্গে যদি আরও কিছু খেলা যুক্ত করা যায়, তাহলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ভালো হবে। টাকার দিক থেকে ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান অনেক বোর্ডের চেয়ে ভালো হওয়ায় অন্য খেলাকে সহায়তা করার দায়িত্বও তাদের রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
স্টেডিয়ামের ডিজাইন পরিবর্তনে ডিজাইনারদের পাশাপাশি প্রয়োজনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকেও (এনএসসি) যুক্ত করার কথা জানান তামিম। তিনি বলেন, বড় পরিসরের স্টেডিয়াম করতে হলে সরকারের বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে, সেটি মাথায় রেখেই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।
তুরস্কে আয়োজিত একটি কূটনৈতিক সম্মেলনের ফাঁকে তিনি এই মন্তব্য করেন বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।
খাতিবজাদেহ বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি একাধিকবার বার্তা বিনিময় হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু বিষয়ে জেদ ধরে আছে, যা তেহরানের কাছে অত্যন্ত অযৌক্তিক ও বাড়াবাড়ি বলে মনে হয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তর নিয়ে ইরান কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
ইসলামাবাদে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুই দেশের দীর্ঘ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর তেহরানের এই কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই অনড় মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ভবিষ্যৎ পারমাণবিক সমঝোতার পথকে আরও কঠিন করে দিচ্ছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লিটারপ্রতি অকটেনে ২০ টাকা বেড়ে দাম হয়েছে ১৪০ টাকা। পেট্রোলে ১৯ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিনে ১৮ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকা এবং ডিজেলে ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিনিয়র সহকারী সচিব এনামুল হকের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। চলমান ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানিতে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং দাম ক্রমাগত বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশেও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না জ্বালানি তেল।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মাসের শুরুতে সরকার জানিয়েছিল আপাতত দাম বাড়ানো হবে না এবং এপ্রিলের জন্য দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি উল্লেখযোগ্য হারে দাম বাড়ানোর পর মাত্র আড়াই মাসের মাথায় ফের বড় মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন খরচ বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে নিত্যপণ্যের দামে। কৃষি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা খাদ্যমূল্যে নতুন চাপ তৈরি করবে। যুদ্ধকালীন এই সংকটে সরকারের এই পদক্ষেপ সাধারণ ভোক্তার জীবনে নতুন মাত্রার চাপ যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা আসলে কী কী তথ্য সংগ্রহ করে?
মনে রাখতে হবে, এই কোম্পানিগুলো টেলিপ্যাথি ব্যবহার করে না — তারা ব্যবহার করে বিশাল ডেটা + উন্নত অ্যালগরিদম। ২০১৮ সালে Cambridge Analytica কেলেঙ্কারির পর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে মার্ক জাকারবার্গের শুনানিতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে ফেসবুক কতটা গভীরভাবে ব্যবহারকারীদের ট্র্যাক করে।
আরো পড়ুন- আধুনিক পৃথিবীতে টিকে থাকতে যে ১০টি 'লাইফ সেভিং' স্কিল আপনার জানা জরুরি-২০২৬
১. ব্রাউজিং ও সার্চ হিস্ট্রি
আপনি কোন সাইটে কতক্ষণ থাকলেন, কী সার্চ করলেন — প্রতিটি ক্লিক রেকর্ড হয়। গুগল Chrome ব্রাউজার থেকে শুরু করে Gmail পর্যন্ত সব থেকে ডেটা নেয়।
২. লোকেশন ডেটা
আপনি কোথায় যান, কতক্ষণ থাকেন — এমনকি লোকেশন বন্ধ রাখলেও WiFi ও মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারের মাধ্যমে আপনার অবস্থান ট্র্যাক হতে পারে।
৩. এনগেজমেন্ট প্যাটার্ন
কোন পোস্টে লাইক দিলেন, কতক্ষণ স্ক্রোল থামালেন, কোন ভিডিও দেখলেন — এগুলো আপনার আবেগ ও আগ্রহের মানচিত্র তৈরি করে।
৪. অ্যাপ পারমিশন ও মাইক্রোফোন
অনেকে মনে করেন ফোনের মাইক্রোফোন সবসময় শোনে। Meta নিজে এটি অস্বীকার করেছে, তবে তৃতীয় পক্ষের SDK ও অ্যাপের মাধ্যমে ডেটা শেয়ার হওয়া প্রমাণিত।
৫. তৃতীয় পক্ষের ডেটা ব্রোকার
ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি, হাসপাতাল, ই-কমার্স সাইট — এরা ডেটা বিক্রি করে। গুগল ও ফেসবুক সেই ডেটা কিনে নিজেদের প্রোফাইলে যোগ করে।
অ্যালগরিদম কীভাবে "ভবিষ্যৎ বলে" দেয়?
