ভূমিকা
সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপক প্রসারের সাথে সাথে ফেইক
আইডি ও গুপ্ত আইডির সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার বা অন্য যেকোনো প্ল্যাটফর্মে ভুয়া পরিচয় দিয়ে অনেকেই প্রতারণা, হয়রানি বা গোয়েন্দাগিরি করে থাকে। এই ধরনের অ্যাকাউন্ট থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হলে আগে জানতে হবে — ফেইক আইডি চেনার উপায় কী এবং কীভাবে গুপ্ত আইডি শনাক্ত করা যায়।
এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব কীভাবে একটি ভুয়া বা সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট চেনা যায় এবং নিজেকে নিরাপদ রাখা যায়।
ফেইক আইডি কী এবং কেন তৈরি হয়?
ফেইক আইডি বলতে বোঝায় এমন একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট যেখানে ব্যবহারকারী তার আসল পরিচয় লুকিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে। সাধারণত নিচের কারণগুলোর জন্য ফেইক আইডি তৈরি করা হয়:
প্রতারণার উদ্দেশ্যে — অর্থ হাতিয়ে নেওয়া বা বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা। হয়রানি করতে — কাউকে মানসিকভাবে কষ্ট দেওয়া বা ব্ল্যাকমেইল করা। গোপনে নজরদারি করতে — কারো ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা। পরিচয় চুরি করতে — অন্য কারো ছবি ও তথ্য ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলা। রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক স্বার্থে — মিথ্যা প্রচারণা চালানো।
ফেইক আইডি চেনার প্রধান লক্ষণ
১. প্রোফাইল ছবিতে অসঙ্গতি
ফেইক আইডির সবচেয়ে সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো প্রোফাইল ছবি। সাধারণত এই অ্যাকাউন্টগুলোতে হয় কোনো প্রোফাইল ছবি থাকে না, অথবা ইন্টারনেট থেকে নামানো কোনো সুন্দর মডেলের ছবি ব্যবহার করা হয়। Google Reverse Image Search ব্যবহার করে আপনি সহজেই যাচাই করতে পারবেন ছবিটি আসল নাকি কোথাও থেকে নেওয়া।
এছাড়া যদি দেখেন প্রোফাইলে খুব কম ছবি আছে, বা সব ছবিতে একই ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে একা থাকেন এবং কোনো পরিবার বা বন্ধুর সাথে ছবি নেই — তাহলে সতর্ক হোন।
২. অ্যাকাউন্ট তৈরির তারিখ ও কার্যক্রম
একটি স্বাভাবিক অ্যাকাউন্ট ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। কিন্তু ফেইক আইডি সাধারণত সম্প্রতি তৈরি করা হয় এবং হঠাৎ করেই অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে পড়ে। যদি দেখেন কোনো অ্যাকাউন্ট মাত্র কয়েক মাস আগে তৈরি হয়েছে কিন্তু হাজার হাজার বন্ধু বা ফলোয়ার আছে — এটি সন্দেহজনক।
৩. ব্যক্তিগত তথ্যে অসম্পূর্ণতা
ফেইক আইডিতে সাধারণত কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জন্মতারিখ বা এলাকার তথ্য অনুপস্থিত বা অস্পষ্ট থাকে। কিংবা যদি তথ্য থাকেও, সেগুলো অযৌক্তিকভাবে অসঙ্গত হয়। যেমন — একজন কথিত ডাক্তার যার কোনো পেশাগত পোস্ট নেই বা কোনো মেডিকেল গ্রুপে সংযুক্ততা নেই।
৪. বন্ধু তালিকায় অস্বাভাবিকতা
ফেইক আইডির বন্ধু তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় — হয় বন্ধু সংখ্যা অনেক কম, অথবা বন্ধুরা সবাই একই এলাকার বা একই গোষ্ঠীর। অনেক ক্ষেত্রে পারস্পরিক পরিচিত বন্ধু থাকে না। স্বাভাবিক অ্যাকাউন্টে সাধারণত বিভিন্ন পর্যায়ের পরিচিত মানুষ থাকে।
৫. পোস্ট ও কমেন্টের ধরন
ফেইক আইডি সাধারণত নিজে থেকে খুব কম পোস্ট করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুধু অন্যদের পোস্টে লাইক দেয় বা উসকানিমূলক মন্তব্য করে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পরিবার বা দৈনন্দিন জীবনের কোনো পোস্ট থাকে না। যদি কেউ শুধু একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে বা একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম চালায়, সেটি গুপ্ত উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয়।
গুপ্ত আইডি চেনার বিশেষ কৌশল
গুপ্ত আইডি হলো এমন অ্যাকাউন্ট যেখানে আসল পরিচয় লুকানো থাকে — হয়তো নাম পরিবর্তন করা হয়েছে বা পুরোপুরি ছদ্মনাম ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ধরনের আইডি চেনা তুলনামূলকভাবে কঠিন, তবে কিছু কৌশল অনুসরণ করলে সম্ভব।
লেখার ধরন বিশ্লেষণ করুন: অনেক সময় মানুষ পরিচয় বদলালেও লেখার স্টাইল, ব্যবহৃত শব্দ বা বাক্যের গঠন একই থাকে। যদি সন্দেহ হয় কেউ পরিচিত মানুষ গুপ্ত আইডি দিয়ে যোগাযোগ করছে, তাহলে তার লেখার ধরনের সাথে পরিচিতদের তুলনা করুন।
