স্ত্রীর আশায় মাকে বলি

মুক্তবার্তা ডেস্ক:‘ভালো’ স্ত্রীর খুব চাহিদা ছিল পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নারায়ণ মাহাতোর। আর এ জন্য দেবতাকে তুষ্ট করতে চেয়েছিলেন তিনি। এই আশায় মা ফুলি মাহাতোকে নিয়ে গিয়েছিলেন মন্দিরে। সেখানেই তাকে বলি দেন মাহাতো। ভারতের সাপ্তাহিক এবং অনলাইন পত্রিকা এই সময় এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

গত শুক্রবার রাতে এমনই এক ঘটনা ঘটেছে কলকাতার পুরুলিয়া বরাবাজার থানার বামু গ্রামে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে এমন কথাই স্বীকার করেছেন নারায়ণ মাহাতো।

এই সময়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় ভাই হারু মাহাতোর চিৎকারে মন্দিরের সামনে এসে শিওরে ওঠেন গোটা গ্রামের বাসিন্দারা। তারা দেখেন, বাড়ির কালিমন্দিরে বিগ্রহের পায়ের তলায় লুটোপটি খাচ্ছে মায়ের কাটা মুণ্ডু। আর বিগ্রহের সামনে রাখা হাড়িকাঠে পড়ে আছে নিষ্প্রাণ দেহ।

হারু মাহাতো বলেন, ‘পাশেই শ্বশুরবাড়িতে থাকি আমি। হঠাৎ ছোট ভাই আমাকে গিয়ে বলে বাড়ি চল, মা ডাকছে, কাজ আছে। ওর জামা-কাপড়ে রক্তের দাঁগ দেখেই সন্দেহ হয় আমার। বাড়িতে গিয়ে মাকে না পেয়ে ছুটে যাই মন্দিরে। গিয়ে দেখি, মায়ের কাটা মাথা ধুলোয় লুটোচ্ছে, মাকে মেরে ফেলেছে ও।’

হারু মাহাতো আরও বলেন, ‘বিয়ের জন্য ও সব সময়ই বাড়িতে চাপ দিতো। কিন্তু ও কোনো কাজকর্ম করতো না। তাই মা ওর কথায় তেমন গুরুত্ব দিতেন না। বাড়িতে নারায়ণই কালিমন্দির তৈরি করেছিল। প্রতিদিন ও সেখানে পুজোও দিতো। কিন্তু স্ত্রী পাওয়ার আশায় ও এভাবে মাকে খুন করবে ভাবতেই পারিনি।’

বড় ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতেই ঘাতক নারায়ণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাস জানান, ‘মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন ছেলে নারায়ণ। ভালো স্ত্রী পাওয়ার আশায় সে মাকে কালীর সামনে বলি দিয়েছে। সাধনসঙ্গিনী বা স্ত্রী না থাকলে সাধনায় সিদ্ধিলাভ সম্ভব নয়। তাই সে অনেক আগে থেকেই বিয়ে করতে চাইছিল। কিন্তু ছেলে বেকার বলে মা তার আবদার গায়ে মাখেননি। উপয়ন্তর না পেয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয় নারায়ণ।’

Related posts

Leave a Comment