মরিয়া ছাত্রদলের শীর্ষ পদের জন্য জবির নেতারা

মুক্তবার্তা ডেস্ক:নতুন কমিটি করার কথাবার্তাও শুরু হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। পদপ্রত্যাশীরাও দৌড়ঝাঁপ শুরু করছেন। এ প্রতিযোগিতায় আছেন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতারা। তারা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ দুই পদের অন্তত একটি পেতে মরিয়া।

ছাত্রদলের কমিটি কবে নাগাদ হবে তা সুনির্দিষ্ট না হলেও সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরের কমিটিও করা হয়েছে দুই সংগঠনেরই।

এ ছাড়া মূল দল বিএনপির বেশ কয়েকটি জেলার কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সংগঠন গোছানোর তোড়জোড় চলছে বিএনপিতে।

সে হিসেবে ছাত্রদলের কমিটিও দ্রুত সময়ে হবে এমন গুঞ্জন থাকায় পদপ্রত্যাশীরা তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে।

ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির বিভিন্ন পদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কর্মীরা জায়গা পেলেও তাতে তুষ্ট নন ইউনিটটির নেতাকর্মীরা। নতুন কমিটিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ দুটি পদের অন্তত একটি পেতে চান তারা।

দেশের প্রধান দুই দলের একটি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন হলো ছাত্রদল। বিগত সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সরকারবিরোধী সব আন্দোলেনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে এলেও দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষপদে স্থান না পাওয়ায় একটা হতাশা কাজ করছে তাদের মধ্যে। অন্যদিকে বর্তমান সরকারের মামলা-হামলা, কারাবরণ ডজন ডজন মামলার আসামি জবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের এই ত্যাগের মূল্যায়ন এবং সংগঠনের সক্রিয়তা বাড়াতে ছাত্রদলের আগামী কমিটির শীর্ষ দুটি পদের অন্তত একটি পদের দাবি জোরালো হচ্ছে তাদের মধ্যে।

২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজীব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে বিএনপির ভ্যানগার্ড ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্যবিশিষ্ট (আংশিক) কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। তখন আরো ঘোষণা দেয়া হয়, ২০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে । পরে ৭৩৬ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে বিগত দিনগুলোতে সরকারবিরোধী সব আন্দোলেনে তেমন কোনো ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতারা।

এরপর থেকে কোণঠাসা ও ‘বুড়ো’দের সংগঠনে পরিণত হওয়া ছাত্রদলকে নবীনদের হাতে ছেড়ে দেয়ার জোর দাবি উঠছে দল ও সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে। গঠনতন্ত্র অনুসারে ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মাধ্যমে হওয়ার কথা থাকলেও সাংগঠনিক ক্ষমতাবলে বিএনপির চেয়ারপারসন অনুমোদন দিয়ে থাকেন কমিটি।

Related posts

Leave a Comment