সকালে ঘুম ভাঙে ফোনের অ্যালার্মে, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেও শেষবার একটু স্ক্রল করে নিই। খাবার টেবিলে, বাসে, এমনকি বন্ধুদের আড্ডায় — ফোন আমাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী। কিন্তু এই সঙ্গ কি আমাদের আসলে কাছে টানছে, নাকি নিজেদের থেকেই দূরে সরিয়ে দিচ্ছে?
স্মার্টফোন আধুনিক জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু যখন এটি প্রয়োজন থেকে আসক্তিতে পরিণত হয়, তখনই শুরু হয় আসল সমস্যা।
বাংলাদেশে স্মার্টফোন আসক্তির চিত্র — সংখ্যায়
বিশ্বের ৯২ শতাংশ মানুষের হাতে এখন মোবাইল ফোন, এবং এর মধ্যে ৩১ শতাংশ কখনোই তাদের ফোন বন্ধ করেন না। (Prothomalo)
বাংলাদেশের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের প্রায় ৮৬ শতাংশ শিশু স্কুলে ভর্তির আগেই স্মার্টফোনে আসক্ত, যার মধ্যে ২৯ শতাংশের আসক্তি মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। (Rupalibangladesh)
বাংলাদেশের শিশুরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা স্মার্টফোন ব্যবহার করে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত সর্বোচ্চ সময়ের প্রায় ৩ গুণ। (Prothomalo) আর মাত্র ১৪ শতাংশ শিশু পড়াশোনার উদ্দেশ্যে স্মার্টফোন ব্যবহার করে।
কীভাবে তৈরি হয় এই আসক্তি?
স্মার্টফোন আসক্তি সৃষ্টিকারী একটি যন্ত্র — এটি এমনভাবেই বানানো হয় যেন সব সময় নাড়াচাড়া করতে ইচ্ছে করে। ফোনের সঙ্গে ইন্টারনেট যুক্ত হয়ে এই আসক্তির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। (Daily Janakantha)
নিউরোবিজ্ঞানী ওয়েন্ডি সুজুকি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া হচ্ছে কয়েন ফেলে স্লট মেশিনের হাতল টানার মতো। হোম পেজে স্ক্রল করলেই সুন্দর ছবি, একটু পরপর আসে নোটিফিকেশন আর কমেন্ট — এতে মস্তিষ্কে ডোপামিন নির্গত হয়। (Prothomalo) এই ডোপামিনের টানেই আমরা বারবার ফোনে ফিরে যাই।
স্মার্টফোন আসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব
মস্তিষ্কের ক্ষতি
স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ক্রমাগত ব্যবহারের কারণে মানুষের মস্তিষ্কের বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমছে বলে জানিয়েছেন নিউরোবিজ্ঞানীরা। ক্রমাগত নোটিফিকেশন, লাইক-কমেন্টস আর নতুন কন্টেন্ট দেখার মাধ্যমে মস্তিষ্কে ক্রমাগত ডোপামিন তৈরি হয় এবং দুশ্চিন্তার প্রতিক্রিয়া দেখায়। (Prothomalo)
শিশুদের বিকাশে বাধা
স্মার্টফোন আসক্তির কারণে দুই-তিন বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে 'স্পিচ রিগ্রেশন' দেখা দিচ্ছে — অর্থাৎ এই শিশুরা বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছে না। (Prothomalo) এছাড়া মাথাব্যথা, মাইগ্রেন এবং দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার কারণে ১০ বছরের নিচে অনেক শিশুকেই চশমা পরতে হচ্ছে।
পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট
ফোন ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় আচরণগত, মানসিক ও চিন্তাধারার নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কে ক্ষতি, ফোন না পেলে আতঙ্কিত হয়ে যাওয়া এবং সৃজনশীলতায় বাধা — এগুলোর মূলেও স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার। (The Business Standard)
সাইবার বুলিং ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ৫৯ শতাংশ শিশু-কিশোর অনলাইনে সাইবার বুলিং ছাড়াও নানা রকম হেনস্তার শিকার হয়, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে। (Prothomalo)
বাবা-মায়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
যেসব বাবা-মা প্রতিদিন তিন ঘণ্টা বা তার বেশি সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তাদের সন্তানরা স্মার্টফোনে আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ গুণেরও বেশি। (Rupalibangladesh) শিশুরা যা দেখে তাই শেখে — তাই পরিবর্তনটা শুরু করতে হবে বড়দের থেকেই।
প্রতি ১০ জন মায়ের ৪ জনই সন্তানের স্মার্টফোন আসক্তি সম্পর্কে অবগত নন। (Prothomalo) এই সচেতনতার ঘাটতিই সবচেয়ে বড় সমস্যা।
স্মার্টফোন আসক্তি কমানোর কার্যকর উপায়
নিজেকে চিনুন আগে: বুঝতে চেষ্টা করুন ঠিক কী কারণে বারবার ফোনে ফিরে যাচ্ছেন — সেটা মেসেজ দেওয়া, সোশ্যাল মিডিয়া নাকি নিছক স্ক্রলিং। সমস্যার সমাধান করার আগে সমস্যা কোথায় তা বুঝতে হবে। (The Business Standard)
স্ক্রিন টাইম ট্র্যাক করুন: স্মার্টফোনে স্ক্রিনটাইম ডেটা বা ট্র্যাকিং অ্যাপের সাহায্যে দিনে কতক্ষণ ফোন ব্যবহার করছেন তা মাপুন। একবার সংখ্যাটা চোখের সামনে দেখলে নিজেই চমকে যাবেন। (The Business Standard)
নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন: অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিন। প্রতিটি নোটিফিকেশন আপনাকে আবার ফোনের দিকে টানে।
২০-২০-২০ রুল মানুন: প্রতি ২০ মিনিটে ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে তাকান — এই সহজ অভ্যাস চোখের ক্ষতি অনেকটা কমিয়ে দেয়। (Zoombangla)
নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিন: খাবার টেবিলে, শোওয়ার ঘরে এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় ফোন রেখে দিন। শিশুদের জন্য দিনে এক ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন টাইম না দেওয়াই ভালো।
উপসংহার: প্রযুক্তি দাস নয়, হোক সেবক
স্মার্টফোন নিজে কোনো সমস্যা নয় — সমস্যা হলো এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। এই প্রযুক্তিকে অস্বীকার বা অবহেলার সুযোগ নেই, শুধু নিশ্চিত করতে হবে সীমিত ব্যবহার। (Daily Janakantha)
ফোন আমাদের হাতিয়ার হোক, প্রভু নয়। পরিবারের সঙ্গে একটু বেশি সময়, বইয়ের পাতায় একটু বেশি মনোযোগ — এই ছোট ছোট পদক্ষেপই পারে একটি সুস্থ, সুন্দর জীবন ফিরিয়ে দিতে।
আসুন বিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের আলোকে বিষয়টি জেনে নিই।দুপুরে কেন ঘুম পায়? এর পেছনে কারণ কী?
খাবার খাওয়ার পর শরীরে ঘুমের অনুভূতি হওয়াটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। ভারী খাবার হজম করতে শরীরের মোট শক্তির ৬০ থেকে ৭৫ ভাগ ব্যয় হয়ে যায়। এই বিশাল পরিমাণ শক্তি খরচ হওয়ার কারণেই মস্তিষ্ক ও শরীর ক্লান্ত অনুভব করে এবং ঘুমের সংকেত পাঠায়। শুধু কার্বোহাইড্রেট নয়, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলেও একই ঘটনা ঘটে।
এছাড়া দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যে আমাদের শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবঘড়ি স্বাভাবিকভাবেই একটু নিচে নামে। এটি বিবর্তনের একটি অংশ — শুধু বাঙালি নয়, পৃথিবীর প্রায় সব মানুষই এই সময়ে হালকা ক্লান্তি অনুভব করেন।
ভাতঘুমের উপকারিতা — বিজ্ঞান কী বলে?
১. স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ায়
যারা দুপুরে অন্তত আধঘণ্টা ঘুমান, তাদের মস্তিষ্ক অন্যদের তুলনায় বেশি তীক্ষ্ণ থাকে — এমনটাই দেখা গেছে একাধিক গবেষণায়। (Jagonews24) আমেরিকান জেরিয়াট্রিক্স সোসাইটির জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ৩০ থেকে ৯০ মিনিটের দুপুরের ঘুম প্রাপ্তবয়স্কদের মস্তিষ্কের জন্য উপকারী, তবে এক ঘণ্টার বেশি হলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। (Jugantor)
২. সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়
সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে ভাতঘুম। ঠিকভাবে যদি দুপুরে ঘুমাতে পারেন তাহলে সৃজনশীলতা বাড়তে বাধ্য, কারণ দুপুরে ঘুমে মস্তিষ্কের বিশ্রাম হয় খুব ভালো এবং চিন্তাশক্তিও বৃদ্ধি পায়। (Jagonews24)
৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
দুপুরের ঘুম রক্তচাপের ওপর ভালো প্রভাব ফেলে। রাতের ঘুমের থেকে দুপুরের ঘুম হয় অনেক শান্তিতে — তাড়া থাকে না, অ্যালার্মও দিতে হয় না, তাই ঘুমটা হয় নিশ্চিন্তে। (Jagonews24)
৪. মানসিক চাপ কমায়, মন ভালো করে
মাথা গরম থাকলে বা মন খারাপ থাকলে দুপুরের ঘুম দরকার। গবেষণা বলছে, এ সময় ঘুমে স্নায়ুর ওপর চাপ কমে এবং মন ভালো হয়। (Jagonews24)
৫. কর্মক্ষমতা ও সতর্কতা বাড়ায়
বিশেষজ্ঞরা বলেন, দুপুরে ২০-৩০ মিনিটের একটি "পাওয়ার ন্যাপ" শরীর ও মনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি মনোযোগ বাড়ায়, ক্লান্তি কমায় এবং কর্মক্ষমতা উন্নত করে। (Daily Janakantha)
ভাতঘুমের ক্ষতিকর দিক — কখন সমস্যা হয়?
