সাকিব-মাহমুদুল্লাহ; রেকর্ড গড়ে টাইগারদের জয়

মুক্তবার্তা ডেস্ক:সাকিব-মাহমুদুল্লাহর ব্যাটে ভর করেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দারুন জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। মাত্র ৩৪ রানেই চার উইকেট হারিয়ে অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ।

এরপরই দলের ত্রাতা হয়ে আসেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এবং সাইলেন্ট কিলার খ্যাত বাংলাদেশের ক্রান্তিলগ্নে বারবার হাল ধরা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দুজনই তাদের ব্যাক্তিগত শতক পূরণ করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

এ দুই ব্যাটসম্যানের বিশ্বজয়ী ব্যাটিংয়ে ১৬ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটের বিশাল জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

রেকর্ড জুটি গড়ে ব্যক্তিগত ১১৪ রানের মাথায় সাকিব যখন আউট হলেন তখন যা করার তা পূর্ণই করেছেন তিনি।

১১৪ রানে সাকিব আউট হলেও মাহমুদুল্লাহ অপরাজিত ছিলেন ১০২ রানে। দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছেই বীরের মত মাঠ ছাড়েন মাহমুদুল্লাহ।  শেষে এসে চার বলে সাত রান করেন মোসাদ্দেক।

ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে ফিরলেন তামিম ইকবাল। টিম সাউদির বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার পর রিভিউ নিয়েছিলেন বাঁহাতি এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। তবে তাতে পাল্টায়নি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত।

এরপর পরপর দুই বলে চার হাঁকিয়ে ফিরে গেলেন সাব্বির রহমান। দলীয় ১০ রানের মাথায় নিজের দ্বিতীয় ওভারে তাকে বিদায় করেন টিম সাউদি।

পরে টিম সাউদির বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন সৌম্য সরকার। ১৩ বলে ৩ রান করে ফিরেন বাঁহাতি এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। অ্যাডাম মিলনেকে এক চার হাঁকানোর পরের বলেই ফিরে যান মুশফিকুর রহিম। ঘণ্টায় ১৪৬ কিলোমিটার গতির বলে উপড়ে যায় মিডল স্টাম্প।

শুক্রবার কার্ডিফে বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পরে ম্যাচটি শুরু হয়। টস জিতে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন।

মোসাদ্দেক এবং তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে কিউইরা। টাইগারদের হয়ে প্রথম আঘাত হানেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথমবারের মতো সুযোগ পাওয়া তাসকিন আহমেদ।

লুক রনকি ১৬ রান করে তাসকিনের বলে মোস্তাফিজের হাতে ধরা পড়েন। শুরু থেকেই ভয়ংকর ছিলেন মার্টিন গাপটিল। তবে ব্যক্তিগত ৩৩ রানে রুবেল হোসেনের বলে লেগ বিফোরের শিকার হন এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

এরপর কেন উইলিয়ামসন এবং রস টেইলর মিলে ৮৩ রানের জুটি গড়ে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দেন। ব্যক্তিগত ৫৭ রান করে রান আউটের শিকার হন উইলিয়ামসন। এরপর নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন তাসকিন। ভয়ংকর হয়ে ওঠা রস টেইলরকে মোস্তাফিজের ক্যাচে পরিণত করেন তাসকিন। টেইলর ৬৩ রান করেন।

এরপর বোলিং ক্যারিশমা দেখান মোসাদ্দেক। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই নেইল ব্রুম (৩৬) এবং কোরি এন্ডারসনকে (০) সাজঘরে ফেরত পাঠান মোসাদ্দেক।

এরপর অলআউটের শংকা জাগে কিউই শিবিরের। রানের চাকা শ্লথ হয়ে আসে। নিজের তৃতীয় ওভারে আবারো জিমি নিশামকে (২৩) নিজের শিকারে পরিণত করেন মোসাদ্দেক। নিজের নবম ওভারে এসে অ্যাডাম মিলনেকে (৭) সরাসরি বোল্ড করেন মোস্তাফিজ।

Related posts

Leave a Comment