পদ্মা সেতুু: এক অসমসাহসী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের রূপায়ণ

ড. মো: শাহিনুর রহমান
অসংখ্য প্রবাহিকার জলবিধৌত সুজলা সতুফলা শস্য-শ্যামলা বঙ্গভূমির যাতায়াত ও যোগাযোগ আবহমান কাল ধরে নদীসংযোগেই ঘটেছে। বাংলার সতুপ্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ এর গ্রাম ও গঞ্জ উভয়ের যুগপৎ অবস্থান ছিলো নদী অববাহিকায়। সারা দেশে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা নাব্য নদীপথে নানা রঙের ও ঢঙয়ের ছোট-বড় নৌকা অবাধে চলাচলের মাধ্যমে জান ও মালামাল পরিবহণের কাজ চলত। কিন্তু কালের বিবর্তনে, জলবায়ুও ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তনের দরুণ দেশের প্রায় সকল নদ-নদী নাব্যতা হারিয়েছে। তাছাড়া, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার বিপুল চাপ পরিবহন খাতে অনেক বেশি গতিময়তার দাবি সৃষ্টি করে যা আসলে শুধুমাত্র নৌ-যোগাযোগের মাধ্যমে মেটানো সম্ভব নয়। ফলে, পৃথিবীর সকল আধুনিক রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও সড়ক এবং রেলপথ সাধারণতপরিবহণ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ বাংলার ভূ-খণ্ডকে ত্রিখণ্ডিত করে রেখেছে তিন প্রমত্ত জলধারা পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা। এই ত্রিখণ্ড ভূমিতে সার্বজনীন সড়ক ও রেল যোগাযোগ সৃষ্টি করতে হলে এই তিন জলধারার ওপর সেতু নির্মাণের বিকল্প নেই।
সারা বাংলাদেশে অবিচ্ছিন্ন সড়ক ও রেল যোগাযোগের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও বাংলাদেশের জাতির পিতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর স্বপ্নের পথ অনুসরণ করেই মেঘনা ও যমুনার ওপরে নির্মিত হয়েছে মেঘনা-গোমতি সেতুু এবং বঙ্গবন্ধু সেতুু। এর ফলে, দেশের উত্তরাঞ্চল ও পূর্ব-দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন হয়েছে। কিন্ত, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সেইরেকম অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ছিল অধরা।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণের প্রধান সেনানী আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু দুহিতা শেখ হাসিনা পিতার মতোই সারা দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থাকে অবিচ্ছিন্ন রূপ দিতে বদ্ধপরিকর। সেই উদ্দেশ্যে যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুুর উদ্বোধনকালে শক্তিশালী পদ্মা নদীর ওপর সেতুু নির্মাণের ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন এবং সেই অনুযায়ী নির্দেশনা দিয়েছিলেন। পরে, ২০০১ সালের ৪ জুলাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পদ্মা বহুমুখি সেতুু প্রকল্পের (পিএমবিপি) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু ওই বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল স্বাধীনতা বিরোধী চার দলীয় সরকারকেড়ে নিয়েছিল বলে প্রকল্পটি প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার শিকার হয় এবং এর ফলে সময়মতো এগিয়ে যেতে পারেনি। পরবর্তীকালে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরায় নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারো পদ্মা সেতুু প্রকল্পের বাস্তবায়নে পূর্ণ মনোযোগ দেন এবং অনেক চড়াই-উৎরাই, এবং রাজনৈতিক চাপান-উতোরের পরও তিনি এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব করে তুলেছেন। আজ পদ্মা সেতুু সত্যিই কল্পকাহিনী নয়, আমাদের অসমসাহসী জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কারণেই একেবারে বাস্তব।