পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং বাকি দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারাও মারা যান। নিহতরা হলেন:
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মাথায় গুরুতর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার নেপথ্যে থাকা সম্ভাব্য কারণগুলো হলো:
বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, টেকনাফের এই পাহাড়ি এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপহরণ ও মানবপাচারকারী চক্রের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পুলিশ বর্তমানে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং পাহাড়ের গহীন অঞ্চলে চিরুনি অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ওয়েবসাইট থেকে আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সহজ উপায় হলো বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা। গুগল অ্যাডসেন্স এক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো অন্যের পণ্য বা সেবা আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রচার করা। যখন কেউ আপনার দেওয়া স্পেশাল লিংক ব্যবহার করে কিছু কেনে, তখন আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পাবেন।
যখন আপনার সাইটে ভালো মানের ট্রাফিক আসা শুরু করবে, তখন বিভিন্ন ব্র্যান্ড তাদের প্রচারণার জন্য আপনার সাথে যোগাযোগ করবে।
আপনার যদি কোনো বিশেষ দক্ষতা থাকে, তবে তা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারেন। এটি আয়ের একটি স্থায়ী উৎস।
আপনার ওয়েবসাইটটি যদি একটি ব্লগের পাশাপাশি স্টোর হিসেবেও কাজ করে, তবে আপনি সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারেন।
আপনার কন্টেন্ট যদি অত্যন্ত মূল্যবান এবং এক্সক্লুসিভ হয়, তবে আপনি 'পে-ওয়াল' (Pay-wall) সিস্টেম চালু করতে পারেন।
আপনার ওয়েবসাইটটি আপনার অনলাইন পোর্টফোলিও হিসেবে কাজ করতে পারে। আপনি যদি রাইটিং, এসইও, গ্রাফিক ডিজাইন বা ওয়েব ডেভেলপমেন্টে দক্ষ হন, তবে আপনার সাইটের মাধ্যমে ক্লায়েন্ট আকর্ষণ করতে পারেন। এটি সরাসরি বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের চেয়েও অনেক সময় বেশি লাভজনক হয়।
ওয়েবসাইট থেকে আয় করার পূর্বশর্ত হলো ভিজিটর। আর ভিজিটর পেতে হলে এসইও-র বিকল্প নেই।
১. কিওয়ার্ড রিসার্চ: আর্টিকেল লেখার আগে গুগলে মানুষ কি লিখে সার্চ করছে তা জানুন। (যেমন: "Online Income", "Smartphone Review in Bengali")।
২. অন-পেজ এসইও: টাইটেল ট্যাগ, মেটা ডেসক্রিপশন এবং হেডিং (H1, H2, H3) সঠিকভাবে ব্যবহার করুন।
৩. সাইট স্পিড: আপনার ওয়েবসাইট যেন দ্রুত লোড হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। গুগল ধীরগতির সাইট পছন্দ করে না।
৪. মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইন: বর্তমানে অধিকাংশ ইউজার মোবাইল থেকে ওয়েবসাইট ভিজিট করে। তাই আপনার সাইটটি মোবাইল রেসপনসিভ হতে হবে।
৫. নিয়মিত আপডেট: নিয়মিত নতুন তথ্যবহুল আর্টিকেল পোস্ট করলে গুগল সার্চ রেজাল্টে সাইটের অবস্থান উন্নত হয়।
একটি ওয়েবসাইট থেকে আয় করার জন্য টেকনিক্যাল জ্ঞানের চেয়েও বেশি প্রয়োজন পরিশ্রম করার মানসিকতা। আপনি যদি মানসম্মত কন্টেন্ট উপহার দিতে পারেন এবং সঠিক এসইও কৌশল অনুসরণ করেন, তবে অনলাইন থেকে আয়ের স্বপ্ন অবশ্যই পূরণ হবে। আজই আপনার পছন্দের নিশ (Niche) বা বিষয় নির্বাচন করে কাজ শুরু করে দিন।
মনে রাখবেন: সফলতার কোনো শর্টকাট নেই। গুণগত মান বজায় রাখলে টাকা আপনার পেছনে দৌড়াবে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এবং বড় বড় কোম্পানি যেমন গুগল, অ্যাপল বা মেটা (ফেসবুক) বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তারা বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে মাইক্রোফোন ব্যবহার করে গোপনে কথা শোনে না। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোনগুলো সবসময় "Active Listening" মোডে থাকে মূলত 'হে গুগল' (Hey Google) বা 'হেই সিরি' (Hey Siri)-র মতো ভয়েস কমান্ডগুলো শনাক্ত করার জন্য।
গবেষণা বলছে, কোম্পানিগুলো আপনার কথা শোনার চেয়ে আপনার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা ব্রাউজিং হিস্ট্রির ওপর বেশি নির্ভরশীল। আপনি কী সার্চ করছেন, কোন লোকেশনে যাচ্ছেন এবং আপনার বন্ধুরা কী নিয়ে আগ্রহী—এই বিশাল ডেটা অ্যানালাইসিস করেই মূলত আপনাকে টার্গেটেড বিজ্ঞাপন দেখানো হয়।
আরো পড়ুন- আমরা মনে মনে যা ভাবি — ফেসবুক ও গুগল তা কীভাবে বুঝে নেয়?
