বাণিজ্য ক্ষেত্রে সময় এখন বাংলাদেশের: প্রধানমন্ত্রী

মুক্তবার্তা ডেস্কঃ বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশের সামনে অনেক সুযোগ রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পণ্যের বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে গুণগত মান বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘সময় কিন্তু এখন আমাদের, সময় বাংলাদেশের, একথাটি মনে রাখতে হবে এবং সেই সুযোগটি আমাদের নিতে হবে।’

শনিবার সকালে পূর্বাচলে নতুন ভেন্যুতে ২৬তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা দেশ উন্নতি করতে পারে ব্যাপকভাবে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়ে। আমরা সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি। আন্তর্জাতিকভাবে নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করা, রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য পণ্য উৎপাদন বহুমুখীকরণ একান্তভাবে অপরিহার্য। বর্তমান বিশ্বে করোনার পর আমাদের যে অভিজ্ঞতা, এখন খাদ্যপণ্যের চাহিদা বিভিন্ন দেশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এটা কখনোই কমবে না। আবার আমার নিজের দেশেও বাজার সৃষ্টি হচ্ছে। কৃষিপণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাণিজ্য মেলার সুবিধা হলো দেশ-বিদেশ থেকে যারা আসেন, তাদের সঙ্গে মত বিনিময় করা যায়। অনেক পণ্যের চাহিদা সম্পর্কে জানা যায়। পার্টনারও খুঁজে পাওয়া যায়। ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গেলে দেশে-বিদেশে পার্টনারশিপ খুব প্রয়োজন।’

করোনাকালে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘করোনায় ব্যবসা ধরে রাখতে এবং এগিয়ে যেতে নানা প্রণোদনা দিয়েছি। করোনায় ব্যাংকের সুদ ৫০ ভাগ আপনাদের দিতে হবে, বাকিটা আমরা ভর্তুকি দিয়ে দিচ্ছি। এই করোনায় অনেক দেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে গেছে। আমাদের অর্থনীতি চালু রাখতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তবে কিছুটা ধাক্কা লেগেছে। সেটাও অতিক্রম করতে পারবো বলে বিশ্বাস করি। যে আদর্শ নিয়ে জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করেছেন, সেটা অবশ্যই পূরণ করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় রপ্তানি খাতের ভূমিকা অনেক বেশি। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন এবং বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে এগিয়ে নিয়ে যাবে এই অর্থনৈতিক অগ্রগতি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘২০০৯ সালে সরকার গঠনের সময় মোট রপ্তানি আয় আমি পেয়েছিলাম ১৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত ১৩ বছরে আমরা অর্জন করেছি ৪৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এই ব্যাপক উন্নতি আমরা করতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদের আগামী প্রজন্ম পাবে একটা সুন্দর সমাজ, সুন্দর দেশ, উন্নত দেশ; যে দেশ হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আত্মনির্ভরশীল, আত্মমর্যাদাশীল, উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

শ্রমিক-মালিক-উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার মধ্যেও আমাদের অর্থনীতি কিন্তু একেবারে স্থবির হয়নি। যেভাবে হোক আমরা কিছুটা চালু রাখতে সক্ষম হয়েছি। পৃথিবীর বহু দেশ আজ ভীষণভাবে অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়েছে কিন্তু বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। হয়তো কিছুটা ধাক্কা আমাদের লেগেছে। আমাদের প্রবৃদ্ধি ৮ ভাগের উপরে তুলতে সক্ষম হয়েছিলাম, যদিও সেটা কমে গিয়েছিল। ইনশাল্লাহ আমরা সেটা থেকেও অতিক্রম করতে পারবো বলে বিশ্বাস করি। কারণ আমরা একটা লক্ষ্য স্থির করেছি। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি কিন্তু আমাদের আরও সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক সুযোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনাকালেও আমাদের রপ্তানি বেড়েছে। ডিজিটাল ডিভাইস রপ্তানিতে আমরা ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছি। ২০২০-২১ অর্থবছরে করোনাকালেও ৪৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছি। তাছাড়া আমাদের সার্বিক রপ্তানি বেড়েছে। সময় কিন্তু এখন আমাদের, সময় বাংলাদেশের। এ কথাটা আমাদের মনে রাখতে হবে এবং সে সুযোগটা আমাদের নিতে হবে। রপ্তানিকে উৎসাহিত করার জন্য আমি প্রতি বছর একটি পণ্যকে বর্ষপণ্য ঘোষণা করে থাকি। ২০২২ আইসিটি পণ্য সেবাকে জাতীয়ভাবে বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করছি।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ আয়োজনে মেলা অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সভাপতিত্ব করেন।

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) মো. জসিম উদ্দিন ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

Related posts

Leave a Comment