ডিপফেক প্রযুক্তি কী, কীভাবে কাজ করে, এর সম্ভাবনা ও বিপদ কী — এই সম্পূর্ণ গাইডে জানুন ডিপফেকের বাস্তব ব্যবহার, ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য।
ডিপফেক প্রযুক্তি: ডিজিটাল যুগের নতুন বিপ্লব নাকি বিপদ?
আপনি একটি ভিডিও দেখলেন — একজন বিখ্যাত রাজনীতিবিদ বলছেন এমন কথা যা তিনি কখনো বলেননি। অথবা আপনার পরিচিত কারও মুখ ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে একটি ভুয়া ক্লিপ। এটাই ডিপফেক প্রযুক্তির শক্তি এবং একই সঙ্গে এর সবচেয়ে ভয়ংকর দিক।
বর্তমান ডিজিটাল দুনিয়ায় ডিপফেক প্রযুক্তি একটি আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে এটি চলচ্চিত্র, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে এটি মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ও মানুষের ক্ষতির হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
ডিপফেক প্রযুক্তি কী?
"ডিপফেক" শব্দটি এসেছে "Deep Learning" এবং "Fake" — এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে। এটি এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে একজন ব্যক্তির মুখ, কণ্ঠস্বর বা শরীরের নড়াচড়া অন্য একজনের ওপর বাস্তবসম্মতভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়।
সহজ ভাষায়, ডিপফেক দিয়ে এমন ভিডিও, ছবি বা অডিও তৈরি করা সম্ভব — যা দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি আসল নাকি নকল।
এই প্রযুক্তির মূলে রয়েছে Generative Adversarial Network (GAN) — একটি বিশেষ ধরনের নিউরাল নেটওয়ার্ক। এখানে দুটি AI মডেল একে অপরের বিরুদ্ধে কাজ করে: একটি নকল কনটেন্ট তৈরি করে, অন্যটি সেটি ধরার চেষ্টা করে। এই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই তৈরি হয় অবিশ্বাস্য রকম বাস্তবসম্মত নকল কনটেন্ট।
ডিপফেক কীভাবে তৈরি হয়?
ডিপফেক তৈরির প্রক্রিয়া মূলত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
১. ডেটা সংগ্রহ: প্রথমে টার্গেট ব্যক্তির প্রচুর ছবি, ভিডিও বা অডিও সংগ্রহ করা হয়। যত বেশি ডেটা, ফলাফল তত বেশি বাস্তবসম্মত।
২. মডেল ট্রেনিং: সংগৃহীত ডেটা দিয়ে AI মডেলকে ট্রেনিং দেওয়া হয়। মডেলটি মুখের ভাব, কণ্ঠের ওঠানামা, চোখের পলক — এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো শেখে।
৩. কনটেন্ট জেনারেশন: এরপর মডেলটি নতুন ভিডিও বা ছবিতে সেই শেখা বৈশিষ্ট্যগুলো প্রয়োগ করে সম্পূর্ণ নতুন কিন্তু মিথ্যা কনটেন্ট তৈরি করে।
আগে এই কাজে দিনের পর দিন এবং বিশেষজ্ঞ দল লাগত। কিন্তু এখন অনেক বিনামূল্যের অ্যাপ ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষও মিনিটের মধ্যে ডিপফেক তৈরি করতে পারছে।
ডিপফেক প্রযুক্তির ইতিবাচক সম্ভাবনা
ডিপফেক মানেই শুধু বিপদ নয়। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এই প্রযুক্তি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপ্লব আনতে পারে।
চলচ্চিত্র ও বিনোদন শিল্প
হলিউডসহ বিশ্বের বড় বড় চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে। মৃত অভিনেতাকে পুনরায় পর্দায় আনা, বয়স্ক অভিনেতাকে তরুণ দেখানো বা বিপজ্জনক দৃশ্যে ডুপ্লিকেট ব্যবহারের বদলে AI ব্যবহার করা এখন সম্ভব হচ্ছে।
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ
ইতিহাসের বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের ডিজিটালভাবে জীবন্ত করে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা যাচ্ছে। কল্পনা করুন, ক্লাসে রবীন্দ্রনাথ বা নেলসন ম্যান্ডেলা সরাসরি কথা বলছেন — শিক্ষা কতটা আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে!
