কঠোর তুলনা ও সমালোচনা
ইসরায়েলের ১০৩এফএম রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চিকলি বলেন, “আমার মনে হয়, এই সময়ে যুদ্ধবিরতিতে যাওয়া একটি বড় ভুল। জাপানি সাম্রাজ্য বা নাৎসি জার্মানির মতো শক্তিগুলোকে যতক্ষণ পর্যন্ত পুরোপুরি নতজানু করা না যায়, ততক্ষণ থামা উচিত নয়।” তার মতে, ইরানকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত না করে এই ধরনের বিরতি ইসরায়েলের জন্য দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক হতে পারে।
চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয়
যুদ্ধবিরতি কতদিন টিকবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আমিচাই চিকলি অত্যন্ত হতাশাজনক পূর্বাভাস দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই যুদ্ধবিরতি টিকে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ৫০ শতাংশ।
প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার ভেতরেই এটি নিয়ে ব্যাপক মতভেদ দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু একদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও অন্যদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা এই চুক্তিকে আরও ভঙ্গুর করে তুলেছে।
কেমন ছিল রানার অভিষেক?
অভিষেক ম্যাচে ৩ ওভার বল করে উইকেটশূন্য ছিলেন নাহিদ রানা। খরচ করেছেন ৩০ রান। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে (৬ষ্ঠ ওভার) বোলিংয়ে এসে শুরুতেই কিছুটা চাপে পড়েন তিনি, ওই ওভারেই দেন ১৩ রান। এরপর ১০ম ওভারে ৯ রান এবং ১৮তম ওভারে ৮ রান খরচ করেন এই তরুণ পেসার।
বোলিংয়ে ইফতিখার-সুফিয়ান চমক
রানা উইকেট না পেলেও পেশাওয়ারের বোলাররা প্রতিপক্ষকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি। হায়দরাবাদ কিংস ১৮.২ ওভারে ১৪৫ রানেই গুটিয়ে যায়। পেশাওয়ারের পক্ষে বল হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন ইফতিখার আহমেদ ও সুফিয়ান মুকিম। দুজনেই ৪টি করে উইকেট শিকার করেন। ইফতিখার ৪ ওভারে ২১ রান এবং সুফিয়ান ৪ ওভারে ৩২ রান দেন।
অন্যদিকে, পেশাওয়ারের হয়ে খেলা বাংলাদেশের আরেক পেসার শরিফুল ইসলাম এদিন বেশ খরুচে ছিলেন। ২ ওভার বল করে কোনো উইকেট না পেয়ে তিনি দিয়েছেন ২১ রান।
বাবরের নেতৃত্বে পেশাওয়ারের জয়
১৪৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে পেশাওয়ার জালমি। জয়ের ভিত গড়ে দেন দলের অধিনায়ক ও ওপেনার বাবর আজম। ৩৭ বলে ৪৩ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানান।
নতুন ক্লাসের সূচি:
মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্লেন্ডিং এডুকেশন পদ্ধতিতে ক্লাসগুলো হবে নিম্নোক্ত নিয়মে:
কোন প্রতিষ্ঠানগুলো এই তালিকায়?
কোন কোন স্কুলে এই নিয়ম চালু হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তিনি বলেন, “যাদের অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সক্ষমতা আছে, বিশেষ করে সুপরিচিত এবং যেখানে শিক্ষার্থীদের বড় ভিড় থাকে (Well-renowned and huge crowded schools), মূলত তারাই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে। যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াত করে, তাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি কার্যকর হবে।”
মন্ত্রী আরও জানান, বিষয়টি অনেকটা ঐচ্ছিক। যেমন উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, “তামিরুল মিল্লাত এই প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে চাচ্ছে, যদিও আমরা তাদের বলিনি।”
সিদ্ধান্তের লক্ষ্য:
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এটি করোনাকালীন পরিস্থিতির মতো কোনো কঠোর নিয়ম নয়। মূলত জ্বালানি খরচ কমানো এবং বড় স্কুলগুলোর কারণে সৃষ্ট যানজট নিরসনের লক্ষ্যেই এই ‘ব্লেন্ডিং এডুকেশন’ পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকা ও সাজার মাত্রা
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ৩০ জন আসামির সবার সাজা ঘোষণা করেছেন:
ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল ও স্লোগান
রায় ঘোষণার পর আদালত কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করেন এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তারা চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আমরা এ রায় মানি না। আমাদের ফাঁসানো হয়েছে, আমরা নির্দোষ।” কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়।
আদালতের কার্যক্রম
এদিন দুপুর ১২টা থেকে রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর রায়ের বিভিন্ন অংশ পাঠ করেন। ট্রাইব্যুনাল তার পর্যবেক্ষণে এই হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত নির্মম এবং অমানবিক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের সরাসরি গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনাটি সারা দেশে গণঅভ্যুত্থানের দাবানল জ্বালিয়ে দিয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজকের এই রায়ের মাধ্যমে সেই ঘটনার প্রথম পর্যায়ের আইনি সমাপ্তি ঘটল।
ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী রায়ের শুরুতে বলেন, “আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন তার সামনে যারা দাঁড়িয়ে আছে তারা মানুষ, তাই তার কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু তিনি তখন বুঝতে পারেননি যে, সেই মানুষগুলো অমানুষ হয়ে গেছে।”
রায় ঘোষণার মুহূর্ত
দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনালের বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শুরু করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে বহুল প্রতীক্ষিত এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছয় প্রধান আসামি—সাবেক এএসআই আমির হোসেন, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজকে কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দুই হাত প্রসারিত অবস্থায় আবু সাঈদের বুক পেতে দেওয়ার সেই দৃশ্যটি বিশ্বজুড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠে। ট্রাইব্যুনালের আজকের এই রায় ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সেই মহান আত্মত্যাগের বিচারিক স্বীকৃতি নিশ্চিত হলো।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের মূল পয়েন্টসমূহ:
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের অবস্থা:
মামলায় এখন পর্যন্ত ৬ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তারা হলেন:
১. শরিফুল ইসলাম (সাবেক প্রক্টর, বেরোবি)
২. রাফিউল হাসান (সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার)
৩. আনোয়ার পারভেজ (সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী)
৪. আমির হোসেন (সাবেক এএসআই, পুলিশ)
৫. সুজন চন্দ্র রায় (সাবেক কনস্টেবল, পুলিশ)
৬. ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ (ছাত্রলীগ নেতা)
আদালতের পর্যবেক্ষণ:
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তে সন্দেহাতীত ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায় আদালত এই কঠোর সাজার রায় দিয়েছেন। এর মাধ্যমে জুলাই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় একটি বড় মাইলফলক অর্জিত হলো। অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া অংশ নিয়েছিলেন।
বিচারিক কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ
গত বছরের ৬ আগস্ট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (CAIV) রাখা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৫ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন, যার মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ এবং বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ রয়েছেন।
প্রসিকিউশনের দাবি ও প্রমাণ
প্রসিকিউটর এস এম ময়নুল করিম জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ এবং টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারের ভিডিওর মাধ্যমে তারা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ওপর তৎকালীন প্রশাসনের প্রচণ্ড চাপ ও হুমকির বিষয়টিও সাক্ষ্যে উঠে এসেছে। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করছে।
আসামিপক্ষের যুক্তি
অন্যদিকে, গ্রেপ্তারকৃত পুলিশ সদস্যদের আইনজীবীরা তাদের বেকসুর খালাস দাবি করেছেন। তাদের যুক্তি অনুযায়ী, আবু সাঈদের শরীরে গুলির অস্তিত্ব এক্স-রে পরীক্ষায় পাওয়া যায়নি এবং জব্দকৃত টি-শার্টে কোনো ছিদ্র ছিল না। এছাড়া তারা দাবি করেছেন, আবু সাঈদের হাতে লাঠি থাকায় তাকে ‘নিরস্ত্র সিভিলিয়ান’ হিসেবে গণ্য করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করা আইনিভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
আসামিদের পরিচয়
মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদ, আরএমপি কমিশনার মনিরুজ্জামান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও ছাত্রলীগ নেতা রয়েছেন।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেওয়া আবু সাঈদের বীরত্বগাথা সারা দেশে আন্দোলনকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে দিয়েছিল। সেই ঘটনার ভিডিও চিত্রই পরবর্তীকালে গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করে, যার ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।