সিরিয়ায় ‘রাসায়নিক হামলায়’ নিহত কমপক্ষে ৩৫

মুক্তবার্তা ডেস্ক:সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইদলিবে বিমান থেকে চালানো ‘রাসায়নিক হামলায়’ অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসি-র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

এছাড়া দেশটির স্থানীয় বিরোধী কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেটওয়ার্কে পোস্ট করা ছবিতে বলা হয়েছে, এদের সবাই রাসায়নিক হামলার শিকার হয়ে শ্বাসরোধে মারা গেছে। তবে সিরিয়ান সরকার বরাবরের মতোই রাসায়নিক হামলার সত্যতা নাকচ করে আসছে।

সিরিয়ান অবজারভেটরির জানিয়েছে, মঙ্গলবার সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত খান শাইখুন এলাকায় চালানো ওই বিমান হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নয়জন শিশুও রয়েছে। হামলার পর সেখানকার অনেক মানুষ শ্বাসরুদ্ধ হয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়েন এবং তাদের মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে দেখা যায়। আক্রান্তদের অবস্থা দেখে একে ‘রাসায়নিক হামলা’ বলে সন্দেহ করছে সিরিয়ান অবজারভেটরি। হামলায় অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন বলেও সংগঠনটি জানিয়েছে।

কিন্তু রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘ এবং কয়েকটি সংস্থার গত অক্টোবরে করা এক তদন্তে দেখা গেছে যে, ২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে অন্তত তিনবার রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে ‘ক্লোরিন’ ব্যবহার করেছিলো সিরিয়ান বাহিনী। তাছাড়া ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের দ্বারাও বিষাক্ত ‘সালফার’ ব্যবহারেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তারা।

ইদলিবের উদ্ধারকারী ও মানবাধিকার কর্মীরাও একে ‘রাসায়নিক হামলা’ বলে চিহ্নিত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই হামলাটি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ অনুগত বাহিনীই চালিয়েছে।

এ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সিরীয় সেনাবাহিনীর মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বাশার অনুগত বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে রাসায়নিক হামলার অভিযোগ উঠলেও সরকারের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়। গত সপ্তাহে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগকে ‘অসত্য’ বলে উল্লেখ করা হয়।

বিদ্রোহী সমর্থিত একটি টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছে, মঙ্গলবার চালানো ওই হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা দেড় শতাধিক।

Related posts

Leave a Comment