সাঈদীকে মুক্ত করার আবদার জামায়াতের

মুক্তবার্তা ডেস্ক:আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পর সর্বোচ্চ আদালতেও একাত্তরের অপরাধের প্রমাণ হওয়ার পর আমৃত্যু কারাদ- পাওয়া জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানিয়েছে জামায়াত। দলের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে এই দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এই বিবৃতিতে এই দাবি জানান জামায়াতের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা। সর্বোচ্চ আদালতে দ- পাওয়া একাত্তরের রাজাকার বাহিনীর এই সদস্যকে সরকার পরিকল্পিতভবে জেলে বন্দী করে রেখেছে বলেও দাবি করেন জামায়াতের সেক্রেটারি।

জামায়াত যে বিবৃতি দিয়েছে সেটা সুষ্পষ্টভাবে আদালত অবমাননা বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তুরিন আফরোজ। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘তারা এটা বলতেই পারে না। সরকার আটকে রেখেছে, এটা তারা কীভাবে বলে? একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার বিচার হয়েছে। এই বিচারে নিজেকে আত্মপক্ষ সমর্থনে তারা নিজেরাও লড়েছে। তারপরও তারা এ কথা কীভাবে বলে?’।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পিরোজপুরে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, জোর করে ধর্মান্তকরণের আটটি অভিযোগে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। এর মধ্যে দুইটি অভিযোগে যেহেতু মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে, সে জন্য বাকি আটটি অভিযোগে কোনো দ- দেয়া হয়নি। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন সাঈদী। রাষ্ট্রপক্ষও আপিল করে যেসব অভিযোগে তার সাজা ঘোষণা হয়নি, সেগুলোতে সাজা দিতে।

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনসহ পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই দুই আপিলের রায় ঘোষণা করে। এর মধ্যে যে দুটি অভিযোগে সাঈদীর ফাঁসি হয়েছিল, তার মধ্যে ইব্রাহিম কুট্টি হত্যার দায় থেকে তাকে খালাস দেয়া হয় এবং বিসাবালী হত্যায় তাকে আমৃত্যু কারাদ- দেয়া হয়। এ ছাড়া ধর্ষণ, লুট, নির্যাতন ও জোর করে ধর্মান্তকরণের দায়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয় তার।

এই রায়ের পর দ- বাড়াতে রিভিউ আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ এবং খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন করেন সাঈদী। এই রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বৃহস্পতিবার।

শুনানির আগের দিন গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল তিনি বলেন, ‘বিসাবালী নামক জনৈক ব্যক্তিকে হত্যার যে অভিযোগে তাকে ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদ- এবং আপিলে সুপ্রিম কোর্টে আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করা হয়েছে, সেই হত্যাকা-ের সাথে তিনি জড়িত ছিলেন না এবং জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না।’

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদকে জামায়াতের বিবৃতির বিষয়ে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘এটা কেমন ভাষা? উচ্চ আদালতের রায় তো তারা আগেই মেনে নিয়েছে। ট্রাইব্যুনাল তাকে ফাঁসি দিয়েছিল। উচ্চ আদালত সেটা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদ- দিয়েছে। এখন রাষ্ট্রপক্ষ দ- বাড়াতে রিভিউ করেছে। তারাও রিভিও করেছে। তাদের কোনো বক্তব্য থাকলে আদালতে দেবে। কিন্তু উচ্চ আদালতের রায়কে এভাবে অমর্যাদা করার কোনো সুযোগ নেই।’

Related posts

Leave a Comment