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে যাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা, তাদের জন্য পদ্মার বুকের ওপর সেতুু নির্মাণ অনেকের কাছেই আবাল্য লালিত স্বপ্নপুরণের নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল অবকাঠামো এর নানামুখি প্রায়োগিক সুবিধার মাধ্যমে সারা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বহুগুণে বলবান করবে বলে নিঃসংশয়ে বলা যেতে পারে। অর্থনীতিতে বিশাল পরিবর্তন আনয়নের মাধ্যমে সেতুুটি জাতীয় জিডিপিকে অন্তত ২ শতাংশ বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সাথে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মোট উৎপাদন ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। একইভাবে, সেতুুটি মোট শ্রমশক্তির ১.২ শতাংশের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিকরে জনসাধারণের দুর্দশা লাঘবে ভূমিকা রাখবে এ আশাও করা হচ্ছে। সেতুুটি পুরোপুরি কাজ করতে শুরু করলে তা দেশের অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে যাবে। গৌরবের পদ্মা বহুমুখি সেতুু নির্মাণের শুরু থেকেই ধারণা করা গিয়েছিলো যে, এটা আমাদের দেশের ভূদৃশ্যকে অকল্পনীয় রূপান্তরের ভিতর দিয়ে নিয়ে যাবে।
হিমালয়দুহিতা পদ্মা দক্ষিণাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। দক্ষিণাঞ্চলে সড়ক-পরিবহণ খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সত্ত্বেও এই উন্নয়নের সুফল সারা দেশে ছড়িয়ে দেবার জন্য একটি সেতুুর খুব প্রয়োজন ছিল। যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে ফেরিতে জায়গার জন্য লড়াই প্রতি বছর আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। ফেরিঘাটে প্রতিদিন বাস এবং হালকা যানবাহনের ক্ষেত্রে গড়ে দুই ঘণ্টারও বেশি এবং ট্রাকের ক্ষেত্রে প্রায় ১০ ঘন্টা অপেক্ষা করে থাকতে হয়। এ ছাড়া, পদ্মার নদী-তীর দক্ষিণ দিকে (জাজিরা পয়েন্ট) অস্থিতিশীল, যেখানে নদীর প্রস্থ ঘন ঘন পরিবর্তিত হয়, যার ফলে বন্দরগুলো শুকনো ঋতুসমূহে অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে, ভ্রমণ ও মালামাল পরিবহণের সময় অসহনীয় যানজটের শিকার হতে হয় সাধারণ জনগণকে। বর্তমানে, ঢাকা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে পরিবহণের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হল ফেরি যা সংখ্যায় যথেষ্ট নয়। তাছাড়া, তামাবিল-সিলেট-সোরাইল-কাঁচপুর-ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সঙ্গে ভাটিয়াপাড়া-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের সরাসরি সড়কপথের অভাব রয়েছে যার সমাধান হয়ে উঠতে চলেছে পদ্মা সেতুু। এই সেতুুটি ট্রান্স-এশিয়ান হাইওয়ে (এন-৮) এবং ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ভারত, ভুটান এবং নেপালের সাথে আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে সহজতর করবে। পদ্মা সেতুু প্রতিষ্ঠার ফলে ক্রমবর্ধমান নেটওয়ার্ক এবং সংযোগ এখন পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল, উচ্চ-প্রযুক্তি পার্ক, বেসরকারী শিল্প শহর এবং আরও অনেক কিছু তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