উপকারিতার পাশাপাশি দুপুরের ঘুমের কিছু নেতিবাচক দিকও আছে, বিশেষ করে নিয়ম না মানলে।
ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকক্রিয়া কমে যাওয়া: যারা ওজন কমাতে চান তাদের দুপুরের ঘুম এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ দুপুরে ঘুমালে মেটাবলিজম কমে যায় এবং ওজন ও ভুঁড়ি বাড়তে পারে। (Dhakapost)
রাতের ঘুম নষ্ট হওয়া: দুপুরে ঘুমানোর অভ্যাস করলে খুব স্বাভাবিকভাবেই রাতের ঘুমে ঘাটতি পড়ে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার রুটিনও এলোমেলো হয়ে যায়। (Dhakapost)
হজমের সমস্যা: খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়া একেবারেই ঠিক নয়, কারণ তাতে পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক ক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পেটের মধ্যে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে বুক জ্বালাপোড়া ও গলা জ্বলার মতো অস্বস্তি হতে পারে। (The Daily Star Bangla)
ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি: একাধিক গবেষণায় টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে দিনে এক ঘণ্টার বেশি ঘুমের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এছাড়াও কার্ডিওভাসকুলার রোগ ও হজম সমস্যাও হতে পারে। (Jugantor)
শরীরের তাপমাত্রার তারতম্য: বিকেলে বেশিক্ষণ ঘুমালে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস কাজ করা বন্ধ করে দেয়, ফলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি কমে যায়। বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে এই তারতম্যের ফলে হজমশক্তি ও শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। (The Daily Star Bangla)
কাদের জন্য ভাতঘুম ভালো, কাদের জন্য নয়?
শিশুরা দুপুরে ঘুমাতে পারে। যারা অনেক ভোর থেকেই পরিশ্রম করেন তাদের জন্যও ভাতঘুম ভালো। এ ছাড়া বয়স্ক মানুষ, দীর্ঘক্ষণ ভ্রমণ করেছেন এমন মানুষ, অসুস্থ, দুর্বল ও কম ওজনে ভুগছেন এমন ব্যক্তিরা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। (RTV Bangladesh)
অন্যদিকে যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের রোগী, হজমের সমস্যায় ভুগছেন কিংবা যাদের শরীরে ব্যথা বেশি তারা দুপুরে একেবারেই ঘুমাবেন না। (RTV Bangladesh) যাদের গ্যাসের সমস্যা রয়েছে, ওজন অনেক বেশি বা জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে, তারাও দুপুরের ঘুম এড়িয়ে চলবেন। (Protidiner Sangbad)
ভাতঘুমের সঠিক নিয়ম — কতক্ষণ এবং কীভাবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুপুরের ঘুম হওয়া উচিত ২০ থেকে ৩০ মিনিটের। দুপুর ৩টা বেজে যাওয়ার পর না ঘুমানোই ভালো, কারণ দুপুরে বেশি ঘুমালে ঘুমের চক্র ব্যাহত হতে পারে এবং অনিদ্রার সমস্যা দেখা দিতে পারে। (Jugantor)
যারা দুপুরে ঘুমাবেন, খাবার খাওয়া ও শোয়ার মধ্যে অন্তত ৩০ মিনিটের ব্যবধান রাখবেন। এই সময়ের মধ্যে ১০০ স্টেপ হেঁটে নিতে পারেন। (Protidiner Sangbad)
ভাতঘুম নিতে চাইলে শরীর ও মনে উদ্দীপনা তৈরি করে এমন কিছু থেকে সরে আসুন, চা-কফি এড়িয়ে চলুন। ঘরের আলো কমিয়ে দিন, শব্দের উৎস নিয়ন্ত্রণ করুন এবং আরামদায়ক জায়গায় শুয়ে বা বসে চোখ বন্ধ করুন। (RTV Bangladesh)
উপসংহার: ভাতঘুম ভালো, কিন্তু নিয়ম মেনে
দুপুরে ঘুমানো শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে এবং কর্মক্ষমতা বাড়ায়। তবে এটি হতে হবে নিয়ন্ত্রিত এবং সংক্ষিপ্ত। নিয়ম মেনে যদি দুপুরের ঘুমকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করা যায়, তবে এটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। (Ajkerdainik)
২০-৩০ মিনিটের একটি পাওয়ার ন্যাপ আপনার পুরো বিকেলটাকে করে দিতে পারে প্রাণবন্ত ও উৎপাদনশীল। অতিরিক্ত বা অনিয়মিত ঘুম এড়িয়ে চললে এই দুপুরের বিশ্রাম হবে আপনার শরীরের জন্য সত্যিকারের আশীর্বাদ।
রেকর্ড দূরত্বে মানুষের যাত্রা
প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানে নভোচারীরা পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরে পৌঁছান — যা মানুষের মহাকাশযাত্রার ইতিহাসে অন্যতম গভীরতম ভ্রমণ।
অবতরণের পরপরই মিশন কমান্ডার রেইড উইসম্যান জানান, চারজন নভোচারীই সুস্থ এবং ক্যাপসুল সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। নাসার ভাষ্যকাররা পুরো অবতরণকে বর্ণনা করেছেন 'একেবারে নিখুঁত' বলে।
আগুনের ভেতর দিয়ে পৃথিবীতে প্রবেশ
বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ক্যাপসুলটির গতি ছিল শব্দের ৩২ গুণ এবং তাপমাত্রা পৌঁছায় প্রায় ৫,০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে। এই চরম পরিস্থিতিতে হিট শিল্ড নিখুঁতভাবে কাজ করে — মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ওরিয়ন।
আয়নিত গ্যাসের কারণে কিছু সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও পরিকল্পনামতো প্যারাশুটের সাহায্যে নিরাপদে পানিতে নামে ক্যাপসুলটি। উদ্ধারকারী দল দুই ঘণ্টারও কম সময়ে চারজনকে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে নেয়।
যাঁরা ইতিহাস লিখলেন
এই মিশনে অংশ নেন চারজন নভোচারী। তাদের মধ্যে —
ভিক্টর গ্লোভার — প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী হিসেবে চাঁদমুখী মিশনে
ক্রিস্টিনা কোচ — প্রথম নারী
জেরেমি হ্যানসেন (কানাডা) — প্রথম অ-আমেরিকান
তারা ১ এপ্রিল ফ্লোরিডা থেকে যাত্রা করে চাঁদের অদৃশ্য অংশ পর্যন্ত ঘুরে আসেন — অ্যাপোলো যুগের পর এই প্রথম।
চাঁদ থেকে মঙ্গলের পথে
আর্টেমিস-২ নাসার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। লক্ষ্য — ২০২৮ সালের মধ্যে আবার মানুষকে চাঁদের মাটিতে নামানো, যেখানে শেষবার পা পড়েছিল ১৯৭২ সালে, অ্যাপোলো-১৭ মিশনে।
নাসার কর্মকর্তারা বলছেন, এই মিশন ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পথও প্রশস্ত করবে। উল্লেখ্য, চীনও ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে এগোচ্ছে — মহাকাশে দুই পরাশক্তির প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে।
বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা
মিশনের শেষ মুহূর্তের সরাসরি সম্প্রচার দেখেছেন লাখো মানুষ। একাই নাসার ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত হন ৩০ লাখেরও বেশি দর্শক। এই সফল প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করেছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আজও মানবজাতিকে বিস্মিত করতে সক্ষম।
ভূমিকা: কেন ২০২৬ সালে অনলাইন আয় এত জরুরি?
ইন্টারনেট এখন আর শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয় — এটি কোটি মানুষের জীবিকার উৎস। ২০২৬ সালে এসে বিশ্বের ডিজিটাল অর্থনীতি এত বড় হয়েছে যে, একটি স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ থাকলেই আপনি আয়ের জগতে প্রবেশ করতে পারেন।
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এখন ১৩ কোটির বেশি। মোবাইল ব্যাংকিং ও ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের প্রসারে অনলাইনে আয় করা এবং টাকা তোলা — দুটোই এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। তবে সঠিক পথ না জানলে সময় ও পরিশ্রম দুটোই নষ্ট হয়। এই গাইডে আমরা ২০২৬ সালের সবচেয়ে কার্যকর অনলাইন আয়ের পদ্ধতিগুলো নিয়ে আলোচনা করব।
১. ফ্রিল্যান্সিং — সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ
অনলাইন আয়ের কথা বললে ফ্রিল্যান্সিং সবার আগে আসে। Fiverr, Upwork এবং Freelancer.com-এর মতো প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা আয় করছেন।
গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, কন্টেন্ট রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও এডিটিং — এই দক্ষতাগুলোর চাহিদা ২০২৬ সালে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার প্রতি মাসে ৫০,০০০ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।
💡 টিপস: ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে হলে প্রথমে একটি নির্দিষ্ট দক্ষতায় মনোযোগ দিন। সব কিছু একসাথে শেখার চেষ্টা না করে একটিতে এক্সপার্ট হন — তারপর অন্যটিতে যান।
২. ইউটিউব ও কন্টেন্ট ক্রিয়েশন
ইউটিউব থেকে আয় এখন অনেকের পূর্ণকালীন পেশা। বাংলা ভাষায় শিক্ষামূলক, বিনোদনমূলক বা লাইফস্টাইল ভিডিও বানিয়ে লক্ষাধিক দর্শক পাওয়া সম্ভব। চ্যানেল মনিটাইজেশন ছাড়াও স্পনসরশিপ, মার্চেন্ডাইজ ও ব্র্যান্ড ডিল থেকে বড় অংকের আয় হয়।
ইউটিউবের পাশাপাশি Facebook Reels ও Instagram-এ শর্ট ভিডিও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ২০২৬ সাল নতুন সুযোগ নিয়ে এসেছে। Meta-র Creator Bonus Program বাংলাদেশে আরও বেশি অ্যাক্সেসযোগ্য হয়েছে, যা ছোট কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্যও দারুণ সুযোগ।
৩. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মানে হলো অন্যের পণ্য বা সেবা প্রচার করে কমিশন আয় করা। Amazon Associates, Daraz Affiliate, ClickBank বা Digistore24 — এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে রেজিস্ট্রেশন করে আপনার ব্লগ, ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পণ্য প্রচার করুন।
প্রতিটি সফল বিক্রয়ের বিপরীতে ৫% থেকে ৫০% পর্যন্ত কমিশন পাওয়া যায়। সঠিক নিশ বেছে নিলে এবং এসইও জানলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে প্যাসিভ ইনকাম সম্ভব — অর্থাৎ একবার কাজ করলে দীর্ঘদিন ধরে আয় আসতে থাকে।
৪. এআই টুলস দিয়ে আয় — ২০২৬-এর সবচেয়ে বড় ট্রেন্ড
২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিপ্লব। ChatGPT, Midjourney, Claude-এর মতো এআই টুল ব্যবহার করে কন্টেন্ট রাইটিং, ছবি তৈরি, ভিডিও স্ক্রিপ্ট লেখা বা ব্যবসায়িক পরামর্শ দেওয়ার সেবা বিক্রি করা যাচ্ছে।
এআই প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং এখন একটি আলাদা পেশা। দক্ষ প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত বাড়ছে। এই দক্ষতা অর্জন করতে বিশেষ কোনো ডিগ্রির প্রয়োজন নেই — শুধু অনুশীলন ও সৃজনশীলতা।
🚀 সুযোগ: এআই টুল শিখে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ব্যানার ডিজাইন বা ব্যবসায়িক কন্টেন্ট তৈরি করে দিন — মাসে ২০–৫০ হাজার টাকা আয় করা কঠিন নয়।
৫. ই-কমার্স ও ড্রপশিপিং
অনলাইন শপ খোলা এখন অনেক সহজ। Shopify, WooCommerce বা Daraz-এ নিজের দোকান খুলে দেশীয় বা বিদেশি পণ্য বিক্রি করতে পারেন। ড্রপশিপিং পদ্ধতিতে নিজের কাছে পণ্য মজুত না রেখেও ব্যবসা করা যায় — অর্ডার এলে সরাসরি সাপ্লায়ার থেকে গ্রাহকের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে হস্তশিল্প, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও দেশীয় খাবারের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সঠিক মার্কেটিং জানলে এই পণ্যগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
৬. অনলাইন কোর্স বিক্রি
আপনি কি কোনো বিষয়ে ভালো জানেন? রান্না, ছবি আঁকা, গিটার বাজানো, বাংলা ব্যাকরণ বা গণিত — যেকোনো দক্ষতাকে কোর্সে রূপ দিয়ে বিক্রি করুন। Udemy, Teachable বা 10 Minute School-এর মতো প্ল্যাটফর্মে কোর্স আপলোড করলে ঘুমের মধ্যেও আয় আসতে থাকে।
বাংলাদেশে শিক্ষামূলক কন্টেন্টের চাহিদা বিশাল। একবার ভালো কোর্স তৈরি করলে সেটি বছরের পর বছর ধরে আয় দিতে পারে — এটিই প্যাসিভ ইনকামের সবচেয়ে শক্তিশালী উদাহরণ।
সফলতার জন্য যা মনে রাখবেন
একটি পদ্ধতিতে মনোযোগ দিন, শুরুতেই সব করতে যাবেন না। ধৈর্য ধরুন — অনলাইনে আয় রাতারাতি হয় না, কিন্তু একবার শুরু হলে থামানো কঠিন। ইংরেজি দক্ষতা বাড়ান, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে সুযোগ অনেক বেশি। প্রতিদিন কমপক্ষে ২–৩ ঘণ্টা দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করুন এবং নিজের পোর্টফোলিও সুন্দরভাবে তৈরি করুন।
উপসংহার
২০২৬ সাল অনলাইন আয়ের জন্য সত্যিকারের সোনালী সুযোগের বছর। প্রযুক্তি এখন এতটাই সহজলভ্য যে, ইচ্ছাশক্তি ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যে কেউ ঘরে বসে উপার্জন শুরু করতে পারে।
ফ্রিল্যান্সিং হোক, ইউটিউব হোক বা এআই টুলস — পথ অনেক, শুধু পা বাড়ানোর সাহসটুকু থাকলেই হয়। আজই একটি পদক্ষেপ নিন এবং আপনার ডিজিটাল আয়ের যাত্রা শুরু করুন।
কী হচ্ছে আসলে?
বাংলাদেশের ইন্টারনেট সংযোগের মূল ভরসা দুটি সাবমেরিন ক্যাবল — সমুদ্রের গভীরে বিছানো বিশাল আন্ডারওয়াটার কেবল, যার মাধ্যমে আমাদের তথ্য ছুটে যায় সিঙ্গাপুর, ইউরোপ, আমেরিকায়। এর একটি হলো SEA-ME-WE-5 (SMW-5), যা কুয়াকাটায় সংযুক্ত। অপরটি হলো SEA-ME-WE-4, কক্সবাজারে।
রাষ্ট্রায়ত্ত Bangladesh Submarine Cables PLC (BSCPLC) জানিয়েছে, SEA-ME-WE-5 ক্যাবলে "S1.5.1 Shunt Fault Repair" নামের একটি জরুরি মেরামত কাজ শুরু হয়েছে ৯ এপ্রিল রাত ১০টায় এবং শেষ হবে ১৩ এপ্রিল সকাল ৬টায় — মোট প্রায় ৮০ ঘণ্টা। এই সময়ে সিঙ্গাপুর রুটের ট্র্যাফিক সাময়িকভাবে বন্ধ বা সীমিত।
সাবমেরিন ক্যাবল কী — সহজ ভাষায়
আমরা যখন ফেসবুকে স্ক্রল করি বা ইউটিউবে ভিডিও দেখি, তখন সেই ডেটা শুধু বাতাসে ভেসে আসে না। লক্ষ লক্ষ কিলোমিটার দীর্ঘ অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল সমুদ্রের তলা দিয়ে মহাদেশ থেকে মহাদেশে সংযুক্ত — এগুলোই সাবমেরিন ক্যাবল।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের বড় অংশ আসে এই দুটি ক্যাবল থেকে। SMW-5 একাই বহন করে প্রায় ১.৭ টেরাবিট/সেকেন্ড ক্যাপাসিটি। এটি মেরামতে থাকায় সিঙ্গাপুর রুটের ট্র্যাফিক সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তুলনায় SEA-ME-WE-4 দেয় মাত্র ৮০০ গিগাবিট/সেকেন্ড — অর্থাৎ দেশের মোট সক্ষমতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এখন কাজ করছে।
কতটা খারাপ হতে পারে?
সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাবে না। তবে যা অনুভব করতে পারেন:
ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, প্রাইম ভিডিওতে বারবার বাফারিং। Zoom, Google Meet, Microsoft Teams কল ভাঙা বা ফ্রিজ হওয়া। গুগল ড্রাইভ, ড্রপবক্সে ফাইল আপলোড ও ডাউনলোড ধীরগতি। আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট লোড হতে বেশি সময় নেওয়া। অনলাইন গেমিং-এ হাই পিং ও ল্যাগ।
তবে দেশীয় সার্ভারে হোস্ট করা ওয়েবসাইট যেমন প্রথম আলো, ডেইলি স্টার বা দেশীয় ব্যাংকিং অ্যাপ তুলনামূলকভাবে কম প্রভাবিত হবে।
এই সময়ে আপনার কী করা উচিত?
১. দরকারি ফাইল আগেই ডাউনলোড করুন। ক্লাস নোট, প্রেজেন্টেশন বা প্রজেক্ট ফাইল — যা লাগবে এখনই অফলাইনে সেভ করুন।
২. ভিডিও কলের বিকল্প রাখুন। অফিস বা ক্লাসের মিটিং থাকলে আগেই জানান — ভিডিও না হলে শুধু অডিও কল বা ফোনে করার ব্যবস্থা রাখুন।
৩. রাত ১০টার পর ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন। মেরামত কাজ মূলত রাতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। বড় ফাইল আপলোড বা আপডেট দিনের বেলা করুন।
৪. ভিডিও কোয়ালিটি কমিয়ে দিন। YouTube ও Netflix-এ Auto বা 480p সেট করুন — ব্যান্ডউইথ কম লাগবে, বাফার কমবে।
৫. স্পটিফাই ও পডকাস্ট অফলাইনে ডাউনলোড করুন। এখনই পছন্দের গান বা পডকাস্ট ডাউনলোড করুন, পরে নেট ছাড়াই শুনুন।
৬. দেশীয় কন্টেন্ট বেছে নিন। বাংলাদেশ থেকে হোস্ট করা ওয়েবসাইট ও অ্যাপ এই সময়ে বেশি দ্রুত কাজ করবে।
৭. অকারণে রাউটার রিস্টার্ট দেবেন না। এটা ক্যাবলের সমস্যা, রাউটারের নয়। বারবার রিস্টার্ট দিলে কোনো লাভ নেই।
ভবিষ্যতে কী হবে?
সুখবর হলো, বাংলাদেশ শিগগিরই তৃতীয় একটি সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত হতে যাচ্ছে। Summit Communications, CdNet ও Metacore Subcom-এর কনসোর্টিয়াম কক্সবাজার থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি প্রাইভেট সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করছে, যা ২০২৬ সালেই সক্রিয় হওয়ার কথা। এছাড়া SEA-ME-WE-6-এও বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ভবিষ্যতে একটি ক্যাবলে সমস্যা হলেও বাকিগুলো সহজেই ট্র্যাফিক সামলাতে পারবে।
শেষ কথা
ইন্টারনেট স্লো দেখে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটি একটি পরিকল্পিত মেরামত কাজ, যা ১৩ এপ্রিল সকালের মধ্যে শেষ হবে। সমুদ্রের তলায় কর্মীরা আমাদের ডিজিটাল জীবন ঠিক করছেন — একটু ধৈর্য ধরুন। এই কয়েকটা দিন পরিকল্পনামতো ব্যবহার করুন — অফলাইনে কাজ গুছিয়ে নিন, বইয়ের পাতা উল্টান, অথবা একটু বিশ্রাম নিন। দ্রুত ইন্টারনেট আবার ফিরে আসছে।
২০২৬ সাল। ঢাকার একটি গার্মেন্টস কারখানায় এখন অনেক কাজ করছে স্বয়ংক্রিয় মেশিন। একটি ব্যাংকের কল সেন্টারে গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে AI চ্যাটবট। একজন গ্রাফিক ডিজাইনার মাত্র কয়েক সেকেন্ডে লোগো বানাচ্ছেন AI টুল দিয়ে, যেটা আগে ঘণ্টার কাজ ছিল।
এই পরিবর্তনগুলো এখন আর কল্পনা নয়, বাস্তব। আর এই বাস্তবতা ঘিরে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ তরুণের মনে একটাই প্রশ্ন — AI কি আমার চাকরি নিয়ে নেবে?
AI আসলে কী করছে?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence (AI) হলো এমন প্রযুক্তি, যা মানুষের মতো চিন্তা করতে, শিখতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ChatGPT, Gemini, Midjourney — এগুলো AI-এর পরিচিত মুখ। তবে AI শুধু চ্যাটবটেই সীমাবদ্ধ নয়। এটা এখন ডেটা বিশ্লেষণ, ছবি সনাক্তকরণ, ভাষা অনুবাদ, কোড লেখা থেকে শুরু করে চিকিৎসা রোগ নির্ণয় পর্যন্ত করছে।
বিশ্বজুড়ে AI-এর বাজার দ্রুত বাড়ছে। আর বাংলাদেশও এই ঢেউ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। বাংলাদেশের ICT খাত ২০২৬ সালে প্রায় ৯.৪৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, এবং AI ও ক্লাউড সেবা এই বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশে কোন পেশাগুলো হুমকিতে?
সত্যি কথা হলো, কিছু পেশা AI-এর কারণে সত্যিই ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে যেসব কাজ পুনরাবৃত্তিমূলক এবং নিয়মভিত্তিক, সেগুলো AI সহজেই করে ফেলতে পারে।
ঝুঁকিতে থাকা পেশাসমূহ:
ডেটা এন্ট্রি অপারেটর: বারবার একই তথ্য টাইপ করার কাজ AI সফটওয়্যার অনেক দ্রুত করতে পারে।
কল সেন্টার এজেন্ট: সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এখন AI চ্যাটবটের কাজ হয়ে গেছে।
অ্যাকাউন্টিং ও বুককিপিং: হিসাব মেলানো, ইনভয়েস তৈরি — এসব কাজ AI টুলস স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারে।
বেসিক গ্রাফিক ডিজাইন: লোগো বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট তৈরির কাজে AI টুলস এখন মানুষের সাথে প্রতিযোগিতা করছে।
অনুবাদক: সাধারণ অনুবাদের কাজ এখন AI অনেকটাই করে ফেলতে পারে।
তবে এর মানে এই নয় যে এই পেশায় থাকা মানুষদের কাজ একেবারে চলে যাবে। বরং এই পেশাগুলো পরিবর্তিত হবে।
AI যে পেশাগুলো তৈরি করছে
এটা ইতিহাসের নিয়ম — প্রতিটি প্রযুক্তিবিপ্লব কিছু পেশা শেষ করেছে, আবার নতুন পেশাও তৈরি করেছে। ইন্টারনেট আসার পর ওয়েব ডিজাইনার, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার — এসব পেশা তৈরি হয়েছিল। AI-ও তাই করছে।
AI যেসব নতুন পেশা তৈরি করছে:
AI প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ার: AI-কে সঠিকভাবে নির্দেশনা দেওয়ার দক্ষতা এখন একটি চাকরির বাজার।
AI ট্রেইনার ও ডেটা অ্যানোটেটর: AI মডেল শেখানোর জন্য মানুষের তৈরি করা ডেটার দরকার হয়।
AI অডিটর: AI সিস্টেম ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা যাচাই করার জন্য বিশেষজ্ঞ দরকার।
সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ: AI ব্যবহার বাড়লে সাইবার হুমকিও বাড়ে, তাই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের চাহিদা বাড়ছে।
AI-অ্যাসিস্টেড কন্টেন্ট ক্রিয়েটর: যারা AI টুল ব্যবহার করে দ্রুত ও মানসম্পন্ন কন্টেন্ট তৈরি করতে পারেন।
বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং খাত ইতিমধ্যে এই পরিবর্তন টের পাচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় ফ্রিল্যান্সিং দেশ, এবং AI টুল জানা ফ্রিল্যান্সাররা এখন আগের চেয়ে বেশি আয় করছেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে AI: সুযোগ কতটা বড়?
বাংলাদেশের জন্য AI একটি বিশাল সুযোগ, যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়।
গার্মেন্টস শিল্পে: বিশ্বের বড় ক্রেতারা এখন AI-নির্ভর সাপ্লাই চেইন চান। বাংলাদেশের কারখানাগুলো AI ব্যবহার করে উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে পারলে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে।
স্বাস্থ্যসেবায়: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে টেলিমেডিসিন এবং AI-ভিত্তিক রোগ নির্ণয় স্বাস্থ্যসেবার বিপ্লব ঘটাতে পারে।
কৃষিতে: AI-চালিত অ্যাপ কৃষকদের মাটির মান, আবহাওয়া ও ফসলের রোগ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক পরামর্শ দিতে পারে।
শিক্ষায়: ব্যক্তিগতকৃত শিক্ষা পদ্ধতি, যেখানে AI প্রতিটি শিক্ষার্থীর দুর্বলতা বুঝে পাঠ্যক্রম তৈরি করে — এটা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা পাল্টে দিতে পারে।
ভবিষ্যতে টিকে থাকতে কী শিখবেন?
AI-এর যুগে কিছু দক্ষতা সবসময় মূল্যবান থাকবে, কারণ এগুলো AI এখনো ভালোভাবে করতে পারে না।
১. সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা (Critical Thinking): পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া — এটা মানুষের সেরা দক্ষতা।
২. সৃজনশীলতা (Creativity): মৌলিক ধারণা তৈরি করা, উদ্ভাবন করা — এখানে মানুষ AI-এর চেয়ে এগিয়ে।
৩. মানবিক সম্পর্ক (Human Connection): নেতৃত্ব, সহানুভূতি, দলগত কাজ — এগুলো রোবট দিয়ে হবে না।
৪. AI সাক্ষরতা (AI Literacy): AI টুল চেনা ও ব্যবহার করতে পারা এখন একটি মৌলিক দক্ষতা হয়ে উঠছে।
৫. প্রযুক্তিগত দক্ষতা: পাইথন প্রোগ্রামিং, ডেটা অ্যানালিটিক্স, মেশিন লার্নিং — এই দক্ষতাগুলো চাকরির বাজারে বিশাল সুবিধা দেবে।
সরকার ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা
বাংলাদেশ সরকারের "স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১" ভিশনে AI-কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সারা দেশে ৬৪টি জেলায় ডিজিটাল ইনোভেশন হাব তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আইটি পার্কগুলোতে AI গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ছে।
তবে শুধু সরকারের উপর নির্ভর করলে চলবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পাঠ্যক্রম আপডেট করতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের রিস্কিলিং (পুনঃদক্ষতা অর্জন) এ বিনিয়োগ করতে হবে।
শেষ কথা: ভয় নয়, প্রস্তুতি নিন
AI ভয়ের বিষয় নয়, প্রস্তুতির বিষয়। ইতিহাস বলে, প্রযুক্তি যখনই বদলেছে, যারা দ্রুত মানিয়ে নিয়েছেন তারা এগিয়ে গেছেন। যারা পরিবর্তনকে প্রতিরোধ করেছেন, তারা পিছিয়ে পড়েছেন।
বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী এই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই জনগোষ্ঠী যদি AI দক্ষতা অর্জন করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ শুধু চাকরি হারাবে না — বরং বিশ্বের কাছে AI সেবা রপ্তানি করার একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
প্রশ্ন হলো — আপনি কি প্রস্তুত?
শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নামার আগে শেষবারের মতো নিজেদের ঝালিয়ে নেবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। জুনের শুরুতে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ড।
কোথায়, কখন?
আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশন নিশ্চিত করেছে, ম্যাচ দুটি হবে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে।
📅 ৬ জুন — হন্ডুরাস বনাম আর্জেন্টিনা
📍 কাইল ফিল্ড স্টেডিয়াম, কলেজ স্টেশন, টেক্সাস
📅 ৯ জুন — আইসল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা
📍 জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়াম, অবার্ন, অ্যালাবামা
দুর্বল প্রতিপক্ষ, শক্ত পরীক্ষা?
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে হন্ডুরাস আছে ৬৬তম স্থানে, আইসল্যান্ড ৭৫তম-এ। এই দুই দলের কেউই এবারের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
তবে মেসিদের জন্য এই ম্যাচগুলো নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয় — বিশ্বকাপের আগে কম্বিনেশন পরীক্ষা ও ফর্ম ধরে রাখাই মূল লক্ষ্য।
সাম্প্রতিক ফর্মে উজ্জ্বল আলবিসেলেস্তে
সর্বশেষ দুটি প্রীতি ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা — মৌরিতানিয়াকে ২-১ গোলে হারানোর পর জাম্বিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছে ৫-০ গোলে।
বিশ্বকাপে 'জে' গ্রুপে আর্জেন্টিনা
প্রস্তুতি পর্ব শেষে মূল পরীক্ষা শুরু হবে ১৬ জুন, আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। 'জে' গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে লিওনেল স্কালোনির দল — ইতিহাস কি তাদের পক্ষে থাকবে?