যোগাযোগের সময় ও প্যাটার্ন লক্ষ্য করুন: গুপ্ত আইডি পরিচালনাকারী ব্যক্তি সাধারণত একই সময়ে অনলাইনে থাকে যখন তার আসল আইডিটি অফলাইন থাকে। এই প্যাটার্ন লক্ষ্য করলে অনেক কিছু বোঝা যায়।
সাধারণ পরিচিতের মাধ্যমে যাচাই করুন: যদি কোনো অপরিচিত আইডি থেকে বন্ধুত্বের অনুরোধ আসে, দেখুন তাদের মিউচুয়াল ফ্রেন্ড কারা। সেই মিউচুয়াল ফ্রেন্ডের কাছে জিজ্ঞেস করুন তারা এই ব্যক্তিকে চেনেন কিনা।
ফেইক আইডি শনাক্তের অনলাইন টুলস
আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ফেইক আইডি চেনা এখন আরও সহজ হয়েছে। Google Reverse Image Search দিয়ে প্রোফাইল ছবির উৎস খুঁজে বের করা যায়। Social Catfish পরিচয় যাচাইয়ের একটি জনপ্রিয় টুল। Spokeo বা BeenVerified দিয়ে ব্যক্তির তথ্য ক্রস-চেক করা যায়। আর BotSentinel টুইটারে বট বা ফেইক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
ফেইক আইডি থেকে নিজেকে রক্ষার উপায়
শুধু ফেইক আইডি চেনাই যথেষ্ট নয়, নিজেকে সুরক্ষিত রাখাও জরুরি।
অপরিচিতদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করবেন না — যাদের চেনেন না বা যাদের মিউচুয়াল ফ্রেন্ড নেই। প্রাইভেসি সেটিং আপডেট রাখুন — পোস্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য শুধু বিশ্বস্তদের জন্য দৃশ্যমান রাখুন। সন্দেহজনক আইডি রিপোর্ট করুন — ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ সব প্ল্যাটফর্মে ফেইক আইডি রিপোর্টের সুবিধা আছে। ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না — ফোন নম্বর, ঠিকানা বা আর্থিক তথ্য কখনো অনলাইনে অপরিচিতদের দেবেন না। দ্বি-স্তরীয় যাচাইকরণ চালু করুন — নিজের অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে Two-Factor Authentication ব্যবহার করুন।
উপসংহার
ডিজিটাল যুগে ফেইক আইডি ও গুপ্ত আইডি চেনা একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। সামান্য সচেতনতা এবং কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করলেই আপনি ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে নিজেকে এবং আপনার প্রিয়জনদের সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। প্রোফাইল ছবি যাচাই, অ্যাকাউন্টের কার্যক্রম বিশ্লেষণ এবং অনলাইন টুলসের সহায়তায় ফেইক আইডি শনাক্ত করুন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নিরাপদ থাকুন।
যদি কোনো অ্যাকাউন্টকে সন্দেহজনক মনে হয়, দেরি না করে রিপোর্ট করুন — কারণ একটি রিপোর্ট অনেকের ক্ষতি ঠেকাতে পারে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন যে নিহতের পরিচয় এখনো জানা সম্ভব হয়নি তবে তাঁর মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলির একাধিক গভীর ক্ষত রয়েছে। রতন নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী কিশোরের বয়ান অনুযায়ী ওই ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে দ্রুত পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মাস্ক পরিহিত এক যুবক পেছন থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে প্রথমে দুটি গুলি চালায়।
এরপর ঘাতক যুবক দৌড়ে গিয়ে পড়ে যাওয়া লোকটির খুব কাছে গিয়ে আরও দুটি গুলি করে এবং সবশেষে অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাঁর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পুনরায় ট্রিগার চাপে। ঘটনার সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষ চিৎকার শুরু করলে হামলাকারী আতঙ্ক ছড়াতে একটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং দ্রুত দৌড়ে গিয়ে আগে থেকে প্রস্তুত থাকা একটি মোটরসাইকেলের পেছনে উঠে বিডিআর গেটের দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এই সেবা গ্রহণকারীদের লিঙ্গভিত্তিক তথ্যে দেখা যায় যে উপকারভোগীদের মধ্যে পুরুষ ছিলেন ৭ লাখ ৪ হাজার ৮৬৫ জন এবং নারী ছিলেন ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩৩৪ জন। পাশাপাশি ৭৫ হাজার ৪৬৩ জন শিশু এবং ৭৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিও সরকারের এই সহায়তায় ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছেন। ক্ষতিপূরণের আর্থিক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে শুধুমাত্র জেলা পর্যায়ের কার্যালয়গুলোর মাধ্যমেই মোট ৩১৪ কোটি ৯৮ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৯ টাকা আদায় করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানী ও বন্দর নগরীর শ্রমিক সহায়তা সেলগুলোর মধ্যস্থতায় আরও ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৯১৬ টাকা ভুক্তভোগী শ্রমিকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবার সারা দেশে ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূল মন্ত্রকে সামনে রেখে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২৬ পালিত হতে যাচ্ছে। এই উপলক্ষ্যে ঢাকার আবু সাঈদ কনভেনশন হলে একটি বিশেষ লিগ্যাল এইড মেলার আয়োজন করা হয়েছে যার শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সারা দেশের জেলাগুলোতেও এই দিনটি ঘিরে র্যালি, আলোচনা সভা, পথ প্রচার ও বিশেষ স্যুভেনিয়ার প্রকাশের মতো নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটিও সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে যেখানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। মূলত ২০০০ সালে এই আইনটি প্রণীত হলেও ২০০৯ সাল থেকে এর মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে গতিশীল হয় এবং অতি সম্প্রতি একে একটি পূর্ণাঙ্গ অধিদপ্তরে রূপ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বেইলি রোডে অবস্থিত প্রধান কার্যালয় ও সারা দেশের ৬৪টি জেলা অফিসের মাধ্যমে পরিচালিত এই বিনামূল্যে আইনি সেবা পেতে যেকোনো নাগরিককে ‘১৬৪৩০’ হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই তিন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাইনউদ্দিন খান। তিনি জানান যে, গত সোমবার বিকেলে সাত মাস বয়সী এক ছেলেশিশু মারা যায় যাকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গত ২২ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
ডা. মাইনউদ্দিন আরও তথ্য দেন যে, জামালপুরের মাদারগঞ্জ এলাকা থেকে আসা মাত্র চার মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান গত ২৩ এপ্রিল ভর্তি হওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। একই সাথে নেত্রকোনার দুর্গাপুর থেকে আসা পাঁচ মাস বয়সী অপর এক ছেলেশিশু গত ২০ এপ্রিল হামের সন্দেহ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও সোমবার দিবাগত রাতে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, মৃত এই তিন শিশু হামের লক্ষণের পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা ও রোগেও ভুগছিল।
হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত একদিনেই হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে আরও ৩২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে সব মিলিয়ে মোট ৭৪ জন শিশু চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করছে।
তদন্ত ও গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাব জানায়, গত শুক্রবার ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে বাসে চড়ে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। রাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনি শেষবারের মতো পরিবারের সদস্যদের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেন এবং জানান যে তিনি কুমিল্লার টমছমব্রিজ এলাকায় পৌঁছেছেন। বাস থেকে নামার পর বাকি পথটুকু যাওয়ার জন্য তিনি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই অটোরিকশাটি ছিল মূলত একটি পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের সাজানো ফাঁদ। ওই বাহনে থাকা চালকসহ চারজনই ছিল মূলত দুর্ধর্ষ অপরাধী এবং তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই রেলওয়ে ডাকাতির মামলা ছিল।
ছিনতাইকারীরা বুলেটকে অটোরিকশায় তুলে কোনো এক নির্জন এলাকার দিকে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত শুরু করে। সে সময় বুলেট কিছুটা তন্দ্রাচ্ছন্ন বা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকলেও ছিনতাইকারীরা যখন তাঁর সাথে থাকা ব্যাগ ও মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তখন তিনি বাধা দেন। ছিনতাইকারীদের সাথে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চক্রটি তাঁকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকার আইরিশ হিল হোটেলের পাশের ফুটপাতে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। রাস্তার শক্ত ফুটপাতে পড়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পাওয়ায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরদিন শনিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার পাশে তাঁর রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে হাইওয়ে পুলিশকে অবহিত করে। পরবর্তীতে র্যাব-১১-এর একটি বিশেষ দল এই হত্যাকাণ্ডের ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে ঘাতক চক্রের ৫ জনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত ব্যাগটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত বুলেট বৈরাগী ছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর একমাত্র সন্তান। তিনি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন এবং কুমিল্লার রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় সপরিবারে বসবাস করতেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক তথ্য—আজ সোমবার ছিল বুলেটের একমাত্র সন্তান অব্যয় বৈরাগীর প্রথম জন্মদিন। দিনটি আনন্দময় পরিবেশে উদযাপনের কথা থাকলেও তার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন এই মেধাবী কর্মকর্তা। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহাসিক উলশী খাল পুনর্খনন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বলেন।
তারেক রহমান তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, দেশের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় এখন তাদের জন্য এলপিজি কার্ড প্রবর্তন করা হবে।
দেশের অন্নদাতা কৃষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকরাই আমাদের জাতীয় অহংকার, আর তাই তাদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে সরকার ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।
গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা তথা ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়তার সাথে অঙ্গীকার করেন যে, এই সনদের প্রতিটি শব্দ এবং প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সরকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে।
এর আগে আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং সেখান থেকে তিনি সরাসরি শার্শা উপজেলায় গিয়ে উলশী খাল পুনর্খনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন।
পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, শার্শার কর্মসূচি শেষে তিনি যশোর সার্কিট হাউসে স্বল্প বিরতি নেবেন এবং বিকেলে বহুল প্রতীক্ষিত যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এরপর তিনি যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন।
দিনের সকল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যায় তিনি যশোর বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন এবং রাতেই তাঁর রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
যদিও মূল টিকিটের দাম সাধারণত ফিফার নিয়ন্ত্রণে থাকে তবে পুনবিক্রয় বা রিসেল বাজারে বিক্রেতারা নিজেদের মর্জিমতো দাম নির্ধারণের সুযোগ পান। আর এই বিপুল অঙ্কের লেনদেন থেকে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাও বড় অংকের কমিশন পকেটে পুরবে কারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি টিকিট বিক্রি থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষ থেকে ১৫ শতাংশ করে মোট ৩০ শতাংশ ফি কেটে নেওয়া হয়। সেই হিসেব অনুযায়ী শুধুমাত্র এই চারটি টিকিট সফলভাবে বিক্রি হলেই ফিফার কমিশন বাবদ আয় হবে প্রায় ২৬ লাখ ৯৯ হাজার ডলার বা ৩৩ কোটি টাকারও বেশি। তবে যারা সরাসরি অফিশিয়াল দামে টিকিট কেনার অপেক্ষায় আছেন তাদের জন্যও খুব একটা আশার আলো নেই কারণ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবার টিকিটের দাম অন্তত চার গুণ বেশি বাড়ানো হয়েছে। ফাইনাল ম্যাচের জন্য সবচেয়ে কম দামি টিকিটের মূল্যই ধরা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৯২৩ ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৩ লাখ টাকার কাছাকাছি। একইভাবে সেমিফাইনাল ম্যাচগুলোর টিকিটের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যেখানে টেক্সাসের আর্লিংটনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেমিফাইনালের টিকিট ১১ হাজার ১৩০ ডলার এবং আটলান্টার সেমিফাইনালের টিকিট ৪ হাজার ৩৬০ থেকে ৯ হাজার ৬৬০ ডলারের মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। উল্লেখ্য যে আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের।