ইউএনও হয়রানির শেষ দেখব: এলজিআরডি মন্ত্রী

মুক্তবার্তা ডেস্ক: বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিক সালমনের বিরুদ্ধে মামলার পর বাদী আওয়ামী লীগ নেতাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে নোটিশও যাচ্ছে তার কাছে। তবে এটাই শেষ নয়, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আমরা এর শেষ দেখবো। এর পেছনে অন্য কোনো মদদ আছে কি না, সেটাও আমরা খতিয়ে দেখব।

রবিবার দুপুরে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় নব-নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ইউএনও হয়রানিটা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য বিষয় নয়। আমরা এর শেষ দেখে নেব। কারণ, আমার মনে হচ্ছে এটা সুপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। এর বিচার অবশ্যই হবে। এই মুহূর্তে দল-মত বলে কিছু নেই।’

বরগুনার ইউএনও তারিক সালমনের আগের কর্মস্থল ছিল বরিশালের আগৈরঝাড়ায়। সেখানে গত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে এক শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার নিয়ে হুলস্থুল কাণ্ড হয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল ছবিটি। স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোর্তজা খান এজন্য এর আঁকিয়ে অদ্রিজা করকে পুরস্কারও দিয়েছিলেন।

কিন্তু বরিশাল আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজু ইউএনওর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অভিযোগে মামলা করেন। গত বুধবার এই মামলায় ইউএনওকে প্রথমে কারাগারে পাঠালেও পরে জামিন দেন বরিশালের মুখ্য বিচারিক হাকিম আলী হোসাইন।

এই মামলা করায় অসন্তোষ জানিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর মামলার বাদী সাজুকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে আওয়ামী লীগ। আর দলের এই অবস্থানের পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবারেই মামলা তুলে নিয়েছেন বাদী সাজু।

ইউএনও তারিক সালমন জানিয়েছেন, আগৈরঝাড়ায় দায়িত্ব পালনের সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার বিরোধ হয়েছিল। তিনি কারও অন্যায় আবদান মানতে রাজি হননি বলে তাকে হয়রানি করতে এই মামলা করা হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment