মাদকে আসক্ত হচ্ছে যুব সমাজ

সাজ্জাদ, বিশেষ প্রতিবেদনঃ সীমান্ত এলাকা গুলোতে মাদকের  রমরমা আঁকড়াখানা। ডাক নাম ফেন্সি, ফান্টু, ৬ ইঞ্চি যাই হোক না কেন পুরো নাম ফেন্সিডিল। আরেক নেশার গুটি, আড়াই, তিন, আসল নাম ইয়াবা । আইনের চোখে মরণ নেশা হলেও মাদকসেবীদের কাছে যেন ফিলিংসটাই আলাদা । তাই তো হাজারও যুবক এ মরণ নেশার প্রেমে হয়ে পড়েছে দিশেহারা। সিলেটের সীমান্ত জনপদ গোয়াইনঘাটের প্রত্যান্ত অঞ্চলেই মরণ-নাশক মাদকের ছোবলে আসক্ত হয়ে ঝড়ে পড়ছে হাজারো তরুণের স্বপ্ন। ফলে অকালেই ঝড়ে পড়ছে তাদের মূল্যবান জীবন। উপজেলায় বিভিন্ন যায়গায় যত্রতত্র ভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে মাদকের মত মহামারী ব্যাবসা।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমদানী হচ্ছে এসব মাদক। আমদানীর উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হচ্ছে বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা যেমন, সিলেট, চট্রগ্রাম,  টেকনাফ, ব্রক্ষণবাড়ি, কুমিল্লা, দিনাজপুর, রাজশাহী, চাঁপাই,  সীমান্ত দিয়ে আমদানী হয় এসব মাদক দ্রব্য তারও অভিযোগ নিয়মিত  পাওয়া গেছে। এতে এলাকার সাধারণ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী সহ মরণ নেশায় ধাবিত হচ্ছে উঠতি বয়সের যুবরা। বর্তমান সময়ের মধ্যে রয়েছে ঢাকার শীর্ষ স্থান মিরপুর, মোহাম্মাদপুর, ধানমন্ডি, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, এ ছাড়াও আছে অনেক মাদক স্পট এদের মধ্যে অন্যতম মিরপুর। বর্তমান সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের যুবকদের মাদকাসক্ত হওয়ার কারনে বাড়ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এমনকি খুন খারাপির মত নগন্য সব কর্মকান্ড। এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, মাদকের হাত থেকে যুব সমাজকে রক্ষাকরাটা বর্তমান সময়ের দাবী। মাদকসেবীদের মরণ নেশার হাত থেকে রক্ষা করা মা বাবা সহ সমাজের সবার নৈতিক দায়িত্ব।

বিভিন্ন ভুল সিদ্ধান্তে ঝড়ে যাচ্ছে মাদকসেবীদের মহা মূল্যবান জীবন। জীবনের গন্ডি শুরু হওয়ার আগেই বিভিন্ন প্রলোভনে পড়ে নানা রকম বাজে নেশায় আসক্ত হতে দেখা যাচ্ছে বর্তমান যুব সমাজের। আর দেশ হারাচ্ছে ভবিষ্যতের উজ্ঝল মশাল সুতরাং প্রতিটি মা বাবার উচিত তাদের সন্তানের সাথে বন্দুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলা। আর পুলিশ প্রশাসন একের পর এক মাদক বিরোধী র‌্যালী, মিটিং, বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের মাধ্যমে এলাকার সচেতন নাগরিকদের নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তবুও রোধ করা যাচ্ছে না মরণব্যাধি মাদককে।

ডিবি কিংবা পুলিশ প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালালেও তা মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয় এমনটাই ধারনা সচেতন মহলের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যাক্তিরা এ প্রতিবেদককে জানান, অভিযানে চিহ্নিত মাদক বিক্রেতারা ধরা পড়ছেনা। আর ধরা পড়লেও অল্প দিনে জামিনে বের হয়ে আবার ফিরে যাচ্ছে সেই আগের পেশায়।

এলাকার মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে অনেকেই পরিচিত কিন্তু ভয়ে মুখ খুলতে চায়না অনেকেই। মাদক বিক্রেতারা মাদক পরিবহনের বাহন হিসাবে কোমলমতি স্কুল পড়ুয়া শিশুদের ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। মাদকের নীল দংশনে অনেক পরিবার হারাচ্ছে তাদের আদরের সন্তানকে। মাদক নির্মূল করতে দ্রুত মাঠে নামবে প্রশাসন, আটক করবে চিহ্নিত সব মাদক ব্যবসায়ীদের এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর।

মাদকদ্রব্যনিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, থেকে বলা হয় ইতিমধ্যে অনেক মাদক বিক্রেতাদের আটক করে আইনের আওতায় এনেছি। এখনও যারা ধরাছোঁয়ার বাহিরে আছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে।

মাদককে না বলুন সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ুন

Related posts

Leave a Comment