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোন কথা শোনার চেয়েও ভয়ংকর শক্তিশালী কিছু টুল ব্যবহার করে:
১. প্রেডিক্টিভ অ্যালগরিদম: এআই এখন এতই উন্নত যে আপনার পরবর্তী চাহিদা কী হতে পারে তা আপনার আগেই অনুমান করতে পারে।
২. লোকেশন ট্র্যাকিং: আপনি যদি কোনো নির্দিষ্ট শোরুমে যান, আপনার জিপিএস ডেটা ব্যবহার করে সেই ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু হয়।
৩. ক্রস-ডিভাইস ট্র্যাকিং: একই ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে থাকা অন্য কেউ কোনো কিছু সার্চ করলে সেই প্রভাব আপনার ডিভাইসেও পড়তে পারে।
স্মার্টফোনকে পুরোপুরি 'নীরব' রাখা কঠিন, তবে সঠিক সেটিংস পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনি আপনার প্রাইভেসী নিশ্চিত করতে পারেন।
আপনার ফোনের অনেক অ্যাপই বিনা প্রয়োজনে মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে রাখে।
গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সিরি সব সময় আপনার ভয়েস শোনার জন্য তৈরি থাকে। এটি বন্ধ করতে:
গুগল ও ফেসবুক আপনার প্রতিটি মুভমেন্ট ট্র্যাক করে। এটি রুখতে:
অ্যান্ড্রয়েডের ডেভেলপার অপশন ব্যবহার করে আপনি একটি 'Sensors Off' বাটন তৈরি করতে পারেন। এটি চালু করলে ফোনের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে, যা কোনো অ্যাপই ব্যবহার করতে পারবে না।
প্লে-স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ নামানোর সময় আমরা অনেক সময় না পড়েই সব শর্তে 'Allow' দিয়ে দেই। কোনো টর্চলাইট অ্যাপ বা ক্যালকুলেটর অ্যাপ যদি আপনার কন্টাক্ট এবং মাইক্রোফোনের পারমিশন চায়, তবে বুঝবেন সেখানে তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে।
স্মার্টফোন সরাসরি আপনার ব্যক্তিগত কথা রেকর্ড করে কোনো সার্ভারে পাঠাচ্ছে কি না, তার অকাট্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে আপনার ডিজিটাল অভ্যাস বা বিহেভিয়ারাল ডেটা যে প্রতিটি মুহূর্তে ট্র্যাক হচ্ছে, তা শতভাগ সত্য। সচেতনতাই এখানে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। ওপরের সেটিংসগুলো পরিবর্তন করে আপনি আপনার ব্যক্তিগত তথ্য অনেকটাই নিরাপদ রাখতে পারেন।
মনে রাখবেন, ডিজিটাল যুগে আপনার 'ডেটা' বা তথ্যই হলো সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাই সস্তা অ্যাপ বা সুবিধার লোভে নিজের প্রাইভেসী বিসর্জন দেবেন না।
মোটরসাইকেল আজ শুধু একটি যানবাহন নয়, এটি স্বাধীনতা, গতি এবং প্রযুক্তির এক অনন্য প্রতীক। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা এই দুই চাকার যন্ত্রটির রয়েছে এক দীর্ঘ ও বর্ণময় ইতিহাস। চলুন জেনে নেওয়া যাক মোটরসাইকেলের জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে আজকের অত্যাধুনিক বাইক পর্যন্ত পুরো যাত্রাটি।
মোটরসাইকেলের জন্ম: ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার কথা
মোটরসাইকেলের ইতিহাস শুরু হয় ১৮৬৯ সালে, যখন ফরাসি উদ্ভাবক Ernest Michaux এবং Louis-Guillaume Perreaux একটি বাষ্পচালিত সাইকেল তৈরি করেন। যদিও এটি আধুনিক মোটরসাইকেলের সাথে তুলনীয় ছিল না, তবে এটিই ছিল মোটরচালিত দুই চাকার যানবাহনের প্রথম প্রচেষ্টা।
তবে মোটরসাইকেলের প্রকৃত পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃত হন জার্মান প্রকৌশলী Gottlieb Daimler। ১৮৮৫ সালে তিনি তাঁর সহকর্মী Wilhelm Maybach-এর সহায়তায় বিশ্বের প্রথম পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেল "Reitwagen" তৈরি করেন। এই যানটিতে ছিল একটি সিঙ্গেল-সিলিন্ডার চার-স্ট্রোক ইঞ্জিন, যা ঘণ্টায় প্রায় ১২ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম ছিল। Daimler-এর এই উদ্ভাবন মোটরসাইকেলের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে আজও বিবেচিত।
