তোফায়েলের ভোলাকে নিয়ে দুটি স্বপ্ন,নদীভাঙন ও ভোলা-বরিশাল ব্রিজ নির্মাণ

মুক্তবার্তা ডেস্ক:বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ নিজ জেলা ভোলাকে নিয়ে তাঁর দুটি স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন। দ্বীপজেলা ভোলার মানুষের প্রিয় এই নেতা বলেন,  ‘আমার ভোলাকে নিয়ে দুটি স্বপ্ন। একটি ভোলাকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা। আরেকটি হলো ভোলা-বরিশাল ব্রিজ নির্মাণ করা। এই দুটি স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলে ভোলা হবে দেশের সবচেয়ে সুন্দর জেলা।’

শনিবার দুপুরে ভোলা সদর উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল এই স্বপ্নের কথা জানান।

দেশের প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদের জন্ম ২২ অক্টোবর, ১৯৪৩। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জুন তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি ছয় দফা জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্য এবং সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী।

স্বাধীনতার পর প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব লাভ করেন উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক তোফায়েল আহমদ। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা থেকে জয়লাভ করেন।

জঙ্গিবাদের উত্থান সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছেন। যারা স্বাধীনতাবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা আমাদের মা-বোনদের হত্যা করেছে, বাপকে পিতৃহারা করেছে, মাকে ছেলেহারা করেছে তাদেরকে রাজনীতির সুযোগ দিয়েছেন জিয়া। সুতরাং এই দেশে জঙ্গি তৎপরতার জন্য দায়ী জিয়াউর রহমান।’

বিএনপিকে জঙ্গি দল আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ওরাতো জঙ্গি, না হলে হাওয়া ভবন থেকে নির্দেশ দিয়ে কিভাবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালানো হলো? আবার তার পরের বছর (২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট) ৬২ জেলায় বোমা মেরেছে। যখন শায়খ রহমান ও বাংলা ভাই গাছের সাথে মানুষকে টানিয়ে হত্যা করে তখন খালেদা জিয়া বলেছেন এটা মিডিয়ার তৈরি, বাস্তবে না।’

বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের উন্নয়ন সম্পর্কে বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের রেটিংয়ে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশ করেছি। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন আমাদের রপ্তানি ছিল ১০ বিলিয়ন ডলার আর আমরা ৩৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছি। রিজার্ভ ছিল চার বিলিয়ন ডলার আমার এখন ৩২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছি। রেমিটেন্স ছিল ৩/৪ বিলিয়ন ডলার আমরা প্রায় ১৫ ব্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছি। সব ক্ষেত্রে আমার দেশের উন্নতি করেছি, যেটা বিএনপি পারেনি।’

পরে মন্ত্রী সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটি ও সব নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

Related posts

Leave a Comment