মোটরসাইকেল আজ শুধু একটি যানবাহন নয়, এটি স্বাধীনতা, গতি এবং প্রযুক্তির এক অনন্য প্রতীক। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা এই দুই চাকার যন্ত্রটির রয়েছে এক দীর্ঘ ও বর্ণময় ইতিহাস। চলুন জেনে নেওয়া যাক মোটরসাইকেলের জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে আজকের অত্যাধুনিক বাইক পর্যন্ত পুরো যাত্রাটি।
মোটরসাইকেলের জন্ম: ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার কথা
মোটরসাইকেলের ইতিহাস শুরু হয় ১৮৬৯ সালে, যখন ফরাসি উদ্ভাবক Ernest Michaux এবং Louis-Guillaume Perreaux একটি বাষ্পচালিত সাইকেল তৈরি করেন। যদিও এটি আধুনিক মোটরসাইকেলের সাথে তুলনীয় ছিল না, তবে এটিই ছিল মোটরচালিত দুই চাকার যানবাহনের প্রথম প্রচেষ্টা।
তবে মোটরসাইকেলের প্রকৃত পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃত হন জার্মান প্রকৌশলী Gottlieb Daimler। ১৮৮৫ সালে তিনি তাঁর সহকর্মী Wilhelm Maybach-এর সহায়তায় বিশ্বের প্রথম পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেল "Reitwagen" তৈরি করেন। এই যানটিতে ছিল একটি সিঙ্গেল-সিলিন্ডার চার-স্ট্রোক ইঞ্জিন, যা ঘণ্টায় প্রায় ১২ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম ছিল। Daimler-এর এই উদ্ভাবন মোটরসাইকেলের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে আজও বিবেচিত।
বিংশ শতাব্দীর শুরু: শিল্প হিসেবে মোটরসাইকেল উৎপাদন
১৯০০ সালের পর থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় মোটরসাইকেল উৎপাদন একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পে পরিণত হতে শুরু করে। ১৯০১ সালে আমেরিকায় Indian Motorcycle Company প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বাণিজ্যিক মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান।
এরপর ১৯০৩ সালে আসে মোটরসাইকেল ইতিহাসের সবচেয়ে আইকনিক নামটি — Harley-Davidson। উইলিয়াম হার্লি ও আর্থার ডেভিডসন মিলওয়াকিতে একটি ছোট্ট শেডে তাঁদের স্বপ্নের মোটরসাইকেল তৈরি শুরু করেন। মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে Harley-Davidson পরিণত হয় আমেরিকান সংস্কৃতির প্রতীকে।
এই সময়কালে ইউরোপেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্র্যান্ডের উদ্ভব হয়। ব্রিটেনে Triumph, জার্মানিতে BMW এবং ইতালিতে Moto Guzzi প্রতিষ্ঠিত হয়, যারা পরবর্তীতে মোটরসাইকেল শিল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দুই বিশ্বযুদ্ধে মোটরসাইকেলের ভূমিকা
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মোটরসাইকেল সামরিক বাহনী হিসেবে অপরিহার্য হয়ে ওঠে। দ্রুতগতির বার্তাবাহক, রিকনেসান্স মিশন এবং সৈন্য পরিবহনে মোটরসাইকেল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। Harley-Davidson একাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য প্রায় ৯০,০০০ মোটরসাইকেল সরবরাহ করেছিল।
যুদ্ধের পরে, ফিরে আসা সৈনিকরা মোটরসাইকেলের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা নিয়ে ফিরলেন, যা যুদ্ধোত্তর সময়ে মোটরসাইকেলের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করে।
জাপানি বিপ্লব: হোন্ডা, ইয়ামাহা, সুজুকি ও কাওয়াসাকি
মোটরসাইকেল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আসে ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে, জাপান থেকে। ১৯৪৮ সালে Soichiro Honda প্রতিষ্ঠা করেন Honda Motor Co., Ltd.। তাঁর লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য মোটরসাইকেল পৌঁছে দেওয়া।
১৯৫৮ সালে লঞ্চ হওয়া Honda Super Cub ইতিহাসের সর্বাধিক বিক্রিত মোটরসাইকেল হিসেবে রেকর্ড গড়ে, যার মোট বিক্রির সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়িয়েছে। এটি মোটরসাইকেলকে এশিয়া ও আফ্রিকার সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসে।
এরপর Yamaha (১৯৫৫), Suzuki এবং Kawasaki-ও বাজারে প্রবেশ করে এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় নামে। জাপানি ব্র্যান্ডগুলো দ্রুত ইউরোপীয় ও আমেরিকান বাজারে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে। তাদের কম মূল্য, উচ্চ নির্ভরযোগ্যতা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী ইঞ্জিন মোটরসাইকেল শিল্পকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে।