বিংশ শতাব্দীর শুরু: শিল্প হিসেবে মোটরসাইকেল উৎপাদন
১৯০০ সালের পর থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় মোটরসাইকেল উৎপাদন একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পে পরিণত হতে শুরু করে। ১৯০১ সালে আমেরিকায় Indian Motorcycle Company প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বাণিজ্যিক মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান।
এরপর ১৯০৩ সালে আসে মোটরসাইকেল ইতিহাসের সবচেয়ে আইকনিক নামটি — Harley-Davidson। উইলিয়াম হার্লি ও আর্থার ডেভিডসন মিলওয়াকিতে একটি ছোট্ট শেডে তাঁদের স্বপ্নের মোটরসাইকেল তৈরি শুরু করেন। মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে Harley-Davidson পরিণত হয় আমেরিকান সংস্কৃতির প্রতীকে।
এই সময়কালে ইউরোপেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্র্যান্ডের উদ্ভব হয়। ব্রিটেনে Triumph, জার্মানিতে BMW এবং ইতালিতে Moto Guzzi প্রতিষ্ঠিত হয়, যারা পরবর্তীতে মোটরসাইকেল শিল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দুই বিশ্বযুদ্ধে মোটরসাইকেলের ভূমিকা
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মোটরসাইকেল সামরিক বাহনী হিসেবে অপরিহার্য হয়ে ওঠে। দ্রুতগতির বার্তাবাহক, রিকনেসান্স মিশন এবং সৈন্য পরিবহনে মোটরসাইকেল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। Harley-Davidson একাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য প্রায় ৯০,০০০ মোটরসাইকেল সরবরাহ করেছিল।
যুদ্ধের পরে, ফিরে আসা সৈনিকরা মোটরসাইকেলের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা নিয়ে ফিরলেন, যা যুদ্ধোত্তর সময়ে মোটরসাইকেলের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করে।
জাপানি বিপ্লব: হোন্ডা, ইয়ামাহা, সুজুকি ও কাওয়াসাকি
মোটরসাইকেল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আসে ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে, জাপান থেকে। ১৯৪৮ সালে Soichiro Honda প্রতিষ্ঠা করেন Honda Motor Co., Ltd.। তাঁর লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য মোটরসাইকেল পৌঁছে দেওয়া।
১৯৫৮ সালে লঞ্চ হওয়া Honda Super Cub ইতিহাসের সর্বাধিক বিক্রিত মোটরসাইকেল হিসেবে রেকর্ড গড়ে, যার মোট বিক্রির সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়িয়েছে। এটি মোটরসাইকেলকে এশিয়া ও আফ্রিকার সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসে।
এরপর Yamaha (১৯৫৫), Suzuki এবং Kawasaki-ও বাজারে প্রবেশ করে এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় নামে। জাপানি ব্র্যান্ডগুলো দ্রুত ইউরোপীয় ও আমেরিকান বাজারে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে। তাদের কম মূল্য, উচ্চ নির্ভরযোগ্যতা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী ইঞ্জিন মোটরসাইকেল শিল্পকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে।
মোটরসাইকেল রেসিং ও সংস্কৃতির বিকাশ
মোটরসাইকেল শুধু পরিবহনের মাধ্যম নয়, এটি একটি সংস্কৃতিও। ১৯৪৯ সালে FIM (Fédération Internationale de Motocyclisme) বিশ্ব মোটরসাইকেল চ্যাম্পিয়নশিপ চালু করে, যা পরবর্তীতে MotoGP নামে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মোটরস্পোর্ট ইভেন্টে পরিণত হয়।
