ধর্ষণের অভিযোগে ‘সাধুর’ পুরুষাঙ্গ কর্তন

মুক্তবার্তা ডেস্ক:ভারতের কেরালা রাজ্যের এক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে কথিত ধর্মগুরুর পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছেন। এই ঘটনায় খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও মেয়েটিকে বাহবা দিয়েছেন। কেরালার এই ঘটনা ভারতের পাশাপাশি তোলপাড় ফেলেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও।

৫৪ বছর বয়সী কেরালার তিরুঅনন্তপুরমের পেট্টা এলাকার গঙ্গেশানন্দ তিথাপাদম হরি স্বামী নিজেকে ‘সাধু’ বলে দাবি করতেন। মেয়েটির অভিযোগ, গত সাত বছর ধরে নিয়মিত তাকে ধর্ষণ করে আসছিল কথিত এই ধর্মগুরু।

জানা যায়, গত শুক্রবার রাতের এই ঘটনার পর হাসপাতালে রয়েছেন ‘সাধু’ গঙ্গেশানন্দ। প্লাস্টিক সার্জারি করে তার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পুরুষাঙ্গ জোড়া দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

এদিকে ২৩ বছর বয়সী আইন বিষয়ে পড়ুয়া মেয়েটি নির্ভয়ে পুলিশকে জানিয়েছেন, ‘সাত বছর ধরে আমাকে ধর্ষণ করছে ওই সাধু। এত দিন ভয় পেতাম। শুক্রবার সহ্য করতে না পেরে ওর পুরুষাঙ্গটাই কেটে দিয়েছি।’

হাসপাতালে শুয়ে অবশ্য ‘সাধুর’ দাবি, নিজেই নিজের পুরুষাঙ্গ কেটেছেন। কারণ তার নাকি সেটির আর প্রয়োজন ছিল না।

ওই তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, গঙ্গেশানন্দ নামে ওই সাধুকে প্রথমবার বাড়িতে এনেছিলেন তার মা। বাবা পক্ষাঘাতে শয্যাশায়ী। তাকে সারিয়ে তুলতে পূজাআর্চা করার জন্যই আনা হয় গঙ্গেশানন্দকে।

তরুণী জানান, সেই থেকেই শুরু হয় তাদের বাড়িতে ওই সাধুর নিয়মিত যাতায়াত। আর মেয়েটির বয়স যখন ১৬ তখন থেকেই কখনও পূজার নামে, কখনও অন্য ছুতোয় তাকে ধর্ষণ শুরু করে।

শুক্রবার রাতেও ওই তরুণীর উপরে চড়াও হয়েছিল গঙ্গেশানন্দ। সেই সময়ে তরুণী বালিশের নিচে লুকিয়ে রাখা ছুরি চালিয়ে দেন ‘সাধুর’ নিম্নাঙ্গে। চিৎকারে ছুটে এসে বাড়ির অন্য সদস্যরা রক্তাক্ত, আশঙ্কাজনক অবস্থায় গঙ্গেশানন্দকে নিয়ে যান হাসপাতালে। অস্ত্রোপচারের পরে এখন তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

পুলিশ জানিয়েছে, নিজেকে কোল্লমের চাত্তাম্বি স্বামী আশ্রমের আবাসিক বলে দাবি করেছে অভিযুক্ত।

যদিও ওই আশ্রম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ১৫ বছর আগে সেখানে ব্রহ্মচারী ছিল গঙ্গেশানন্দ। এখন আশ্রমের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই।

তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে হরির বিরুদ্ধে শিশু-যৌন নিগ্রহ প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। রেহাই পাচ্ছেন না তরুণীর মা।

পুলিশ মনে করছে, মেয়ের উপরে লাগাতার এমন নির্যাতন দেখেও মুখ খোলেননি তিনি। কাজেই মামলা হয়েছে মায়ের বিরুদ্ধেও। তবে আইন মোতাবেক ওই তরুণীর ক্ষেত্রেও আত্মরক্ষায় পাল্টা আক্রমণ সংক্রান্ত ধারা প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, নিঃসন্দেহে মেয়েটি বীরের মতো কাজ করেছে। আর ওই লোকটার জন্য এর চেয়ে বড় শাস্তি কী হতে পারে।

তরুণীর সাহসের প্রশংসা করেছেন কেরালার মহিলা কমিশনের সদস্য প্রমীলা দেবী। তিনি বলেন, ধর্মের নামে এসব ভণ্ডামি বরদাস্ত করা হবে না।

Related posts

Leave a Comment