মোটরসাইকেল রেসিং ও সংস্কৃতির বিকাশ
মোটরসাইকেল শুধু পরিবহনের মাধ্যম নয়, এটি একটি সংস্কৃতিও। ১৯৪৯ সালে FIM (Fédération Internationale de Motocyclisme) বিশ্ব মোটরসাইকেল চ্যাম্পিয়নশিপ চালু করে, যা পরবর্তীতে MotoGP নামে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মোটরস্পোর্ট ইভেন্টে পরিণত হয়।
১৯৫০-৬০-এর দশকে আমেরিকায় "বাইকার কালচার" জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। Marlon Brando-র বিখ্যাত চলচ্চিত্র "The Wild One" (১৯৫৩) মোটরসাইকেলকে বিদ্রোহ ও স্বাধীনতার প্রতীকে পরিণত করে। এরপর থেকে মোটরসাইকেল সঙ্গীত, সিনেমা ও পপ কালচারে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে যায়।
আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতি
১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে মোটরসাইকেলে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দ্রুত হতে থাকে। ABS (Anti-lock Braking System), ফুয়েল ইনজেকশন, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং মাল্টি-সিলিন্ডার ইঞ্জিন মোটরসাইকেলকে আরও নিরাপদ ও শক্তিশালী করে তোলে।
১৯৯৩ সালে Ducati তাঁদের বিখ্যাত 916 মডেল লঞ্চ করে, যা মোটরসাইকেল ডিজাইনে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে। সুপারবাইক বিভাগে Honda CBR, Yamaha R1 এবং Suzuki GSX-R-এর মতো মডেলগুলো রাস্তা ও রেসট্র্যাক উভয় ক্ষেত্রেই বিপ্লব আনে।
ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল: ভবিষ্যতের পথে
বর্তমান শতাব্দীতে মোটরসাইকেল শিল্পের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির মাধ্যমে। Zero Motorcycles, Energica এবং এমনকি Harley-Davidson-এর LiveWire ব্র্যান্ড ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের নতুন যুগ সূচনা করেছে।
ভারত ও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় ইলেকট্রিক দুই চাকার যানবাহনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। জ্বালানি খরচ কমানো, পরিবেশ দূষণ হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয়ের কারণে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল ভবিষ্যতের প্রধান পরিবহন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের ইতিহাস ও বর্তমান
বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের ব্যাপক প্রসার শুরু হয় মূলত ২০০০-এর দশক থেকে। Hero, Bajaj, Honda, Yamaha এবং TVS-এর মতো ব্র্যান্ডগুলো দেশের বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে। রাইড-শেয়ারিং সেবা যেমন Pathao ও Shohoz মোটরসাইকেলকে নগর পরিবহনের এক অপরিহার্য অংশে পরিণত করেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে বার্ষিক প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ মোটরসাইকেল বিক্রি হয়, যা দেশের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও তরুণ প্রজন্মের চাহিদার প্রতিফলন।
উপসংহার
মোটরসাইকেলের ইতিহাস আসলে মানুষের উদ্ভাবনী শক্তি ও অদম্য গতির প্রতি আকর্ষণের ইতিহাস। ১৮৮৫ সালে Gottlieb Daimler-এর সেই প্রথম পেট্রোলচালিত দুই চাকার যন্ত্র থেকে শুরু করে আজকের অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক সুপারবাইক পর্যন্ত — প্রতিটি পদক্ষেপে মোটরসাইকেল মানবজাতির স্বপ্ন, প্রযুক্তি ও জীবনধারার রূপান্তরের সাক্ষী।
ভবিষ্যতে মোটরসাইকেল আরও স্মার্ট, আরও পরিবেশবান্ধব এবং আরও সংযুক্ত হবে — এটি নিশ্চিত। কিন্তু এর মূল আবেদন, সেই মুক্ত বাতাসে ছুটে চলার অনুভূতি, চিরকালই অপরিবর্তিত থাকবে।
রবিবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্মিথ বলেন, ভিনদেশের কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া এবং স্কোয়াডের গভীরতা বাড়ানোই এই সফরের মূল লক্ষ্য। এখানে সাফল্য পেলে ভবিষ্যতের জন্য দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
উইকেট প্রসঙ্গে স্মিথ বলেন, পিচ আগের দিনের মতোই মনে হচ্ছে এবং একই ধরনের কন্ডিশন আশা করছেন তারা। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সাফল্যের পেছনে দলের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি। ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য দ্রুত বোলারদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হয়েছে বলে জানান স্মিথ।
বাংলাদেশের গরম আবহাওয়া এই ম্যাচেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন এই অলরাউন্ডার। তার মতে, এই গরমে আগে বোলিং করা শারীরিকভাবে অত্যন্ত কঠিন। তাই ছোট ছোট স্পেলে বোলিং করে দলগতভাবে কাজ করাই হবে মূল কৌশল। স্মিথ আরও মনে করেন, রোদে উইকেটের আচরণ বদলে যেতে পারে বলে টসও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আগে ব্যাট করে পরে চাপ তৈরি করাকেই ভালো কৌশল বলে মনে করছেন তিনি।
নতুন দাম অনুযায়ী ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা লিটার হয়েছে।
বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ইরান যুদ্ধের পর একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে উঠলেও এখন তা ৯০ ডলারে নেমে এসেছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে বিশ্বনেতারা একজোট হতে শুরু করেছেন। ফ্রান্স এতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম বাড়ানোর যুক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও একই পরিস্থিতি হয়েছিল। তখনও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করার মুহূর্তে দেশে দাম বাড়ানো হয়েছিল। ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৪২ শতাংশ এবং অকটেন ও পেট্রোলের দাম ৫১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালে সমালোচনার মুখে মাত্র ৫ টাকা করে কমানো হয়, যা আন্তর্জাতিক বাজারের নিম্নমুখী প্রবণতার তুলনায় অনেক কম ছিল।
জ্বালানি তেলের পাশাপাশি এলপিজির দামও দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো হয়েছে। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। পিডিবির উৎপাদন খরচ ও আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে এবং কমিটির সুপারিশের পরই বিদ্যুতের দামও বাড়তে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম নিম্নমুখী থাকার সময় দেশে দাম বাড়ানো জনগণের প্রতি সুবিচার হয়নি। ক্ষমতায় আসার সময় সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পণ্যের দাম বাড়াবে না এবং ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেবে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে লুণ্ঠনমূলক বলে অভিহিত করে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে আরেক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন মনে করেন, কিছুটা দাম বাড়ানো অযৌক্তিক নয়। তিনি বলেন, অন্যান্য দেশও দাম বাড়িয়েছে এবং এতে জনগণ সংকট সম্পর্কে সচেতন হবে। তবে তিনি সতর্ক করেন, পরিবহন ভাড়া ও পণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঠেকাতে সরকারকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে, না হলে একশ্রেণির অসাধু চক্র এটিকে পুঁজি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেবে।
বাস ও ট্রাক ভাড়া ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। কৃষিতে সেচ ও শিল্পে কাঁচামাল পরিবহনের খরচ বৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই অতিরিক্ত বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার কাঁধেই পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
বিশেষ সতর্কতা: উচ্চ ইউভি ইনডেক্স এবং ভ্যাপসা গরমের কারণে পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।
তথ্যসূত্র: গুগল ওয়েদার এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD)
মামলার বাদী নিহতের ভাই ফজলুর রহমান। এজাহারে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদকে। দুই নম্বর আসামি খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা আমির মাওলানা আসাদুজ্জামান। এ ছাড়া দুজন স্থানীয়র নাম রয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ জনকে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার সময় ধারণকৃত ১৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে হামলায় সামনের সারিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি স্পষ্ট। ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ছুরি হাতে বাহিনী নিয়ে যাচ্ছেন। হকিস্টিক হাতে ছুটে যাচ্ছেন ছাত্রদল কর্মী যুবায়ের, যিনি নিজেই ওই ভিডিও ধারণ করেছিলেন। যুবদল কর্মী সুজন পুরোনো রড মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন। যুবদল সদস্য রাসেল স্থানীয় যুবকদের ডেকে লাইভ করে সবাইকে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। টিউবওয়েলের মাথা দিয়ে পীরের ওপর আঘাত করতে দেখা যায় যুবদল ক্যাডার মিঠুনকে।
ভিডিওতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ সাফিকেও শনাক্ত করা হয়েছে। হামলার তিন ঘণ্টা আগে ছাত্রদল কর্মী যুবায়ের নিজের ফেসবুক থেকে পোস্ট দিয়ে কুরআন অবমাননার অভিযোগ এনে পীরের আস্তানা উচ্ছেদের আহ্বান জানান।
অথচ মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ হামলার আগেই কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। ঘটনার দিন তিনি সামাজিক মাধ্যমে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বানও জানান। এসব প্রমাণ যুগান্তরের হাতে রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন ঘটনার দিন খাজা আহম্মেদের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে কথা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, খাজা আহম্মেদ কথা দিয়েছিলেন কোনো ঝামেলা হবে না, কিন্তু এর কিছু সময় পরেই হামলা হয়।
কেন শনাক্ত হওয়া হামলাকারীরা মামলায় আসামি হলেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে মামলার বাদী ফজলুর রহমান বলেন, এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারব না, আমাকে মাফ করবেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত নেতারা দাবি করেন, ঘটনাস্থলে ফিলিপনগর ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতা উপস্থিত থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তাদের নেতাদের জড়ানোর চেষ্টা চলছে। মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে কোনো আসামি জড়িত না থাকলে তদন্তে তার নাম বাদ যাবে। আবার কেউ জড়িত থাকলে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হবে।
সূত্র- যুগান্তর
পূর্বাচলে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নকশায় পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। শুক্রবার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন তিনি।
তামিম জানান, প্রতিমন্ত্রীকে পুরো ডিজাইন দেখানো ও উপস্থাপন করা হয়েছে এবং কিছু পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করছেন তারা। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্য খেলাকেও এই কমপ্লেক্সে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান বিসিবি সভাপতি।
এ বিষয়ে তামিম বলেন, এটা অনেক বড় একটা প্রপার্টি। ক্রিকেটের সঙ্গে যদি আরও কিছু খেলা যুক্ত করা যায়, তাহলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ভালো হবে। টাকার দিক থেকে ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান অনেক বোর্ডের চেয়ে ভালো হওয়ায় অন্য খেলাকে সহায়তা করার দায়িত্বও তাদের রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
স্টেডিয়ামের ডিজাইন পরিবর্তনে ডিজাইনারদের পাশাপাশি প্রয়োজনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকেও (এনএসসি) যুক্ত করার কথা জানান তামিম। তিনি বলেন, বড় পরিসরের স্টেডিয়াম করতে হলে সরকারের বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে, সেটি মাথায় রেখেই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।
তুরস্কে আয়োজিত একটি কূটনৈতিক সম্মেলনের ফাঁকে তিনি এই মন্তব্য করেন বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।
খাতিবজাদেহ বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি একাধিকবার বার্তা বিনিময় হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু বিষয়ে জেদ ধরে আছে, যা তেহরানের কাছে অত্যন্ত অযৌক্তিক ও বাড়াবাড়ি বলে মনে হয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তর নিয়ে ইরান কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
ইসলামাবাদে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুই দেশের দীর্ঘ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর তেহরানের এই কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই অনড় মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ভবিষ্যৎ পারমাণবিক সমঝোতার পথকে আরও কঠিন করে দিচ্ছে।