১৯৫০-৬০-এর দশকে আমেরিকায় "বাইকার কালচার" জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। Marlon Brando-র বিখ্যাত চলচ্চিত্র "The Wild One" (১৯৫৩) মোটরসাইকেলকে বিদ্রোহ ও স্বাধীনতার প্রতীকে পরিণত করে। এরপর থেকে মোটরসাইকেল সঙ্গীত, সিনেমা ও পপ কালচারে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে যায়।
আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতি
১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে মোটরসাইকেলে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দ্রুত হতে থাকে। ABS (Anti-lock Braking System), ফুয়েল ইনজেকশন, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং মাল্টি-সিলিন্ডার ইঞ্জিন মোটরসাইকেলকে আরও নিরাপদ ও শক্তিশালী করে তোলে।
১৯৯৩ সালে Ducati তাঁদের বিখ্যাত 916 মডেল লঞ্চ করে, যা মোটরসাইকেল ডিজাইনে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে। সুপারবাইক বিভাগে Honda CBR, Yamaha R1 এবং Suzuki GSX-R-এর মতো মডেলগুলো রাস্তা ও রেসট্র্যাক উভয় ক্ষেত্রেই বিপ্লব আনে।
ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল: ভবিষ্যতের পথে
বর্তমান শতাব্দীতে মোটরসাইকেল শিল্পের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির মাধ্যমে। Zero Motorcycles, Energica এবং এমনকি Harley-Davidson-এর LiveWire ব্র্যান্ড ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের নতুন যুগ সূচনা করেছে।
ভারত ও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় ইলেকট্রিক দুই চাকার যানবাহনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। জ্বালানি খরচ কমানো, পরিবেশ দূষণ হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয়ের কারণে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল ভবিষ্যতের প্রধান পরিবহন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের ইতিহাস ও বর্তমান
বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের ব্যাপক প্রসার শুরু হয় মূলত ২০০০-এর দশক থেকে। Hero, Bajaj, Honda, Yamaha এবং TVS-এর মতো ব্র্যান্ডগুলো দেশের বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে। রাইড-শেয়ারিং সেবা যেমন Pathao ও Shohoz মোটরসাইকেলকে নগর পরিবহনের এক অপরিহার্য অংশে পরিণত করেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে বার্ষিক প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ মোটরসাইকেল বিক্রি হয়, যা দেশের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও তরুণ প্রজন্মের চাহিদার প্রতিফলন।
উপসংহার
মোটরসাইকেলের ইতিহাস আসলে মানুষের উদ্ভাবনী শক্তি ও অদম্য গতির প্রতি আকর্ষণের ইতিহাস। ১৮৮৫ সালে Gottlieb Daimler-এর সেই প্রথম পেট্রোলচালিত দুই চাকার যন্ত্র থেকে শুরু করে আজকের অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক সুপারবাইক পর্যন্ত — প্রতিটি পদক্ষেপে মোটরসাইকেল মানবজাতির স্বপ্ন, প্রযুক্তি ও জীবনধারার রূপান্তরের সাক্ষী।
ভবিষ্যতে মোটরসাইকেল আরও স্মার্ট, আরও পরিবেশবান্ধব এবং আরও সংযুক্ত হবে — এটি নিশ্চিত। কিন্তু এর মূল আবেদন, সেই মুক্ত বাতাসে ছুটে চলার অনুভূতি, চিরকালই অপরিবর্তিত থাকবে।
রবিবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্মিথ বলেন, ভিনদেশের কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া এবং স্কোয়াডের গভীরতা বাড়ানোই এই সফরের মূল লক্ষ্য। এখানে সাফল্য পেলে ভবিষ্যতের জন্য দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
উইকেট প্রসঙ্গে স্মিথ বলেন, পিচ আগের দিনের মতোই মনে হচ্ছে এবং একই ধরনের কন্ডিশন আশা করছেন তারা। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সাফল্যের পেছনে দলের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি। ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য দ্রুত বোলারদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হয়েছে বলে জানান স্মিথ।
