১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি হলো ডিজিটাল ই-অ্যারাইভাল কার্ড। আগে বিমানে বা স্থলবন্দরে প্রবেশের সময় হাতে লিখে একটি ইমিগ্রেশন কার্ড পূরণ করতে হতো। এখন থেকে সেই প্রথা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
নিয়মাবলি:
বর্তমানে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন শোনা যাচ্ছে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে যে স্থবিরতা শুরু হয়েছিল, ২০২৬-এর এই সময়ে এসে তা অনেকটাই কেটে যাওয়ার মুখে।
সর্বশেষ আপডেট: বর্তমানে ভারত সরকার সীমিত পরিসরে 'ফ্যামিলি ভিজিট' এবং বিশেষ প্রয়োজনে ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান করছে। তবে গত কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা অনুযায়ী, আগামী মে ২০২৬-এর মধ্যে সাধারণ ট্যুরিস্ট ভিসা পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের চাপ সামলাতে ভারতীয় আইভ্যাক (IVAC) সেন্টারগুলো তাদের স্লট সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যাদের গুরুতর অসুস্থতা রয়েছে, তাদের জন্য মেডিকেল ভিসা পাওয়া এখন আগের চেয়ে সহজ করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেডিকেল ভিসার আবেদন যাচাই করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া এখন প্রায় স্বাভাবিক। যারা ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন, তারা কনফার্মেশন লেটার দেখালে দ্রুত ভিসা পাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা প্রদানের হার ২০% বাড়ানো হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকা (যমুনা ফিউচার পার্ক), চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট এবং খুলনার আইভ্যাক সেন্টারগুলো পূর্ণোদ্যমে কাজ করছে। তবে দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে বায়োমেট্রিক সিস্টেমে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
অনেকেই জানতে চান কোন রুট দিয়ে যাতায়াত করা সুবিধাজনক। বর্তমানে বেনাপোল-পেট্রাপোল, আখাউড়া-আগরতলা এবং বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি স্থলবন্দরগুলোতে ভিড় সবচেয়ে বেশি।
ভারতীয় ভিসার আবেদন ফি (Processing Fee) বর্তমানে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে (ক্যাটাগরি ভেদে ভিন্ন হতে পারে)। এটি সাধারণত অনলাইনে বা অনুমোদিত ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। অতিরিক্ত কোনো অর্থ লেনদেন না করার জন্য হাই-কমিশন বারবার সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫% আবেদন বাতিল হচ্ছে ছোটখাটো ভুলের কারণে। রিজেকশন এড়াতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:
ভারত ভ্রমণে যাওয়ার আগে অবশ্যই আপনার স্মার্টফোনে 'সু-স্বাগতম' অ্যাপটি ইনস্টল করে নিন। ভারতের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে প্রবেশের টিকেট এখন অনলাইনে এই অ্যাপের মাধ্যমে কাটা যায়, যা লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা কমায়। এছাড়া আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ৬ মাস আছে কি না তা ভ্রমণের আগেই নিশ্চিত করুন।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার কারণে ভিসা প্রক্রিয়া দীর্ঘকাল বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। ২০২৬ সালের এই দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে আমরা আশা করতে পারি, খুব শীঘ্রই পর্যটন শিল্প আবারও প্রাণ ফিরে পাবে। আপনি যদি ভারত ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গোছাতে শুরু করুন এবং নিয়মিত ভারতীয় হাই-কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন।
সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীরের (ঢাকা-১৮) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। মাথাপিছু আয় আরও বৃদ্ধির জন্য সরকার কেবল নির্দিষ্ট কোনো একটি খাতের ওপর নির্ভর না করে বহুমাত্রিক কৌশল গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, উৎপাদন, রপ্তানি এবং প্রবাস আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে একত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বেকারত্ব কমাতে উৎপাদনশীল খাত, নির্মাণ, সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে ব্যাপক কাজের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন এবং বাজার সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে পারিবারিক ও জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।”
বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর ফলে দেশে নতুন নতুন কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এছাড়া নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ উৎসাহমূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধানের পাশাপাশি প্রবাস আয় বা রেমিট্যান্স বাড়াতে বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করার কাজ চলমান রয়েছে।
গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা করার পরিকল্পনা সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী জানান, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এসব উদ্যোগের একটি বড় অংশ বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এবং বাকি পদক্ষেপগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে। অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে। সরকারি দলের সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সঠিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমেই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মাইলফলক স্পর্শ করা সম্ভব হবে।
ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইয়িংস্টের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তার প্রশাসন ইরানের দীর্ঘদিনের সরকারকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছিল। সাক্ষাৎকারের উদ্ধৃতি দিয়ে আল জাজিরা জানায়, ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, “আমরা বিক্ষোভকারীদের জন্য অনেক অস্ত্র পাঠিয়েছি। আমরা কুর্দিদেরও অস্ত্র দিয়েছি, যা তারা নিজেদের কাছে রেখেছে।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলছে এবং তেহরানের সঙ্গে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের শপিং এলাকায় অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা দ্রুতই দেশজুড়ে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনে রূপ নেয়। মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের বিশেষ দূত মাই সোটোর তথ্যমতে, জানুয়ারির শুরুর দিকে ইরানি কর্তৃপক্ষের কঠোর দমনে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। বিক্ষোভ দমনের পর বেশ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং আরও অনেকে কারান্তরীণ রয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই এই বিক্ষোভকে ‘ইরানকে স্বাধীন করার’ আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করে আসছিলেন। গত ১৩ জানুয়ারি তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানি বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে লিখেছিলেন, “সাহায্য আসছে।” পরবর্তীতে ২৮ ফেব্রুয়ারির সামরিক হামলাকেও তিনি এই বিক্ষোভ এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার প্রচেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করেন।
তবে ট্রাম্পের এই অস্ত্র সরবরাহের দাবি নিয়ে খোদ ইরানি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেই ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। কুর্দি জাতীয়তাবাদী দল (কেডিপিআই) এবং কমালা পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো ধরনের অস্ত্র সহায়তা পায়নি। বিশ্লেষক নীল কুইলিয়াম মনে করেন, ট্রাম্পের মন্তব্য প্রায়শই পরিবর্তনশীল হওয়ায় এর সত্যতা যাচাই করা কঠিন। তবে এ ধরনের বক্তব্য ইরানি বিরোধীদের আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিভ্রান্ত করতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মৃত্যুর আগে ১৭ জানুয়ারি এক ভাষণে বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে তিনি এই সহিংসতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত গোষ্ঠীকে দায়ী করে ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, নিহত ৫ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন এবং সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কুর্দিস্তান অঞ্চল। বর্তমানে চলমান যুদ্ধের ৩৮তম দিনে ইরানে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে এবং ২৬ হাজার মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনাকে নতুন মাত্রা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান এমন একটি দেশ যেখানে আপনি একই সাথে পাবেন মরুভূমি, পাহাড় এবং সমুদ্র। শিরাজের গোলাপী মসজিদ, ইসফাহানের ঐতিহাসিক হাফত শেহিদ স্কয়ার কিংবা তেহরানের আধুনিক জীবনযাত্রা—সবকিছুই আপনাকে মুগ্ধ করবে। এছাড়া ইরানিদের আতিথেয়তা সারা বিশ্বে সমাদৃত। বাংলাদেশিদের জন্য ইরানের প্রতি এই আকর্ষণ এখন আরও বেড়েছে সহজ ভিসা নীতির কারণে।
ইরান সরকার তাদের পর্যটন খাতকে চাঙ্গা করতে ই-ভিসা বা ইলেকট্রনিক ভিসা পদ্ধতি চালু করেছে। এটি সরাসরি অনলাইনে আবেদন করা যায়।
১. প্রথমে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট evisa.mfa.ir এ যান।
২. "Apply Now" বাটনে ক্লিক করে ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন।
৩. আপনার পাসপোর্ট কপি (স্ক্যান করা) এবং ডিজিটাল ছবি আপলোড করুন।
৪. আবেদনের পর একটি ট্র্যাকিং নম্বর পাবেন। সাধারণত ৩ থেকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে আপনার ইমেইলে 'ভিসা গ্র্যান্ট নোটিশ' চলে আসবে।
আপনি যদি আগে থেকে ভিসা না করে সরাসরি ইরানের বিমানবন্দরে গিয়ে ভিসা নিতে চান, তবে তাকে অন-অ্যারাইভাল ভিসা বলে। তেহরানের ইমাম খোমেনী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ (IKA) প্রধান প্রধান বিমানবন্দরে এই সুবিধা পাওয়া যায়।
সাধারণত পর্যটন (Tourist) উদ্দেশ্যে যারা যান, তারা ৩০ দিনের জন্য এই ভিসা পেতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, বিজনেস বা অন্য কোনো কাজের জন্য এই ভিসা প্রযোজ্য নয়।
বাংলাদেশিদের জন্য ইরান ভিসার ফি সাধারণত নির্দিষ্ট নয়, এটি সময় সময় পরিবর্তন হতে পারে। ই-ভিসার ক্ষেত্রে গ্র্যান্ট নোটিশ পাওয়ার পর ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসে গিয়ে ফি জমা দিতে হয়। আর অন-অ্যারাইভাল ভিসার ক্ষেত্রে সরাসরি বিমানবন্দরে ইউরো বা ডলারে ফি পরিশোধ করতে হয়। সাধারণত ৫০ থেকে ৮০ ইউরোর মতো খরচ হতে পারে।
একটি গোছানো আর্টিকেল হিসেবে আপনার পাঠকদের জন্য নিচের তালিকাটি অত্যন্ত কার্যকর হবে:
ভিসা পাওয়ার পাশাপাশি এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে আপনার ভ্রমণ হবে নিরাপদ:
ভিসা আবেদন করার সময় ছোটখাটো কিছু ভুলের কারণে ভিসা রিজেক্ট হতে পারে:
আপনি যদি ঝামেলা এড়াতে চান, তবে কোনো অভিজ্ঞ ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে 'ভিসা অথরাইজেশন কোড' সংগ্রহ করতে পারেন। এই কোড থাকলে ভিসা রিজেকশন হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য শতাংশ।
ইরান রহস্যময় এবং সুন্দর একটি দেশ। বাংলাদেশিদের জন্য বর্তমানের ই-ভিসা প্রক্রিয়া দেশটিকে পর্যটনের জন্য আরও উন্মুক্ত করে দিয়েছে। আপনি যদি স্থাপত্য, ইতিহাস আর পাহাড় ভালোবাসেন, তবে আপনার পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে পারস্য বা আজকের ইরান। সঠিক নিয়ম মেনে আবেদন করলে ভিসা পাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
দেশের এভিয়েশন খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। সোমবার সকালে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানমের সঙ্গে বোয়িংয়ের প্রতিনিধিদলের এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বোয়িংয়ের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি। এসময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বোয়িং ও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির কারিগরি ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
