ব্রিজিতকে ব্যঙ্গ করে আবার বিতর্কে শার্লি হেবদো

মুক্তবার্তা ডেস্ক:ফ্রান্সের প্যারিস ভিত্তিক শার্লি হেবদো নামের রম্য পত্রিকাটি এর আগেও সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। সেই সময়ে ইসলাম ধর্মের মহানবীকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র ছেপে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সহানুভূতিও কুড়িয়েছিল ব্যঙ্গচিত্র পত্রিকাটি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।

সদ্য নির্বাচিত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর স্ত্রী ব্রিজিতের ‘কুরুচিকর’ ব্যঙ্গচিত্র ছেপে তোপের মুখে পড়েছে ‘শার্লি হেবদো’।

ফ্রান্সের ইতিহাসে কনিষ্ঠতম প্রেসিডেন্ট হিসেবে গতকাল শপথ নিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এর মাত্র চারদিন আগেই প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে নিয়ে একটি ব্যঙ্গচিত্র ছেপেছে শার্লি হেবদো।

পত্রিকার প্রচ্ছদে দেখা যাচ্ছে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে হাত দিয়ে রযেছেন ম্যাক্রোঁ। প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ করে লেখা, ‘ইনি অলৌকিক কিছু ঘটাতে চলেছেন।’

দেশের ফার্স্ট লেডি সম্পর্কে এই ধরনের ব্যঙ্গচিত্র কুরুচিকর বলে মনে করছেন অনেকেই। এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন ব্রিজিতের প্রথম পক্ষের মেয়ে তিফেইন ওজিয়ের। টুইট করেছেন খোদ ব্রিজিতও।

ইমানুয়েল-ব্রিজিতের অসম বয়সের প্রেম নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ আগে কম হয়নি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সৌজন্যে গত কয়েক মাস ধরেই ইমানুয়েল খবরের শিরোনামে। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তখন থেকেই চলছে কাটাছেঁড়া। ১৫ বছরের কিশোর ইমানুয়েলের ৪০ বছরের শিক্ষিকার প্রেমে পড়ার গল্প সংবাদমাধ্যমকে ফলাও করে জানিয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট। কিন্তু তার ‘প্রৌঢ়া’ স্ত্রীকে নিয়ে গোড়া থেকেই হাসি-মশকরা চলছে ফরাসি সংবাদমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে সচেতন ম্যাক্রোঁ দম্পতিও। গত মাসে একটি পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিতে গিয়েও ব্রিজিত বলেছিলেন, ‘আমি নারী বলেই বয়স নিয়ে আমাদের এত কথা শুনতে হয়। ট্রাম্প দম্পতির মধ্যেও তো বয়সের এতটাই ফারাক। তবু ওদের আক্রমণ করা হয় না, কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প এক জন পুরুষ। মেলানিয়া যদি বয়সে বড় হতেন, আমি নিশ্চিত তাকেও কেউ ছাড়ত না।’

শার্লি হেবদোর সাম্প্রতিক ব্যঙ্গচিত্র নিয়েও মুখ খুলেছেন ৬৪ বছরের ব্রিজিত। নাম না করে ওই পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিগত ভাবে যা সম্ভব, তা সব সময় কাঙ্খিত নাও হতে পারে।’ নিজের টুইটের সঙ্গে ‘জে স্যুই শার্লি’ কথাটিও হ্যাশট্যাগ দিয়ে জুড়েছেন ব্রিজিত।

২০১৫ সালে পত্রিকার অফিসে যখন জঙ্গি হামলা হয়েছিল, সেই সময় এই হ্যাশট্যাগ কার্যত স্লোগানের জায়গা নিয়েছিল। একজন লিখেছেন, ‘পাঁচ বছর প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর পাশে না থাকলেও কেউ নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করলেই আমি ফার্স্ট লেডির পাশে সব সময় থাকব।’

অনেকে আবার শার্লি হেবদোর এই সংস্করণকে নারী বিদ্বেষী, কুরুচিকর পর্যন্ত বলেছেন। মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ খুলেছেন ব্রিজিতের বড় মেয়ে তিফেইন। স্ত্রীর প্রথম পক্ষের তিন সন্তানকেই বিয়ের পরে দত্তক নিয়েছিলেন ইমানুয়েল। বড় মেয়ের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের বয়সের পার্থক্য ছয়-সাত বছরের। ৩২ বছরের তিফেইন একটি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা নিয়ে আর উদাসীন থাকাটা ঠিক হবে না। তবু ২১ শতকের ফ্রান্সে এই ধরনের মন্তব্য যারা করছেন, তাদের বেশি গুরুত্বও দেওয়াটাও উচিত বলে মনে হয় না। আমি জানি, যারা এসব কথা বলছেন, হিংসা থেকে বলছেন।’

Related posts

Leave a Comment