বাংলাদেশের গরম আবহাওয়া এই ম্যাচেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন এই অলরাউন্ডার। তার মতে, এই গরমে আগে বোলিং করা শারীরিকভাবে অত্যন্ত কঠিন। তাই ছোট ছোট স্পেলে বোলিং করে দলগতভাবে কাজ করাই হবে মূল কৌশল। স্মিথ আরও মনে করেন, রোদে উইকেটের আচরণ বদলে যেতে পারে বলে টসও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আগে ব্যাট করে পরে চাপ তৈরি করাকেই ভালো কৌশল বলে মনে করছেন তিনি।
নতুন দাম অনুযায়ী ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা লিটার হয়েছে।
বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ইরান যুদ্ধের পর একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে উঠলেও এখন তা ৯০ ডলারে নেমে এসেছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে বিশ্বনেতারা একজোট হতে শুরু করেছেন। ফ্রান্স এতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম বাড়ানোর যুক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও একই পরিস্থিতি হয়েছিল। তখনও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করার মুহূর্তে দেশে দাম বাড়ানো হয়েছিল। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৪২ শতাংশ এবং অকটেন ও পেট্রোলের দাম ৫১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালে সমালোচনার মুখে মাত্র ৫ টাকা করে কমানো হয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারের নিম্নমুখী প্রবণতার তুলনায় অনেক কম ছিল।
জ্বালানি তেলের পাশাপাশি এলপিজির দামও দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো হয়েছে। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। পিডিবির উৎপাদন খরচ ও আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে এবং কমিটির সুপারিশের পরই বিদ্যুতের দামও বাড়তে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম নিম্নমুখী থাকার সময় দেশে দাম বাড়ানো জনগণের প্রতি সুবিচার হয়নি। ক্ষমতায় আসার সময় সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পণ্যের দাম বাড়াবে না এবং ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেবে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে লুণ্ঠনমূলক বলে অভিহিত করে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে আরেক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন মনে করেন, কিছুটা দাম বাড়ানো অযৌক্তিক নয়। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশও দাম বাড়িয়েছে এবং এতে জনগণ সংকট সম্পর্কে সচেতন হবে। তবে তিনি সতর্ক করেন, পরিবহন ভাড়া ও পণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠেকাতে সরকারকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে, না হলে একশ্রেণির অসাধু চক্র এটিকে পুঁজি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেবে।
বাস ও ট্রাক ভাড়া ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। কৃষিতে সেচ ও শিল্পে কাঁচামাল পরিবহনের খরচ বৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই অতিরিক্ত বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার কাঁধেই পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
বিশেষ সতর্কতা: উচ্চ ইউভি ইনডেক্স এবং ভ্যাপসা গরমের কারণে পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
তথ্যসূত্র: গুগল ওয়েদার এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD)