চার বছর আজ,রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির

মুক্তবার্তা ডেস্ক:ভয়াবহ রানা প্লাজা দুর্ঘটনার চার বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের আশুলিয়ায় ৯ তলা রানা প্লাজা ধসে ১১শ এর বেশি শ্রমিক নিহত হন। আহত হন আরও প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক।

সাভার বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ঘেঁষে ছিল রানা প্লাজার অবস্থান। নয়তলা ভবনটির তৃতীয় থেকে অষ্টম তলা পর্যন্ত ছিল পোশাক কারখানা। নবম তলা ছিল নির্মাণাধীন। নিচের দুটি তলায় ছিল মার্কেট, ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়।

ঘটনার আগের দিনই ভবনে ফাটল দেখা যায়। এ কারণে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়। পরদিন শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে চাননি। প্রবেশ করতে চায়নি মরণফাঁদের ভবনে।

ভবনের কিছু হয়নি বলে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করেন মালিকেরা। সাতসকালে কাজও শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রায় আধা ঘণ্টা পর পুরো ভবন ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন হাজারো শ্রমিক। ঘটে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিল্প-বিপর্যয়।

বিশ্বের শিল্প ইতিহাসে ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনা কাঁপিয়ে দেয় বিশ্ব বিবেক। ওই দুর্ঘটনার পর নানামুখী চাপে শিল্প শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের একটি নীতিমালা করার প্রতিশ্রুতি দেয় সরকার। কিন্তু এখনও আলোর মুখ দেখেনি ওই নীতিমালা।

ভবন ধসের চার বছর পার হলেও এখনও অনেক নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিকরা পায়নি প্রয়োজনী সহায়তা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ। যার ফলে অনেক আহত শ্রমিক অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিয়ে আজও ফিরতে পারেনি স্বাভাবিক জীবনে।

ভবনধসের পর স্থানীয় লোকজন প্রথম উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। পরে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। একপর্যায়ে উদ্ধারকাজে যুক্ত হয় সেনাবাহিনী। র‍্যাব, বিজিবি, রেড ক্রিসেন্টসহ অন্যান্য সংস্থাও উদ্ধারকাজ করে। উদ্ধার তৎপরতায় সাধারণ মানুষ তাদের জীবন বাজি রাখে। ১৪ মে রানা প্লাজার উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

Related posts

Leave a Comment