রাশিয়ার পাতাল রেলে হামলাকারী ‘মধ্য এশিয়ান’

মুক্তবার্তা ডেস্ক:রাশিয়াতে পাতাল রেলে বিস্ফোরণে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি মধ্য এশিয়ান বংশোদ্ভূত বলে জানিয়েছে কয়েকটি রুশ গণমাধ্যম। এটি আত্মঘাতী হামলা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া আহত হয়েছে অন্তত ৪৫ জন।

রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংবাদমাধ্যম ইন্টারফেক্স জানায়, সন্দেহভাজন হামলাকারী ২৩ বছর তরুণ উগ্রপন্থী ইসলামের মতধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এই হামলাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে মনে করছে রুশ কর্তৃপক্ষ। তবে কারা তার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে সে নিয়ে রুশ সরকার খুব সতর্কভাবে মন্তব্য করছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমে অবশ্য হামলাকারী সম্পর্কে কিছু তথ্য আসতে শুরু করেছে। হামলাকারীর দেহাবশেষ সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং একজন নারীও এই হামলায় জড়িত থাকতে পারে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়।

 

বিস্ফোরণের ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে এক ফেইসবুক পোস্টে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, শহরের মাঝামাঝি অংশে সেনায়া প্লোশাড ও টেকনোলজিশেস্কি ইনস্টিটিউট স্টেশনের মাঝামাঝি অংশে স্থানীয় সময় বেলা ২টা ৪০ মিনিটে ট্রেনের একটি বগিতে বিস্ফোরণের ওই ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো প্রাথমিকভাবে দুটি স্টেশনে জোড়া বিস্ফোরণের খবর দিলেও পরে স্থানীয় কর্মকর্তারা বিস্ফোরণের ঘটনা একটি বলে নিশ্চিত করেন।

বিস্ফোরণের ঘটনার পরপরই অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেনায়া প্লোশাড স্টেশনের দিকে ছুটতে দেখা যায়। মাথার ওপর উড়তে দেখা যায় একটি হেলিকপ্টার।

এই ঘটনায় সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে তিন দিনের শোক পালন করা হচ্ছে। রাশিয়ার এই ঘটনায় শোক ও নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। বেলারুশের নেতা আলেক্সান্দর লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে বৈঠকের জন্য পুতিন নিজেও সোমবার সকালে সেন্ট পিটার্সবুর্গে ছিলেন।

তবে এই ঘটনার ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পড়েছে সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের সাধারণ মানুষের ওপর। কারণ এমন ঘটনা সেখানে বিরল। এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনার পর সেন্ট পিটার্সবুর্গের সব মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

মস্কো মেট্রো জানিয়েছেন, তারা স্টেশনগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে ফুল দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঘটনাস্থলে ফুল হাতে যাচ্ছেন শহরের হাজারো বাসিন্দা।

এক সময় বিচ্ছিন্নতাবাদী চেচেন যোদ্ধারা রাশিয়ায় বেশ কয়েকটি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ায় রুশ বাহিনীর অভিযানের পর আইএস এর পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে রাশিয়ায় হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১০ সালে মস্কোর মেট্রোরেলে দুই নারীর আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩৮ জন নিহত হয়েছিলেন। তার আগে ২০০৪ সালে চেচেন জঙ্গিরা একটি স্কুলে জিম্মি সঙ্কট তৈরি করলে পুলিশের অভিযান শেষে ৩৩০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়, যাদের অর্ধেকই ছিল শিশু। এর দুই বছর আগে মস্কোর একটি থিয়েটার হলে দর্শকদের জিম্মি করে সন্ত্রাসীরা; ওই ঘটনায় নিহত হন ১২০ জন।

Related posts

Leave a Comment