‘মঙ্গল শোভাযাত্রার নির্দেশ মুসলিম ও দেশীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী’

মুক্তবার্তা ডেস্ক:মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ নববর্ষ পালনের যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খাদেমুল ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন। তিনি কওমি মাদ্রাসার সরকারি স্বীকৃতির জন্য গঠিত কমিশনের সদস্য সচিব।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মুফতি রুহুল আমীন বলেন, ‘বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থী মুসলমান; তারা ধর্মপরায়ণ। মঙ্গল শোভাযাত্রা মুসলমানের আকিদা বিশ্বাসের পরিপন্থী এবং দেশের পরিবেশ-সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’ তিনি বলেন, ‘শোভাযাত্রার মাধ্যমে বর্ষবরণের কথা বলে দেশের ছেলে-মেয়েদের রাস্তায় নামিয়ে শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, অর্জিত সুনাম ব্যাহত করতে অতি উৎসাহী কিছু ব্যক্তি বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে এ ধরনের নির্দেশ দিয়েছে।’

মুফতি রুহুল আমীন অনতিবিলম্বে এ ধরনের নির্দেশ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘অন্যথায় যেকোনো অবস্থার দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সব স্কুল ও কলেজে আড়ম্বপূর্ণভাবে বর্ষবরণ আয়োজন করতে হবে। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে বাংলা নববর্ষ পালনে বাধ্যবাধকতা আরোপ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয় স্কুল কলেজ পর্যায়ে বর্ষবরণ আয়োজনের।

আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের পর গত ১৬ মার্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। মাউশি’র সহকারী পরিচালক (এইচআরএম) আশেকুল হক স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়, বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ আয়োজন উপলক্ষে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পয়লা বৈশাখে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে ও আড়ম্বরের সঙ্গে বাংলা বর্ষবরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া ইউনেস্কো কর্তৃক মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে বিশ্বঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করায় বিষয়টি গুরুত্বসহ উদযাপনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

Related posts

Leave a Comment