২০১৪ সালে MIT-র একটি গবেষণায় দেখা যায়, মাত্র ১০টি ফেসবুক লাইক বিশ্লেষণ করেই একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ধর্মীয় বিশ্বাস ৮৮% নির্ভুলতায় অনুমান করা সম্ভব। এর কারণ হলো Collaborative Filtering — যে প্রযুক্তিতে আপনার আচরণকে লক্ষ কোটি একই ধরনের মানুষের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়।
উদাহরণস্বরূপ: আপনি যদি রাত ১১টায় "বাজেট ট্যুর" সার্চ করেন, তারপর ট্র্যাভেল ভিডিও দেখেন এবং ফ্লাইট সাইটে ঢোকেন — অ্যালগরিদম বুঝে নেয় আপনি ভ্রমণ পরিকল্পনার মোডে আছেন। পরের দিনই আপনি ফেসবুকে হোটেল ডিসকাউন্টের বিজ্ঞাপন দেখবেন।
২০২২ সালে প্রকাশিত "The Facebook Files"-এ উঠে আসে যে Meta জানত তাদের অ্যালগরিদম রাগ ও বিভাজনমূলক কন্টেন্ট বেশি ছড়ায় — কারণ এতে মানুষ বেশি সময় অ্যাপে থাকে। বেশি সময় মানেই বেশি ডেটা, বেশি বিজ্ঞাপন।
Pixel ও Cookie: অদৃশ্য গুপ্তচর
ফেসবুক Pixel হলো একটি ক্ষুদ্র জাভাস্ক্রিপ্ট কোড যা লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইটে লাগানো আছে। আপনি ফেসবুক না খুললেও, শুধু কোনো নিউজ সাইট বা শপিং সাইট ভিজিট করলেই ফেসবুক জেনে যায় আপনি কোথায় গেলেন। ২০২৩ সালের একটি গবেষণা দেখায়, শীর্ষ ১ লাখ ওয়েবসাইটের মধ্যে প্রায় ৩০% সাইটে ফেসবুক Pixel সক্রিয়।
একইভাবে Google Analytics বিশ্বের ৮৫% ওয়েবসাইটে ইনস্টল করা — এটি প্রতিটি পেজ ভিজিট, ক্লিক এবং সময়কাল ট্র্যাক করে গুগলের কেন্দ্রীয় সার্ভারে পাঠায়।
নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন কীভাবে?
১. VPN ব্যবহার করুন — আপনার IP লুকিয়ে রাখে এবং ট্র্যাকিং কঠিন করে দেয়।
২. Privacy-focused ব্রাউজার বেছে নিন — Brave বা Firefox দিয়ে ব্রাউজ করুন।
৩. Ad Blocker ব্যবহার করুন — uBlock Origin Pixel ও Cookie ব্লক করে।
৪. অ্যাপ পারমিশন নিয়মিত চেক করুন — ফোনের সেটিংসে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় অ্যাক্সেস বন্ধ করুন।
৫. Google Takeout ও Facebook Data ডাউনলোড করুন — দেখুন তারা আপনার সম্পর্কে ঠিক কী কী জানে।
উপসংহার
ফেসবুক বা গুগল মন পড়তে পারে না — কিন্তু তারা আপনার প্রতিটি ডিজিটাল পদক্ষেপ রেকর্ড করে এবং কোটি কোটি মানুষের সাথে তুলনা করে আপনার পরবর্তী চাহিদা আগে থেকেই অনুমান করে নেয়। এটি প্রযুক্তির বিস্ময়কর সাফল্য — একই সাথে গোপনীয়তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সচেতন ব্যবহারকারী হোন, নিজের ডেটার মালিক নিজেই হোন।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সংক্ষিপ্ত সিলেবাস নাকি পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা শীঘ্রই শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। প্রতিবছরের মতো এবারও তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
বিস্তারিত আসছে...
প্রতিদিন সকালে উঠে আমরা অনেকেই সরাসরি ব্রাশ করতে বসি — কেউ খাওয়ার আগে, কেউ খাওয়ার পরে। কিন্তু কোনটি আসলে স্বাস্থ্যসম্মত? এই প্রশ্নটি সহজ মনে হলেও, দন্তচিকিৎসা বিজ্ঞানে এর উত্তর বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আসুন ডাক্তার ও গবেষকদের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি বিস্তারিত জেনে নিই।
সকালে খাওয়ার আগে ব্রাশ করা কি ভালো?
বিশ্বের অধিকাংশ দন্তচিকিৎসক সকালে খাওয়ার আগে ব্রাশ করার পরামর্শ দেন। এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে।
রাতে ঘুমানোর সময় মুখের ভেতর লালার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। লালা হলো মুখের প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক। লালা কম থাকলে মুখে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে। সারারাত ধরে এই ব্যাকটেরিয়া দাঁতের উপর একটি পাতলা আবরণ তৈরি করে, যাকে বলা হয় "প্লাক" বা ডেন্টাল প্লাক।
আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন (ADA)-এর মতে, সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ব্রাশ করলে রাতভর জমে থাকা এই ব্যাকটেরিয়া ও প্লাক পরিষ্কার হয়ে যায়। এর ফলে নাস্তা খাওয়ার সময় ব্যাকটেরিয়া খাবারের সাথে পেটে যাওয়ার সুযোগ পায় না।
এছাড়া ব্রাশ করলে দাঁতের এনামেলের উপর ফ্লোরাইডের একটি সুরক্ষামূলক আবরণ তৈরি হয়, যা সকালের নাস্তায় থাকা চিনি ও অ্যাসিড থেকে দাঁতকে রক্ষা করে।
ডা. ব্রায়ান পারমার, যুক্তরাজ্যের একজন বিশিষ্ট দন্তচিকিৎসক, বলেন — "সকালে উঠে প্রথমেই ব্রাশ করা উচিত। এটি মুখের ব্যাকটেরিয়া পরিষ্কার করে এবং ফ্লোরাইড দিয়ে দাঁতকে সারাদিনের খাবারের জন্য প্রস্তুত করে।"
খাওয়ার পরে ব্রাশ করলে কী হয়?
অনেকের ধারণা, খাওয়ার পরে ব্রাশ করলে দাঁত সবচেয়ে পরিষ্কার থাকে। এই ধারণা আংশিক সঠিক, কিন্তু পুরোপুরি নয়।
খাবার খাওয়ার পর, বিশেষত অ্যাসিডিক খাবার বা ফলের রস পান করার পর, মুখের পিএইচ মাত্রা কমে যায় অর্থাৎ মুখ অ্যাসিডিক হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ করলে দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেন্টাল অ্যান্ড ক্র্যানিওফেশিয়াল রিসার্চ (NIDCR)-এর গবেষণা বলছে — খাওয়ার অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পরে ব্রাশ করা উচিত। এই সময়ের মধ্যে মুখের লালা স্বাভাবিকভাবেই অ্যাসিড নিরপেক্ষ করে এনামেলকে পুনরায় শক্তিশালী করে।
বিশ্বখ্যাত দন্ত গবেষক ড. আনা লুইসা ডুয়ার্তে জার্নাল অব ডেন্টাল রিসার্চে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখিয়েছেন যে কমলালেবুর রস পান করার পর সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ করা দাঁতের এনামেলের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করে, যা পরবর্তীতে দাঁত সংবেদনশীলতা ও ক্যাভিটির ঝুঁকি বাড়ায়।
রাতে ঘুমানোর আগে ব্রাশ কতটা জরুরি?