আলোচনা চলাকালে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি বাংলাদেশের এভিয়েশন বাজারের প্রসারে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বিশেষ করে বি৭৩৭ (B737) সিরিজের ন্যারোবডি উড়োজাহাজগুলো লিজ দেওয়ার বিষয়ে বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। রিগি জানান, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সিরিজের উড়োজাহাজগুলো অভ্যন্তরীণ ও স্বল্প দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বৈঠকে জানান, যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমান বহরে দ্রুত নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি কোনো প্রকার বিলম্ব না করে যত দ্রুত সম্ভব লিজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, বোয়িংয়ের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় উভয় পক্ষ আরও কয়েক দফা কারিগরি বৈঠকে বসবে। বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত শর্তাবলী পর্যালোচনা করে দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে। বর্তমানে বিমানের বহরে থাকা উড়োজাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন করে ন্যারোবডি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার বিষয়টি দেশের আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের অভিযানের আড়ালে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে তেহরান। সোমবার এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি করে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। দেশটির দাবি, গত শুক্রবার ভূপাতিত হওয়া এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় পাইলটকে উদ্ধারের নাম করে পরিচালিত এই মার্কিন অভিযানটি আসলে একটি 'প্রতারণামূলক মিশন' ছিল।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত ওই উদ্ধার অভিযানের ঘটনাপ্রবাহে ‘অনেক প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা’ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, যেখানে মার্কিন পাইলট অবস্থান করছেন বলে দাবি করা হয়েছে এবং যেখানে মার্কিন বাহিনী অবতরণ করার চেষ্টা করেছে—এই দুটি স্থানের মধ্যে কোনো মিল নেই। বাঘায়ি আরও বলেন, “এটি যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির লক্ষ্য নিয়ে সাজানো একটি প্রতারণামূলক অভিযান ছিল, সেই সম্ভাবনাকে আমরা কোনোভাবেই উড়িয়ে দিচ্ছি না।”
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, মার্কিন বাহিনী অত্যন্ত ‘দুঃসাহসিক’ এক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে সফলভাবে তাদের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করেছে। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী শুরু থেকেই ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তেহরানের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে একটি ‘বিপর্যয়’ এবং ‘ব্যর্থ পালানোর মিশন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন উদ্ধারকারী দল যখন অবতরণের চেষ্টা করছিল, তখন ইরানি বাহিনীর পাল্টা আঘাতে বেশ কয়েকটি মার্কিন বিমান ইসফাহান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে এবং নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকায় ভূপাতিত হওয়া নিজস্ব বিমানগুলোতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে সেগুলোকে ধ্বংস করে দেয় বলে দাবি করেছে ইরান।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির এই অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান যুদ্ধাবস্থাকে আরও জটিল করে তুলবে। ইরান এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতারণা’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন তাদের পাইলট উদ্ধারের দাবিকে সত্য বলে প্রচার করলেও ইসফাহান প্রদেশের সেই নির্দিষ্ট স্থানে অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। আপাতত দুই দেশের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি দাবি ও সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে সোমবার দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সময় বাড়ানোর জোরালো আবেদন জানালে প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার একগুচ্ছ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচী সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয় এবং সন্ধ্যা ৬টার পর সকল দোকান ও শপিংমল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে জনস্বার্থ বিবেচনা করে কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য জরুরি সেবাকে এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রাখা হয়।
সরকারের এই প্রাথমিক সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। সংগঠনটি দাবি করেছিল যে, দেশে প্রায় ৭০ লাখ দোকান মালিক এবং আড়াই কোটির বেশি কর্মচারীর জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। তারা সকাল ৯টার পরিবর্তে বেলা ১১টা থেকে দোকান খুলে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু রাখার বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিল। ব্যবসায়ীদের এই উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রবিবার সময় বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যা সোমবার চিঠির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হলো।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এই নতুন সময়সীমা বাস্তবায়নে কাজ করবে। জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে সন্ধ্যা ৭টার পর দোকানপাট বন্ধ করার নিয়মটি কঠোরভাবে তদারকি করা হবে বলেও মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে। আপাতত এই নতুন সময়সূচী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।