দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীর হাতে খুন হন নায়িকা শিমু

মুক্তবার্তা ডেস্কঃ পারিবারিক বিষয় ও দাম্পত্য কলহের কারণে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করেছে তার স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল। আর লাশ গুমে সহায়তা করেছে তার (নোবেল) বন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদ।

মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার।

মরদেহ উদ্ধারের পরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিত্রনায়িকা শিমুর স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে রাতেই কেরানীগঞ্জ মডেল থানা হেফাজতে নেয়। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর শিমুর স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদের হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।

গ্রেপ্তার দুজন পুলিশকে জানায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী নোবেলের সঙ্গে শিমুর দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এর জেরে গত ১৬ জানুয়ারি সকাল সাতটা থেকে ৮টার মধ্যে যেকোনো সময় শিমুকে খুন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এসপি মারুফ হোসেন আরও বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই যে গাড়ি ব্যবহার করে লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়েছে সেই গাড়িটি জব্দ করে থানায় নিয়েছি। এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছি। মডেল শিমুর স্বামী নোবেল এবং তার বাল্যবন্ধু ফরহাদ বর্তমানে থানা হেফাজতে আছে। হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে সোমবার দুপুরে কেরানীগঞ্জের হযরতপুর সেতুর পাশে দুটি বস্তায় শিমুর দেহের দুটি অংশ পাওয়া যায়। তখন পরিচয় শনাক্ত না হলেও রাতে স্বজনরা মরদেহটি শিমুর বলে শনাক্ত করে। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়।

রাজধানীর গ্রিনরোডের নিজ বাসা থেকে রবিবার সকাল ১০টায় বের হয়েছিলেন শিমু। সন্ধ্যা ৭টায় শিমুর এক বন্ধু শিমুকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান। রাত ১১টায় কলাবাগান থানায় জিডি করা হয়। জিডিতে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।

শিমু চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্য ছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে ১৮৪ জনের সঙ্গে তার সদস্য পদ স্থগিত করা হয়। এ নিয়ে স্থগিত হওয়া অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে আন্দোলনে সরব ছিলেন।

১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৫টি সিনেমায় অভিনয় করেন শিমু। তিনি কাজী হায়াতের ‘বর্তমান’ সিনেমায় প্রথম অভিনয় করেন। পরে দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, চাষি নজরুল ইসলাম, শরিফ উদ্দিন খান দিপুসহ আরও বেশ কিছু পরিচালকের সিনেমায় কাজ করেন।

কয়েক বছর ধরে একটি বেসরকারি টিভির মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন শিমু। টুকটাক নাটকে কাজ করতেন। পাশাপাশি তার নিজের নাটক নির্মাণের প্রোডাকশন হাউজ ছিল বলে জানা যায়।

Related posts

Leave a Comment