ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাইরে হামলা, নিহত ৫

মুক্তবার্তা ডেস্ক:লন্ডনে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ভবনের কাছে একটি গাড়ি পথচারীদের উপর তুলে দেওয়ার পর ছুরি হাতে পুলিশকে মেরে এক ব্যক্তি পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকতে গেলে তাকে গুলি করে  নিরাপত্তা কর্মীরা। বুধবার বিকালে পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ হাউস অব কমন্সের অধিবেশন চলাকালে এই ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ব্রাসেলসে সন্ত্রাসী হামলার বছর পূর্তির দিনে লন্ডনের এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী ঘটনা’ বলছে যুক্তরাজ্য পুলিশ।

স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে ব্রিটেনের পার্লামেন্ট ভবনে ছুরি ও বন্দুক নিয়ে এ হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।

হামলাকারী প্রথমে পার্লামেন্টের সভাস্থল ওয়েস্টমিনিস্টার প্যালেসের কাছে পথচারীদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেয়। এরপর এক পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে। তখন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হামলাকারীকে গুলি করে। এ ঘটনায় এক নারী নিহত হন। আহত হন হামলাকারীসহ অন্তত ২০ জন। কিছুক্ষণ পূর্বে ছুরিকাহত ওই পুলিশ সদস্যেরও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এছাড়াও আহত হামলাকারীরও মৃত্যু হয়েছে।

লন্ডন পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, সংসদ ভবনের কাছে এবং ওয়েস্টমিনিস্টার ব্রিজের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় চারজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে একজন পুলিশ অফিসার, একজন হামলাকারী এবং দু’জন পথচারী রয়েছেন।

মেট্রোপলিটান পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার মার্ক রোলি বলেছেন, ২০ জন আহত হয়েছেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক আলোকচিত্রী ওয়েস্টমিনিস্টার সেতুর কাছে ১২ জনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছেন।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে বন্দুক ও ছুরি হামলাকে ‌‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে মন্তব্য করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। ব্রিটিশ মেট্রোপলিটন পুলিশ বলছে, আমরা এ ঘটনা ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে মনে করছি।

তবে হামলায় বিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে নিরাপদ আছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানালেও হামলার সময় থেরেসাকে কোথায় নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি।

এ ঘটনার পর সংসদ মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া কর্মকর্তাদের পার্লামেন্টের ভেতরে অবস্থানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, পার্লামেন্টের বাইরে এক ব্যক্তিকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

এদিকে ব্রিটেনের পার্লামেন্টের বাইরে হামলার ঘটনা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অবগত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এ বিষয়ে তিনি খবর রাখছেন উল্লেখ করে হোয়াইট হাউস বলছে, ট্রাম্প এ হামলার ঘটনাকে বড় সংবাদ বলে মন্তব্য করেছেন।

ডেইলি মেইলের সাংবাদিক কোয়েন্টিন লেটস বলেন, হামলাকারী খোলা গেইট দিয়ে ঢুকে পড়েন, তারপর পুলিশের উপর চড়াও হয়েছিলেন। একজন পুলিশ সদস্য লুটিয়ে পড়েন।

“তারপর হামলাকারী দৌড়াতে থাকে এমপিরা যে গেইট দিয়ে পার্লামেন্টে ঢোকেন, সে দিকে। ২০ গজের মতো দৌড়ানোর পর তাকে সাদা পোশাকে থাকা দুই নিরাপত্তার গুলিতে তিনি পড়ে যান।।”

রয়টার্সের এক আলোকচিত্রী বলেছেন, এই ঘটনায় ডজন খানেক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় দেখেছেন তিনি।

তার তোলা ছবিতে কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়; এর মধ্যে এক নারী গাড়ির নিচে চাপা পড়েন। আহতদের মধ্যে ফ্রান্সের কয়েকটি স্কুল শিশুও রয়েছে। আহতদের যে ছবি গণমাধ্যমে এসেছে, তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। যা দেখে মনে হচ্ছে, তারা গাড়িটির ধাক্কায় জখম হন।

স্কাই নিউজের সাংবাদিক অ্যালান প্যারি বলেন, সেতুর রেলিংয়ে একটি গাড়ি আঘাত হানে, সেখানে একজন পথচারী অথবা সাইকেল আরোহীকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

পার্লামেন্ট ভবনে অবস্থানরত রয়টার্সের এক সাংবাদিক বলেন, ফটকের ভেতরে আহত দুজনকে চিকিৎসা দিতে দেখেছেন তিনি।ঘটনার সময় সেতুর উপর বাসে থাকা এক পর্যটক স্কাই নিউজকে বলেন, “আমি দেখলাম একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর পাশে পথচারীদের উপর উঠে যাচ্ছে। বেশ কয়েকজন লুটিয়ে পড়ে তখন। অন্তত ১০ জনকে আমি দেখেছি।” হামলার পর ওই এলাকায় সড়ক বন্ধ করে দেয় পুলিশ। সরিয়ে নেওয়া হয় অন্যদের।

লন্ডনের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানানো হয়েছে বলে তার মুখপাত্র জানিয়েছেন। তবে এনিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের কোনো বক্তব্য আসেনি।

Related posts

Leave a Comment