ফরিদপুরে পল্লীকবি জসীম উদদীনের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী পালিত

মুক্তবার্তা ডেস্কঃ তুমি যাবে ভাই, যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়, গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়; (নিমন্ত্রণ)

এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,

তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। (কবর)

এরকম বহু জনপ্রিয় কবিতা, গল্প, নাটক আর গানের মাধ্যমে গ্রাম-বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখের কথা তুলে ধরে যে কবি পেয়েছিলেন ‘পল্লীকবি’ উপাধি। সেই কবি জসীম উদদীনের আজ ১১৯তম জন্মবার্ষিকী।

আজ ১ জানুয়ারি। ১৯০৩ সালের এই দিনে ফরিদপুর শহরতলীর কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কবির পিতা আনছার উদদীন, মাতা আমেনা খাতুন।

কবি জসীম উদদীন ১৯৩৯ সালে মমতাজ বেগমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের তিন ছেলে ড. জামাল আনোয়ার, খুরশিদ আনোয়ার ও আনোয়ার হাসু।

কবি জসীম উদদীনের ১১৯তম জন্মবার্ষিকীতে ফরিদপুর শহরতলী অম্বিকাপুরে কবির সমাধিস্থলে সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসন ও জসীম ফাউন্ডেশন, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানায়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অষিম কুমার সাহা, প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, প্রফেসর এমএ সামাদ প্রমুখ।

সভায় বক্তারা গ্রাম বাংলার এই কবির রচনা সামগ্রী নিয়ে বেশি করে গবেষণার তাগিদ দেন।

এসময় বক্তারা আরও বলেন, আমাদের বাংলার রুপকে আগামীর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে কবির লেখা পাঠ্য পুস্তকে আরও বেশি করে তুলে ধরতে হবে। পরে অনুষ্ঠিত হয় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা।

পল্লীকবির অমর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে, নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, এক পয়সার বাঁশি, রাখালী, বালুচর প্রভৃতি। পল্লীকবি জসীম উদদীনের একমাত্র উপন্যাস বোবাকাহিনী।

পল্লীকবি জসীম উদদীন ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।

Related posts

Leave a Comment