এতো সম্ভাবনা এবং সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে যে সেতুু, তা নির্মাণের পেছনের গল্পটিও অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। আজকের এই বাস্তবরূপ লাভ করতে পদ্মা বহুমুখি সেতুু প্রকল্পকে অতিক্রম করতে হয়েছে অসংখ্য প্রতিবন্ধকতা, এবং সীমাহীন প্রতিকূলতা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালে পদ্মা সেতুুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেও সরকার পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পটি ধীর গতিতে এগোয়। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হতে ২০০৪ সাল এবং প্রকল্প অনুমোদন হতে আরো তিন বছর পার হয়। প্রকল্পটির অনুমোদনকালে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। প্রথম পরিকল্পনার সময়ে পদ্মা সেতুুতে শুধুমাত্র সড়ক পরিবহণের কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি দেশরত্ম শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পদ্মা সেতুুতে রেলপথ যুক্ত করেন এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস, অপটিক্যাল ফাইবার লাইন যুক্ত করায় এটি বহুমুখি সেতুুর চরিত্র অর্জন করে। ২০১১ সালে সেতুুর বিস্তারিত নকশা তৈরির কাজ শেষ হলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার সেতুুর জন্য ১২০ কোটি ডলার ঋণ নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত করে। বাংলাদেশের সাধারণ জনতা আশায় বুক বাঁধে যে অবশেষে স্বপ্নের পদ্মা সেতুু বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।
কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের জনবান্ধব সকল কাজে বিঘ্ন উৎপাদনকারী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অপশক্তি বসে থাকেনি। তারা তাদের ঘৃণ্য অপতৎপরতায় আগাগোড়াই লিপ্ত ছিল। তাদের সেই ষড়যন্ত্রের ফল হিসেবে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়, আর কী আশ্চর্য, বিশ্বব্যাংকের মতো একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সেই ষড়যন্ত্রীদের উর্বর মস্তিষ্কপ্রসূত দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিয়ে ২০১২ সালে পদ্মা সেতুু প্রকল্প থেকে তার ঋণ প্রত্যাহার করে নেয়। ২০১২ সালের ২৯ জুন এক বিবৃতিতে ব্যাংকটি বলেছে, “বিশ্বব্যাংকের কাছে বিভিন্ন উৎসের দ্বারা সমর্থিত বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে যা বাংলাদেশের সরকারী কর্মকর্তা, এসএনসি লাভালিন (কানাডা-ভিত্তিক বাস্তবায়নকারী) নির্বাহী এবং পদ্মা বহুমুখি সেতুু প্রকল্পের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে।” পরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) বিশ্বব্যাংকের পথ অনুসরণ করে।
এ ছিল সরকারের জন্য বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই ষড়যন্ত্রের জন্য এতটুকুও ঘাবড়ে যাননি। কারণ জননেত্রী শেখ হাসিনার সততা ও নিষ্ঠাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি জানতেন অবস্থান থেকে একটুও পেছালে পদ্মা সেতুু নির্মাণ অধরা স্বপ্নই রয়ে যাবে। তাই তিনি সোচ্চারে বিশ্বব্যাংকের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং সততা আর দেশপ্রেমের বলে বলীয়ান হয়ে মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তোলেন- “যেখানে বিশ্ব ব্যাংক তখন একটি টাকাও ঋণ ছাড় দেয়নি সেখানে দুর্নীতি হয় কীভাবে?” তিনি দাবী জানান, “কথিত দুর্নীতির প্রচেষ্টার অভিযোগ বিশ্ব ব্যাংককে প্রমাণ করতে হবে না হলে তাদের কাছ থেকে কোনো ঋণ নেবে না বাংলাদেশ, নিজস্ব অর্থেই আমরা পদ্মা সেতুু নির্মাণ করব।”
এই উক্তি শেখ হাসিনার মনোবল এবং সততারই শক্তি। বাংলাদেশের জনগণের সকল প্রতিনিধির সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর এই সাহসী উচ্চারণ আমাদের স্মরণপথে বঙ্গবন্ধুকে এনে দাঁড় করায়; সেই শালপ্রাংশু ব্যক্তিত্বের উজ্জ্বল প্রতিরূপ আমরা দেখতে পাই বঙ্গবন্ধু কন্যার মধ্যে। আপামর বাঙালি আবার আশায় বুক বাঁধে।
