ছয় বছর পর ‘মুক্ত’ গাদ্দাফিপুত্র

মুক্তবার্তা ডেস্ক:অর্ধযুগের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন লিবিয়ার সাবেক স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় ছেলে সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফি। গত ছয় বছর ধরে তাকে দেশটির জিনতান প্রদেশে একটি বন্দী করে রেখেছিল একটি মিলিশিয়া গ্রুপ।

লিবিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টা হিসেবে তাকে সাধারণ ক্ষমা করা হয়েছে-এমন কথা বলা হচ্ছে। এই উপদলটির নাম আবু বক্কর আল সিদ্দিক ব্যাটালিয়ান। তারা জানিয়েছে, গাদ্দাফিপুত্রকে শুক্রবার ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে তিনি এখনও প্রকাশ্যে আসেননি।

স্থানীয় রিপোর্ট অনুযায়ী গাদ্দাফিপুত্র বর্তমানে দেশটির বায়তা প্রদেশে তার স্বজনদের সঙ্গে রয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তাকে বন্দী করা মিলিশিয়া গ্রুপ। আর দেশটির উত্তরাংশ নিয়ন্ত্রণ করা সরকার বলছে, তারা সাইফ আল ইসলামকে ক্ষমা করে দিয়েছে।

গাদ্দাফি পুত্রকে তার অনুপস্থিতিতে রাজধানী ত্রিপলীর একটি আদালত মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে। ত্রিপলী দেশটির পশ্চিম অংশে অবস্থিত। এই এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করছে গাদ্দাফিবিরোধী বিদ্রোহীরা। তারা জাতিসংঘের সমর্থনে সেখানে সরকার পরিচালনা করছে।

তবে এর আগেও গাদ্দাফিপুত্রকে মুক্তি দেয়ার খবর এসেছিল। তবে সেগুলো মিথ্যা প্রমাণ হয়েছিল।

লিবিয়ায় গাদ্দাফির পতনের পর ২০১১ সালের নভেম্বরে নাইজারে পালানোর চেষ্টার সময় আটক হন স্বৈরশাসক পুত্র সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফি।

গাদ্দাফির শাসনামলে সাইফকে তার উত্তরসূরী হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। পিতার মত তিনিও নানা নৃশংসতায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

৪৪ বছর বয়সী সাইফ ২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে অর্থশাস্ত্রে পিএইচডি অর্জন করেন। ২০০০ সালের পর পশ্চিমা দুনিয়ার সঙ্গে আফ্রিকার এই দেশটির সম্পর্ক স্থাপনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছিলেন।

তবে ২০১১ সালে গাদ্দাফিবিরোধী বিদ্রোহ শুরু করে বিদ্রোহীদেরকে হত্যা, নির্যাতনের নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ উঠে সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফির বিরুদ্ধে।

Related posts

Leave a Comment