রাতে ঘুমানোর আগে ব্রাশ করা দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্রাশিং হিসেবে বিবেচিত। ADA এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) উভয়েই এই বিষয়ে একমত।
কারণটি সহজ — রাতে ঘুমানোর সময় মুখে লালার উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। দিনে যা খেয়েছেন, তার অবশিষ্টাংশ দাঁতে লেগে থাকলে রাতভর ব্যাকটেরিয়া সেগুলো ভেঙে অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড দাঁতের এনামেল ধীরে ধীরে ক্ষয় করে এবং মাড়িতে সংক্রমণ তৈরি করে।
বিখ্যাত ব্রিটিশ দন্ত বিশেষজ্ঞ ড. নিজোনি রানিংওয়াটার বলেন — "যদি দিনে দুবারের মধ্যে একটিই ব্রাশ করতে হয়, তবে রাতেরটি বেছে নিন। কারণ রাতের ব্রাশিং দাঁতের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে।"
মাউথওয়াশ কখন ব্যবহার করবেন?
অনেকেই ব্রাশের পরপরই মাউথওয়াশ ব্যবহার করেন, কিন্তু এটি সঠিক নয়। ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS)-এর পরামর্শ হলো, ব্রাশের সঙ্গে সঙ্গে মাউথওয়াশ ব্যবহার করলে টুথপেস্টের ফ্লোরাইড ধুয়ে যায়। তাই মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে চাইলে ব্রাশের অন্তত ৩০ মিনিট পরে করুন, অথবা খাওয়ার পরে আলাদাভাবে ব্যবহার করুন।
সঠিক ব্রাশিং রুটিন কেমন হওয়া উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও গবেষণার ভিত্তিতে আদর্শ দৈনিক ব্রাশিং রুটিন হওয়া উচিত এইভাবে — সকালে ঘুম থেকে উঠে কিছু খাওয়ার আগেই ব্রাশ করুন। যদি নাস্তায় অ্যাসিডিক কিছু খান যেমন ফল বা জুস, তাহলে খাওয়ার পরে ব্রাশ করতে চাইলে ন্যূনতম ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে অবশ্যই ব্রাশ করুন এবং ব্রাশের পর পানি দিয়ে কুলি না করে ফ্লোরাইডটুকু দাঁতে থাকতে দিন।
কতক্ষণ ব্রাশ করবেন?
ADA-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিবার কমপক্ষে ২ মিনিট ব্রাশ করা উচিত। অধিকাংশ মানুষ ৪৫ থেকে ৭০ সেকেন্ডের বেশি ব্রাশ করেন না, যা যথেষ্ট নয়। দাঁতের চারটি অংশকে সমানভাবে ভাগ করে প্রতিটিতে ৩০ সেকেন্ড করে ব্রাশ করুন।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, সকালে খাওয়ার আগে ব্রাশ করা বৈজ্ঞানিকভাবে সবচেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত। তবে রাতে ঘুমানোর আগের ব্রাশিং সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর যদি খাওয়ার পরে ব্রাশ করতেই চান, তাহলে অবশ্যই ৩০ থেকে ৬০ মিনিট অপেক্ষা করুন, নইলে দাঁতের উপকার করতে গিয়ে বরং ক্ষতি করবেন।
দাঁতের যত্ন মানে শুধু ব্রাশ করা নয় — কখন এবং কীভাবে ব্রাশ করছেন, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ দাঁত মানে সুস্থ শরীর — কারণ মুখের স্বাস্থ্য সরাসরি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও হজমশক্তির সাথে সম্পর্কিত।