এরপর পদ্মায় অনেক জল গড়িয়েছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি তদন্ত করে বিশ্বব্যাংকের দাবির সত্যতার পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি। কিন্তু ষড়যন্ত্রীদের প্রশ্রয়দাতা বিশ্বব্যাংক স্বচ্ছতার অভাবের কারণ দেখিয়ে তদন্তকে গ্রহণযোগ্য মনে করেনি। পরে, ২০১৭ সালে কানাডার একটি আদালত পদ্মা সেতুু প্রকল্পের চুক্তি অর্জনের জন্য বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে এসএনসি-লাভালিনের নির্বাহীদের বেকসুর খালাস দেন।
২০১৫ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা সেতুু ও নদীশাসনের কাজ উদ্বোধনের মাধ্যমে পদ্মা বহুমুখি সেতুুর মূল নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এদিকে সার্ভিস রোড ও টোলপ্লাজা তৈরির কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালে। পদ্মা সেতুুর মোট নির্মাণ ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩.৩৯ কোটি টাকা। এসব খরচের মধ্যে রয়েছে সেতুুর অবকাঠামো নির্মাণ, নদীশাসন, সংযোগ সড়ক নির্মাণ, তিনটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যয়, অধিগ্রহণকৃত ৯১৮ হেক্টর ভূমির মূল্য পরিশোধ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা।
এই বিশাল প্রকল্প শুধুমাত্র নিজস্ব অর্থব্যয়ে সম্পন্ন করা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এক বিরাট দুরূহ কাজ। প্রথমত, অর্থের নিরবচ্ছিন্ন যোগান নিশ্চিত করতে সরকারকে অভ্যন্তরীন খাত থেকে ঋণ নেয়া ছাড়াও কর ও মুসক থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে হয়েছে, আবার মূল্যস্ফীতির মাত্রা বেড়ে গিয়ে জনগণের জীবনযাত্রা যাতে ব্যহত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার খুব ভালোভাবে এ বিষয়টি সামলেছেন। দ্বিতীয়ত, বিশ্বের অন্যতম খরস্রোতা ও গভীর পদ্মা নদীর জলধারার বিচিত্রগতিকেও বশে আনতে হয়েছে। নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে নির্মাণ কাজ বার বার বাধাগ্রস্ত হয়েছিল এবং প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ প্যানেলগুলিকে পাইলিংয়ের কাজটি সংশোধন করতে হয়েছিল।
অর্থনৈতিক, পারিপার্শ্বিক এবং অবকাঠামোগত সকল বাধা সামলে প্রকল্পটি যখন পুরোদমে এগিয়ে চলেছে, তখন কোভিড-১৯ মহামারী দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয় এর করাল থাবা বিস্তার করে। স্থগিত করা হয় সকল বৃহৎ প্রকল্পের কাজ। কিন্তু থেমে থাকেনি পদ্মা সেতুু প্রকল্প। কার্যত: এটি বাংলাদেশের জন্য একটি সাধারণ প্রকল্পমাত্র ছিল না এটি পরিণত হয়েছিল পুরো জাতির আত্মগৌরব রক্ষার এক অবিরাম সংগ্রামে, যে সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর পর বাংলার জনগণের একমাত্র ভরসার আশ্রয়স্থল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর অকুতোভয় দৃঢ়তা, অনমনীয় আত্মবিশ্বাস এবং দেশের জনগণের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা দেদীপ্যমান প্রদীপের মতো পথ দেখিয়েছে বলেই সকল অনিশ্চয়তা, ষড়যন্ত্র, প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা, মারী-অভিশাপ অতিক্রম করে পদ্মা বহুমুখি সেতুু আজ সগৌরবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। দুই পাড়ের মানুষদেরকে যুক্ত করেছে দ্রুত যোগাযোগের সরণিতে, আর সারা বাংলাদেশের নিরবচ্ছিন্ন সড়ক ও রেল যোগাযোগকে করেছে সম্পূর্ণ।

এ এক অনির্বচনীয় অনুভূতি, এক বিজয় বাংলার জনগণের, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর।

জয়তু শেখ হাসিনা।

জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু!

লেখক: কলামিস্ট, গবেষক, ফোকলোরিস্ট, বুদ্ধিজীবী, অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ ও সাবেক উপ-উপাচার্য, ইসলামীবিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

Related posts

Leave a Comment