চিকিৎসা ও থেরাপি
বাকশক্তিহীন রোগীদের জন্য তাদের নিজস্ব কণ্ঠ পুনরুদ্ধার করতে ডিপফেক অডিও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া মানসিক থেরাপিতেও এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে।
ভাষা ও অনুবাদ
কোনো বক্তার ভিডিও ভিন্ন ভাষায় ডাব করার সময় তার ঠোঁটের নড়াচড়াও সেই ভাষা অনুযায়ী পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে, যা কনটেন্টকে আরও স্বাভাবিক করে তুলছে।
ডিপফেক প্রযুক্তির ভয়াবহ ঝুঁকি
সম্ভাবনার পাশাপাশি ডিপফেকের অপব্যবহার এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মিথ্যা তথ্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতা
নির্বাচনের আগে প্রতিপক্ষ নেতার ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া এখন সহজ হয়ে গেছে। এই ধরনের রাজনৈতিক ডিপফেক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ব্যক্তিগত সম্মানহানি
ডিপফেকের সবচেয়ে বেশি অপব্যবহার হচ্ছে সাধারণ মানুষের, বিশেষত নারীদের বিরুদ্ধে। তাদের ছবি ব্যবহার করে অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে, যা তাদের সামাজিক ও মানসিক জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।
আর্থিক প্রতারণা
অডিও ডিপফেক ব্যবহার করে পরিচিতজনের কণ্ঠ নকল করে ফোনে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এভাবে কোটি টাকার প্রতারণার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
বিচার ব্যবস্থায় জটিলতা
আদালতে ভিডিও প্রমাণ এখন আর নিরাপদ নয়। ডিপফেক প্রযুক্তির কারণে "এটি আসল না নকল" — এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।
ডিপফেক শনাক্ত করবেন কীভাবে?
ডিপফেক ধরার জন্য কিছু বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে। চোখের পলকের অস্বাভাবিক গতি, মুখের কিনারায় ঝাপসা ভাব, আলোর প্রতিফলনে অসামঞ্জস্য এবং কণ্ঠস্বর ও ঠোঁটের নড়াচড়ার মধ্যে সামান্য পার্থক্য — এগুলো ডিপফেকের সাধারণ লক্ষণ।
এ ছাড়া Microsoft, Google ও Meta-সহ বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ডিপফেক ডিটেকশন টুল তৈরিতে বিনিয়োগ করছে। এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট, এআই দিয়েই শনাক্ত করার এই লড়াই এখন প্রযুক্তি জগতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
ডিপফেক ঠেকাতে আইন ও নীতি
বিশ্বের অনেক দেশ এখন ডিপফেকের বিরুদ্ধে আইন তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ক্ষতিকর ডিপফেক তৈরি ও প্রচার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় এ ধরনের অপরাধের বিচার করা সম্ভব।
তবে আইন তৈরির চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো সচেতনতা তৈরি করা — কারণ বেশিরভাগ মানুষ এখনো জানেন না যে তারা যা দেখছেন তা ডিপফেক হতে পারে।
ডিপফেকের ভবিষ্যৎ
প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ডিপফেক তৈরির খরচ ও জটিলতা তত কমছে। আগামী কয়েক বছরে রিয়েল-টাইম ডিপফেক সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় চলে আসবে। এর মানে হলো, ভবিষ্যতে আমরা যা দেখব তার সত্যতা যাচাই করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
তাই ডিপফেক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানো অপরিহার্য। প্রতিটি ভিডিও বা ছবি দেখার আগে উৎস যাচাই করা, অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা এবং সন্দেহজনক কনটেন্ট শেয়ার না করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
উপসংহার
ডিপফেক প্রযুক্তি আধুনিক বিজ্ঞানের একটি অসাধারণ অর্জন — এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যেকোনো শক্তিশালী প্রযুক্তির মতো এটিও দুধারি তলোয়ার। সঠিক ব্যবহারে এটি চলচ্চিত্র থেকে চিকিৎসা পর্যন্ত মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারে। আর অপব্যবহারে এটি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যই ঘুচিয়ে দিতে পারে।
এই প্রযুক্তির ভালো দিক কাজে লাগাতে এবং খারাপ দিক ঠেকাতে দরকার প্রযুক্তিগত সমাধান, কঠোর আইন এবং সর্বোপরি — সচেতন ও দায়িত্বশীল মানুষ।
এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন যে নিহতের পরিচয় এখনো জানা সম্ভব হয়নি তবে তাঁর মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলির একাধিক গভীর ক্ষত রয়েছে। রতন নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী কিশোরের বয়ান অনুযায়ী ওই ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে দ্রুত পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মাস্ক পরিহিত এক যুবক পেছন থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে প্রথমে দুটি গুলি চালায়।
এরপর ঘাতক যুবক দৌড়ে গিয়ে পড়ে যাওয়া লোকটির খুব কাছে গিয়ে আরও দুটি গুলি করে এবং সবশেষে অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাঁর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পুনরায় ট্রিগার চাপে। ঘটনার সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষ চিৎকার শুরু করলে হামলাকারী আতঙ্ক ছড়াতে একটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং দ্রুত দৌড়ে গিয়ে আগে থেকে প্রস্তুত থাকা একটি মোটরসাইকেলের পেছনে উঠে বিডিআর গেটের দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এই সেবা গ্রহণকারীদের লিঙ্গভিত্তিক তথ্যে দেখা যায় যে উপকারভোগীদের মধ্যে পুরুষ ছিলেন ৭ লাখ ৪ হাজার ৮৬৫ জন এবং নারী ছিলেন ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩৩৪ জন। পাশাপাশি ৭৫ হাজার ৪৬৩ জন শিশু এবং ৭৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিও সরকারের এই সহায়তায় ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছেন। ক্ষতিপূরণের আর্থিক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে শুধুমাত্র জেলা পর্যায়ের কার্যালয়গুলোর মাধ্যমেই মোট ৩১৪ কোটি ৯৮ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৯ টাকা আদায় করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানী ও বন্দর নগরীর শ্রমিক সহায়তা সেলগুলোর মধ্যস্থতায় আরও ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৯১৬ টাকা ভুক্তভোগী শ্রমিকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবার সারা দেশে ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূল মন্ত্রকে সামনে রেখে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২৬ পালিত হতে যাচ্ছে। এই উপলক্ষ্যে ঢাকার আবু সাঈদ কনভেনশন হলে একটি বিশেষ লিগ্যাল এইড মেলার আয়োজন করা হয়েছে যার শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সারা দেশের জেলাগুলোতেও এই দিনটি ঘিরে র্যালি, আলোচনা সভা, পথ প্রচার ও বিশেষ স্যুভেনিয়ার প্রকাশের মতো নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটিও সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে যেখানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। মূলত ২০০০ সালে এই আইনটি প্রণীত হলেও ২০০৯ সাল থেকে এর মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে গতিশীল হয় এবং অতি সম্প্রতি একে একটি পূর্ণাঙ্গ অধিদপ্তরে রূপ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বেইলি রোডে অবস্থিত প্রধান কার্যালয় ও সারা দেশের ৬৪টি জেলা অফিসের মাধ্যমে পরিচালিত এই বিনামূল্যে আইনি সেবা পেতে যেকোনো নাগরিককে ‘১৬৪৩০’ হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই তিন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাইনউদ্দিন খান। তিনি জানান যে, গত সোমবার বিকেলে সাত মাস বয়সী এক ছেলেশিশু মারা যায় যাকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গত ২২ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
ডা. মাইনউদ্দিন আরও তথ্য দেন যে, জামালপুরের মাদারগঞ্জ এলাকা থেকে আসা মাত্র চার মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান গত ২৩ এপ্রিল ভর্তি হওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। একই সাথে নেত্রকোনার দুর্গাপুর থেকে আসা পাঁচ মাস বয়সী অপর এক ছেলেশিশু গত ২০ এপ্রিল হামের সন্দেহ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও সোমবার দিবাগত রাতে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, মৃত এই তিন শিশু হামের লক্ষণের পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা ও রোগেও ভুগছিল।
হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত একদিনেই হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে আরও ৩২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে সব মিলিয়ে মোট ৭৪ জন শিশু চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করছে।
তদন্ত ও গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাব জানায়, গত শুক্রবার ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে বাসে চড়ে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। রাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনি শেষবারের মতো পরিবারের সদস্যদের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেন এবং জানান যে তিনি কুমিল্লার টমছমব্রিজ এলাকায় পৌঁছেছেন। বাস থেকে নামার পর বাকি পথটুকু যাওয়ার জন্য তিনি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই অটোরিকশাটি ছিল মূলত একটি পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের সাজানো ফাঁদ। ওই বাহনে থাকা চালকসহ চারজনই ছিল মূলত দুর্ধর্ষ অপরাধী এবং তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই রেলওয়ে ডাকাতির মামলা ছিল।
ছিনতাইকারীরা বুলেটকে অটোরিকশায় তুলে কোনো এক নির্জন এলাকার দিকে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত শুরু করে। সে সময় বুলেট কিছুটা তন্দ্রাচ্ছন্ন বা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকলেও ছিনতাইকারীরা যখন তাঁর সাথে থাকা ব্যাগ ও মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তখন তিনি বাধা দেন। ছিনতাইকারীদের সাথে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চক্রটি তাঁকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার আইরিশ হিল হোটেলের পাশের ফুটপাতে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। রাস্তার শক্ত ফুটপাতে পড়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পাওয়ায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরদিন শনিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার পাশে তাঁর রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে হাইওয়ে পুলিশকে অবহিত করে। পরবর্তীতে র্যাব-১১-এর একটি বিশেষ দল এই হত্যাকাণ্ডের ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে ঘাতক চক্রের ৫ জনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত ব্যাগটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত বুলেট বৈরাগী ছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর একমাত্র সন্তান। তিনি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন এবং কুমিল্লার রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় সপরিবারে বসবাস করতেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক তথ্য—আজ সোমবার ছিল বুলেটের একমাত্র সন্তান অব্যয় বৈরাগীর প্রথম জন্মদিন। দিনটি আনন্দময় পরিবেশে উদযাপনের কথা থাকলেও তার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন এই মেধাবী কর্মকর্তা। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহাসিক উলশী খাল পুনর্খনন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বলেন।
তারেক রহমান তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, দেশের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় এখন তাদের জন্য এলপিজি কার্ড প্রবর্তন করা হবে।
দেশের অন্নদাতা কৃষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকরাই আমাদের জাতীয় অহংকার, আর তাই তাদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে সরকার ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।
গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা তথা ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সাথে অঙ্গীকার করেন যে, এই সনদের প্রতিটি শব্দ এবং প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সরকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে।
এর আগে আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং সেখান থেকে তিনি সরাসরি শার্শা উপজেলায় গিয়ে উলশী খাল পুনর্খনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন।
পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, শার্শার কর্মসূচি শেষে তিনি যশোর সার্কিট হাউসে স্বল্প বিরতি নেবেন এবং বিকেলে বহুল প্রতীক্ষিত যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এরপর তিনি যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন।
দিনের সকল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যায় তিনি যশোর বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন এবং রাতেই তাঁর রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।